সন্তানকে সম্মান করা কি জরুরি?

সন্তানকে সম্মান করা কি জরুরি?
সন্তানকে সম্মান করা কি জরুরি?
সন্তানকে কখনোই 'বোকা', 'গাধা 'ইত্যাদি বলে অসম্মান করবেন না বা ট্যাগ করবেন না। আমরা নিজেও সকল বিষয়ে পারদর্শী নই, একটি শিশুও সকল বিষয়ে পারদর্শী হবে না। বরং তাকে উৎসাহিত করলে সে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে। সন্তানের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে, আপনি নিজে কোন ভুল করলে অবশ্যই ক্ষমা চান। কিছু ব্যাপারে অবশ্যই সন্তানের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শিখুন।

'মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত' বহুল প্রচলিত এই বাক্যটি আমরা সকলেই বলে থাকে। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ পিতা মাতা। পিতা মাতার মূল্য কিংবা ঋণ কখনো শোধ করার মত নয়। তবে অভিভাবকদেরও লক্ষ্য রাখার বিশেষ দরকার রয়েছে কেমন যাচ্ছে তার সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য? সে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত কিনা কিংবা সে কি পিতা মাতার কোন বিষয় কেন্দ্র করে চাপ অনুভব করছে কিনা!

 

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি বাহ্যিক ভাবে দেখা নাহ গেলেও। মানসিক স্বাস্থ্যর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।


মা বাবার সাথে মতের বেমিল হয়ে অনেক শিশু মেন্টাল সিন্ড্রোমে ভুগছে। পশ্চিমা বিশ্বে সুইসাইড প্রবণতা বৃদ্ধি হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক ভাবে আন্সটেবেল হওয়া। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ডঃ সায়দুল আশরাফ(সাইক্রাটিস্ট,লাইফ স্প্রিং) এর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বিশেষ কিছু ব্যাপারে ইংগিত করেন, যেখানে নজর রাখা গেলে এমন সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তার প্রতিবেদনটিকে সামগ্রিক বিশ্লেষণ করে আপনাদের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস।

 

সন্তানের সাথে  কথা বলার সময় ভাষার ব্যাপারে সচেতন হন,তা সে যত ছোট শিশুই হোক না কেন! কখনোই বাচ্চার সামনে তাকে গালাগালি করা ঠিক নয়। সন্তানকে কখনোই 'বোকা', 'গাধা 'ইত্যাদি বলে অসম্মান করবেন না বা ট্যাগ করবেন না। আমরা নিজেও সকল বিষয়ে পারদর্শী নই, একটি শিশুও সকল বিষয়ে পারদর্শী হবে না। বরং তাকে উৎসাহিত করলে সে তার যোগ্যতার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে। সন্তানের সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে, আপনি নিজে কোন ভুল করলে অবশ্যই ক্ষমা চান। কিছু ব্যাপারে অবশ্যই সন্তানের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে শিখুন। যেমন, সে কাউকে নিজেকে ধরতে দিবে কিনা, সে নিজে কাউকে ধরবে কিনা, সে আদৌ বাইরে যেতে চায় কিনা ইত্যাদি।

 

আমাদের যেমন ব্যক্তিগত সময় প্রয়োজন, তেমনি শিশুদেরও প্রয়োজন। সন্তানের প্রাইভেসিকে সম্মান করুন। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরে, সন্তানের সবকিছু তাকে জিজ্ঞেস না করে ধরার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। সন্তানের সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনুন, এরপর নিজের মতামত দিন।সন্তানকে বুঝান, আপনি তাকে নিঃশর্ত ভাবে ভালবাসেন। সন্তানের সামনে বাকিদের সম্মান করে কথা বলুন। সন্তানকে সবাইকে সম্মান করতে উৎসাহিত করুন।

 

সময়ের সাথে আমরা অনেক কিছু জানছি, শিখছি এবং অপরকে জানাচ্ছি। আমরা নিজ অবস্থানে সকলেই অনড়। নিজের পরিশ্রম কিংবা কাজকে তুলনামূলক বড় দেখি। তবে সম্মানবোধ বিষয়টি পুরো দস্তুর ভিন্ন বিষয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়াই কেবল সম্মানবোধের জন্ম দেয় নাহ।


সম্মান একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, আপনি কাওকে না দিলে, তার থেকে আশা করাটাও অনুচিত!