হাফ ভাড়া ও ছাত্রী নিপীড়ন

হাফ ভাড়া ও ছাত্রী নিপীড়ন
ছবিঃ সংগৃহীত
কেবল অর্ধেক ভাড়া নিতেই অস্বীকৃতি নয়, গাড়ির হেলপার, ড্রাইভাররা শিক্ষার্থীদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলছে। বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। আর নারী শিক্ষার্থীরাই এর বেশি শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় নারী শিক্ষার্থীর সাথে একাধিক বাসকর্মীর অশালীন আচরণের একাধিক অভিযোগ এসেছে।

দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রচলিত ভাড়ার অর্ধেক ভাড়া বরাদ্দ থাকে যানবাহনগুলোয়। দীর্ঘদিন যাবৎ এই অর্ধেক ভাড়া দিয়েই শিক্ষার্থীরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্তঃশহরে যাতায়াত করতো। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকার বাসগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অর্ধেকের বদলে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও পুরো ভাড়া নিচ্ছে। 


কেবল অর্ধেক ভাড়া নিতেই অস্বীকৃতি নয়, গাড়ির হেলপার, ড্রাইভাররা শিক্ষার্থীদের সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলছে। বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। আর নারী শিক্ষার্থীরাই এর বেশি শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় নারী শিক্ষার্থীর সাথে একাধিক বাসকর্মীর অশালীন আচরণের একাধিক অভিযোগ এসেছে।


গত ২০ নভেম্বর ঠিকানা পরিবহনের বাসে হাফ পাস ভাড়া দিতে চাইলে বদরুন্নেসা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেন চালকের সহকারী। এই শিক্ষার্থী জানান, “আমার বাসা শনির আখড়া। এখান থেকে কলেজের (বকশী বাজার এলাকা) ভাড়া ১০ টাকা, প্রতিদিন ১০ টাকা দিয়েই যাচ্ছি। আজ কলেজে যাওয়ার সময় ঠিকানা বাসে করে গিয়েছিলাম। হেলপারকে ২০ টাকার নোট দিলে সে ভাড়া রাখে ১৫ টাকা। আমি তাকে ভালো করেই বলছিলাম আমার ১০ টাকা ফেরত দিতে, বাট সে দেয় তো নাই উল্টো বলে ‘দিমু না কী করবি কর’। এরপর চিল্লানোর পর সে বলে ‘গলা বড় করবি না, পাঁচ টাকা নে, না হয় নাইমা যা।’’


তিনি আরো জানান, ‘‘বাসের একটা মানুষও তাকে একটা কথা বলে নাই। কেউ কিচ্ছু বলে নাই। ইভেন একটা পুলিশও ছিল, সেও কিছু বলে নাই। এরপর নামার সময় পাঁচ টাকা হাতে ধরায় দিয়ে বলে, ‘নে তোর টাকা, প্রতিদিনই তো আসবি, একদিন ধইরা...কোথাকার’। এই কথা যখন বলছে, তখন বাস অলরেডি রানিংয়ে, আমি তাকে কিছু বলার সুযোগও পাইনি আর বাসের নম্বর নোট করারও সুযোগ পাইনি। জোরে বাস টেনে চলে গেছে।’’


রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বকশীবাজার মোড়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন। পরে  হাফ ভাড়া কার্যকর ও ধর্ষণের হুমকিদাতাকে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার দেন বিক্ষোভকারীরা।


আবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিরপুরগামী ইতিহাস বাসে উঠে হাফ ভাড়া দিতে চেয়ে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বাসের সকল যাত্রী বের হয়ে গেলে তাকে জোড় করে বাসের ভিতরে রেখে বাসের দরজা আটকে দিতে চায় বাসের কর্মচারী। কিন্তু পরবর্তীতে সে চিৎকার করলে  এবং তার ভাই এখানকার পুলিশ ইনস্পেক্টর বলায় তাকে বাস থেকে দ্রুত নামিয়ে দিয়ে দ্রুত চলে যায় বাসটি।


কিন্তু এর দায় কেবল আন্দোলন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাপার এখন কেবল বাসের অর্ধেক ভাড়া নয়, এখন প্রশ্ন আসছে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও। বাসা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দূরে হওয়ায় প্রতিদিনই অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাসে করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হয়। কিন্তু এই বাসেই যদি তারা নিরাপদ না থাকে তাহলে এর দায় কে নিবে? রাজধানীর এসকল ঘটনা দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে যাতায়াত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। এমতাবস্থায় কেবল অর্ধেক ভাড়া নিশ্চিতই নয়, বাস সহ বিভিন্ন গণ পরিবহনে নারী নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। এর জন্য সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।