করোনায় আশংকাজনক হারে কাজ হারিয়েছেন তরুণীরা 

করোনায় আশংকাজনক হারে কাজ হারিয়েছেন তরুণীরা 
করোনায় আশংকাজনক হারে কাজ হারিয়েছেন তরুণীরা 
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের যে অগ্রগতি হয়েছে তা একদিনের চেষ্টায় হয়নি। গুটি গুটি পায়ে বছরের পর বছর ধরে অনবদ্য চেষ্টায় এগিয়েছেন নারীরা।  করোনার আঘাতে যদি আবারও ফিরে যেতে হয় সেই অমসৃণ পথে তবে তা হবে নারীর অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায়।

শুধু শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবেই নয়  অর্থনৈতিক দিক থেকেও করোনা মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করেছে। মহামারির এই সময়টাতে কাজ হারিয়ে অসহায় হয়ে ঘুরছেন বহু মানুষ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠনের করা জরিপে দেখা যায় এর ভয়াবহতা।  সম্প্রতি করা এমনি এক জরিপে দেখা যায়, করোনাকালীন সময়ে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৯ শতাংশ তরুণী। 


গতকাল ১১ জুলাই এক ওয়েবিনারে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এসব বিভিন্ন তথ্য ওঠে আসে।  যেখানে বলা হয়,  বাংলাদেশে করোনা মহামারির আগে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত থাকা তরুণীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (২৯%) চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন। আর তরুণীদের কাজ হারানোর এ হার তরুণদের তুলনায় তিনগুন বেশি। 


অন্যদিকে কাজ হারানোর পর তরুণরা পুনরায় নতুন কাজে যুক্ত হতে পারলেও এক্ষেত্রেও তরুণীদের হার খুবই কম।  সকল বাঁধা পেরিয়ে যারা নতুন করে কাজে যুক্ত হয়েছেন তাদের আয় কমেছে পূর্বের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ।  এর কারণ হিসেবে উক্ত সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনার আগে সাধারণত তরুণীদের কর্মস্থান ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো, হস্তশিল্প, কারখানার চাকরি, দর্জির কাজ ইত্যাদি। করোনায় এই খাতগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর তা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। 


বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন সমীক্ষার এসব ফলাফল উপস্থাপন করে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বেতনহীন থেকে অনেক শ্রমজীবী নারী স্থায়ীভাবে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন, যা শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের স্বল্প হারকে আরও কমাতে পারে।' এছাড়াও এ সমস্যার সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে  নারীর ক্ষমতায়নের যে অগ্রগতি হয়েছিল তা এই করোনার আঘাতে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারে বলেও তিনি আশংকা প্রকাশ করেন।  


বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের যে অগ্রগতি হয়েছে তা একদিনের চেষ্টায় হয়নি। গুটি গুটি পায়ে বছরের পর বছর ধরে অনবদ্য চেষ্টায় এগিয়েছেন নারীরা।  করোনার আঘাতে যদি আবারও ফিরে যেতে হয় সেই অমসৃণ পথে তবে তা হবে নারীর অগ্রগতির পথে বড় অন্তরায়। তাই এই সমস্যার সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।