মা হওয়ার সিদ্ধান্ত কার? 

মা হওয়ার সিদ্ধান্ত কার? 
মা হওয়ার সিদ্ধান্ত কার? 
সন্তান জন্মদান প্রত্যেকটি নারীর জন্যই এক বিশেষ আনন্দের অনুভূতি। তবে সেই আনন্দ ঠিক তখনই উপভোগ্য হয়, যখন সে সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নেয়া হয়। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কিছু নিয়ম-কানুনের যাতাকলে পরে প্রায়শই নারীরা একপ্রকার বাধ্যই হয় 'মা' হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে। ধরে নেয়া হয় বিয়ের পর স্বামী এবং পরিবারের সিদ্ধান্তই তার সিদ্ধান্ত। 

নারী জীবনের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায় তার গর্ভধারণ এবং 'মা' হওয়া । কিছু কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারণ আকস্মিকভাবে হলেও, আজকাল তার পরিমাণটা অনেকটাই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অনেকে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন 'মা' হওয়ার।  কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছ, সেই সিদ্ধান্ত আসলে কে নিচ্ছে?

 

আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই চিত্রটি অনেকটা করুণ। মা হওয়ার সিদ্ধান্তে যে মানুষটির ওপর সবথেকে বেশি শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পরে, দিনশেষে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে মানুষটি সিদ্ধান্ত নিজে থেকে নিতে পারে না। বিয়ের পর থেকেই প্রায় প্রত্যেকটি নারীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন করা হয়, 'কবে মা হচ্ছো?' 

 

সন্তান জন্মদান প্রত্যেকটি নারীর জন্যই এক বিশেষ আনন্দের অনুভূতি। তবে সেই আনন্দ ঠিক তখনই উপভোগ্য হয়, যখন সে সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নেয়া হয়। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কিছু নিয়ম-কানুনের যাতাকলে পরে প্রায়শই নারীরা একপ্রকার বাধ্যই হয় 'মা' হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে। ধরে নেয়া হয় বিয়ের পর স্বামী এবং পরিবারের সিদ্ধান্তই তার সিদ্ধান্ত। 

 

নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক নারীই তার পরিবার, সঙ্গী কিংবা সমাজকে খুশি করতে সিদ্ধান্ত নেন 'মা' হওয়ার।  কিন্তু সিদ্ধান্তটুকুই তো শুধু বাকিরা নিচ্ছে। এরপরের দায়িত্ব পুরোটাই এসে পরে একজন মায়ের কাঁধেই। পান থেকে চুন খসলেই প্রশ্ন ওঠে সেই মায়ের যোগ্যতা নিয়ে, দায়িত্ববোধ নিয়ে।  

 

আবার আমাদের দেশে বাল্যবিবাহের যে ভয়ংকর রূপ রয়েছে তা কারোই অজানা নয়।  আর বাল্যবিবাহের শিকার নারীদের ক্ষেত্রে তারা বুঝে ওঠার আগেই তাদের চাপিয়ে দেওয়া হয় 'মা' হওয়ার দায়িত্ব।  যে বয়সে স্কুলের খেলার মাঠে দাপিয়ে বেড়ানোর কথা, ঠিক সে বয়সে বাচ্চা কোলে নিয়ে ঘরের এ কোনে বসে 'মা' হওয়ার গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন কেউ কেউ। 

 

শিক্ষিত বা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আবার শ্বশুর বাড়ির পরিবারের মানুষগুলোর থাকে ভিন্ন ধরনের ভয়। কারণ তাদেরকে আর পাঁচজন নারীর মতো যেভাবে খুশি সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।  এক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হিসেবে তারা ভাবেন অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে সেই নারীর উপর মাতৃত্বের ভার চাপিয়ে দেয়া।  

 

যদি কোন সুশিক্ষিত ও দায়িত্ববান পুরুষ 'মা' হওয়ার সিদ্ধান্তে নারীকে অগ্রাধিকার দেয়, তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে তবে সেক্ষেত্রেও বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে সমাজ এবং পরিবার। কারণ তাদের কাছে যে নারী যত দ্রুত মা হতে পারবে সে ঠিক ততোটাই যোগ্য বউ ও যোগ্য মা হতে পারবে৷ 

 

কিন্তু এতোসব যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে গিয়ে নারী হারিয়ে ফেলে নিজেকে,  নিজের সত্তাকে। পৃথিবীতে একমাত্র মা-ই জানেন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করার কষ্ট এবং ধৈর্যের অনুভূতি। শুধু কি তাই, সন্তান জন্মদানের পর থেকে শুরু হয় নারীদের জীবনের নতুন এক লড়াই। যে লড়াই কেবলমাত্র নারীর নিজের। তাই অবশ্যই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত কেবল নারীরই।