মরণের বন্ধু নিকোটিনকে চেনেন?

মরণের বন্ধু নিকোটিনকে চেনেন?
মরণের বন্ধু নিকোটিনকে চেনেন?
নিকোটিনের প্রভাবে যেমন হচ্ছে মৃত্যু তেমন মেধাশুন্য হচ্ছে জাতি। কেননা অতিরিক্ত তামাক সেবনের মাধ্যমে মানুষের বিচার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে ফলে তাকে দিয়ে যেকোন কাজ সংগঠিত করা যাচ্ছে। বলা যায় এক সুন্দর দুনিয়া গঠনের জন্য নিকোটিন জাতীয় উপাদান যেসকল তামাকে কিংবা সকল প্রকার তামাক বর্জন এই শ্রেয়।

পেপারে বা বিভিন্ন সংবাদে মাঝে মাঝেই তামাকের ভয়ানক প্রভাবে মৃত্যুর ঘটনা আমরা দেখে থাকি। আমাদের আশে পাশেই বিভিন্ন সময়ে আমরা আমাদের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুদের মাঝে এই  তামাক সেবন করতে দেখি। সামগ্রিক ভাবে বিষয়টি স্বাভাবিক দেখালে একটি উপাদান তাদেরকে শেষ করে দিচ্ছে। তেমনেই একটি উপাদান হচ্ছে নিকোটিন। আসুন জানার চেষ্টা করি।

 

নিকোটিন এক প্রকারের স্নায়ুবিষ (নিউরোটক্সিন), যা একধরণের অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টরের  উপর কাজ করে। এটি মূলত গোত্রের উদ্ভিদে পাওয়া যায়। উদ্ভিদের পাতা এবং মূল নিকোটিনের উৎস। নিকোটিন মূলত তামাক এবং তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্য যেমন সিগারেট বা জর্দা এ পাওয়া যায়।


গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিবছর বিশ্বে ৪ মিলিয়ন লোক মৃত্যুবরণ করছে এই তামাক সেবনের ফলে।   পরোক্ষ ধূমপানে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শিশুরা এমনিতে দ্রুত শ্বাস নেয়, তা ছাড়া তাদের শ্বাসতন্ত্রও অপরিণত, তাই সিগারেটের ধোঁয়া সহজেই শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে সমূহ ক্ষতিসাধন করে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুর নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস, ব্রংকাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি রোগ হয়। 


সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে,শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিবছর তিন লাখ শিশু চারপাশের ধূমপানের কারণে নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে ভোগে। পরোক্ষ ধূমপানে শ্বেত রক্তকণিকা ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে শিশু অল্পতেই অসুখে ভোগে। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৭ হাজার শিশু বিভিন্ন রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পারিপার্শ্বিক ধূমপানের কারণে শিশুরও হৃদরোগ হতে পারে। এ ছাড়া মধ্যকর্ণের প্রদাহ, বধিরতা, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ঝিমুনি, অস্থিরতাও হতে পারে।

 

তরল অবস্থায় যদি শরীরে স্বল্প মাত্রায় নিকোটিন প্রবেশ করানো হয় তবে মানুষের মৃত্যু হবে।সেই নিকোটিন এই সিগারেটে খুব কম পরিমাণে থাকে।  একটি গবেষণাও এটাও দেখা গেছে যে,৪২০ টি সিগারেট একটি সাকশন চেম্বার দারা শোষণ করা হয় এবং ভিতরে তুলা গুলোর মধ্যে কালো জেলির ন্যায় টক্সিক পদার্থ জমা হয়েছে। সেখানে আরো দেখানো হয়েছে একজন সুস্থ ব্যক্তির ফুসফুস তুলনামূলক বেশি লাল, সতেজ এবং বড়।

 

 শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ধূমপানের ধোঁয়ায়। যুক্তরাষ্ট্রে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু গণিত ও যুক্তিবিদ্যায় কম পারদর্শী তাদের বেশির ভাগেরই মা-বাবা ধূমপায়ী। এরা শিক্ষক ও সহপাঠীর সঙ্গে সঠিক আচরণ করতেও শেখে না। গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে সন্তানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। কারণ গর্ভস্থ সন্তানের শরীরে যে রক্ত বাহিত হয় এর অক্সিজেন ধারণক্ষমতা কমিয়ে দেয় তামাকের কার্বন মনোক্সাইড। নিকোটিন গর্ভফুলের রক্ত-সরবরাহ হ্রাস করে। ফলে মায়ের শরীর থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি গর্ভস্থ সন্তানের শরীরে যেতে পারে না, তাই শিশুর বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়। 


এছাড়া ধূমপানের কারণে গর্ভপাত কিংবা অপরিণত শিশু জন্মাতে পারে। এই অপরিণত শিশুরা আবার সংক্রমণ বা অন্য কোন কারণে মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে থাকে। মায়ের ধূমপানের কারণে অনাগত সন্তানের জন্মগত সমস্যাও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারে বাবা, বড় ভাই বা অন্য কেউ ধূমপান করলে শিশুরা সহজেই আকৃষ্ট হয়।মনে করা হচ্ছে তামাক সেবনের হার এভাবে চলতে থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে মৃত্যু এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতার প্রধান কারণ হবে তামাক সেবন।

 

নিকোটিনের প্রভাবে যেমন হচ্ছে মৃত্যু তেমন মেধাশুন্য হচ্ছে জাতি। কেননা অতিরিক্ত তামাক সেবনের মাধ্যমে মানুষের বিচার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে ফলে তাকে দিয়ে যেকোন কাজ সংগঠিত করা যাচ্ছে।বলা যায় এক সুন্দর দুনিয়া গঠনের জন্য নিকোটিন জাতীয় উপাদান যেসকল তামাকে কিংবা সকল প্রকার তামাক বর্জন এই শ্রেয়।