অর্ধশত বছর পূর্ণ করলো স্বাধীন  বাংলাদেশ!

অর্ধশত বছর পূর্ণ করলো স্বাধীন  বাংলাদেশ!
অর্ধশত বছর পূর্ণ করলো স্বাধীন  বাংলাদেশ!
চূড়ান্ত বিজয় ১৬ ডিসেম্বর আসলেও, স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষনা হয়েছিল ২৬ শে মার্চ।  আর সেই হিসেবে আজকের দিনেই জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশের।  তাই আজ বাংলাদেশের জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী।

আজ ২৬ শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস।  ১৯৭১ সালের এই দিনেই বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন  রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নিয়েছিলো 'বাংলাদেশ ' নামের ছোট্ট এই ভূখন্ডটি। আজকের দিনেই এসেছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা।  দেখতে দেখতে পার হয়ে গেলো ৫০ টি বছর।  বাংলাদেশ আজ পালন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। 

 

 

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।  এরপরই তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তার বার্তা বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় পুরো দেশে। বাঙালীর মধ্যে  সুপ্ত থাকা স্বাধীনতার চেতনা জেগে ওঠে মুহুর্তেই৷

 

 

সেই রাতেই শুরু হয় পাকবাহীনির নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সে রাতে রাজারবাগ, পিলখানায় থাকা বাঙালি বীর যোদ্ধারা বুকের রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অস্ত্র তুলে নেন বিভিন্ন সেনানিবাসে থাকা সৈনিকরাও। এরপর দীর্ঘ নয় মাস চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।  এরপর বাঙালি ছিনিয়ে আনে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

 

 

 

চূড়ান্ত বিজয় ১৬ ডিসেম্বর আসলেও, স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষনা হয়েছিল ২৬ শে মার্চ।  আর সেই হিসেবে আজকের দিনেই জন্ম স্বাধীন বাংলাদেশের।  তাই আজ বাংলাদেশের জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী।  শুধু তাই নয় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর এ বছর বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরও। তাই এবার উদযাপনেও রয়েছে ভিন্নমাত্রা। 

 

 

তবে বিশেষ এবছর বাঙালি জাতির যতটা উৎসবে মেতে ওঠার কথা ছিলো, এবার থাকছে ন তেমন কোনো উৎসব আয়োজন।  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাতিল হয়েছে অনেক আয়োজন,  অথবা পালিত হচ্ছে স্বল্প পরিসরে।  বিশেষ ভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

 

 

 গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এ অনুষ্ঠান। বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিরা অংশগ্রহণ করেছেন। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্, ১৯ মার্চ অনুষ্ঠানে শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, ২২ মার্চ অনুষ্ঠানে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ২৪ মার্চ অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং উপস্থিত ছিলেন। আজ ২৬ মার্চ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

 

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ এ বছরে বাংলাদেশের ঝুলিতে যোগ হয়েছে নতুন এক রেকর্ড।   আর তা হলো- স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ। সম্প্রতি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এই সুপারিশ করেছে। এ যেনো বাংলাদেশের ৫০ তম জন্মদিনের বিশেষ এক উপহার।

 

 

কিন্তু এতোসব কিছুর মধ্যেও কৃতজ্ঞ বাঙালি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেই বীরদের যারা নিজেদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের  উপহার দিয়ে গেছে একটি স্বাধীন ভূখন্ড।