অন্য ভাষা কেন শিখবো?

অন্য ভাষা কেন শিখবো?
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ভাষা শিখতে বলা হচ্ছে, তার মানে এই নয় আপনাকে পৃথিবীর সব ভাষাই শিখতে হবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার কদর আপনি দেশেই দেখতে পাবেন। চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাকে দেখতে হতে পারে ইংরেজির দাপট। তখন সেই দাপটের সামনে চুপসে না গিয়ে চোখে চোখ রেখে এগোতে হলে আপনার আয়ত্ত করতেই হবে ইংরেজি ভাষা।

আজকাল মোটামুটি আমাদের সকলেরই বিদ্যার ঝুলিতে সার্টিফিকেট নেহাত কম নেই। কিন্তু শুধু কারি কারি সার্টিফিকেট আর ভালো ফলাফলের গর্ব থাকলে কি চলে? এত সব ভারী ভারী সনদ দিয়ে  ঝুলিটি শুধু ভারীই হয়, আর সেই ভার বয়ে এগোনোর ক্ষমতা আর থাকেনা। নিজেকে এগিয়ে রাখতে আপনার ঝোলায় আরও কিছু থাকা চাই। আর তার মধ্যে একটি হল ভাষাজ্ঞান। নিজের ভাষাটা তো ভালো করে জানতেই হবে। তার সাথে আধুনিক বিশ্বে তাল মেলাতে হলে শিখতে হবে অন্য ভাষাও। 


আমাদের মধ্যে বিদেশী ভাষা শিখতে না চাওয়ার গোঁড়ামিটা রয়েছে প্রকট আকারে । কিন্তু বিশ্ব বাজারে চলতে হলে দরকার বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা।  যে যতো বেশি দক্ষ, তার এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ততোই প্রবল। তাইতো আপনাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জাগাতে ভাষার মাসে আমাদের এই আয়োজন। 


আন্তর্জাতিক ভাষা শিখতে বলা হচ্ছে, তার মানে এই নয় আপনাকে পৃথিবীর সব ভাষাই শিখতে হবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার কদর আপনি দেশেই দেখতে পাবেন। চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাকে দেখতে হতে পারে ইংরেজির দাপট। তখন সেই দাপটের সামনে চুপসে না গিয়ে চোখে চোখ রেখে এগোতে হলে আপনার আয়ত্ত করতেই হবে ইংরেজি ভাষা।


এ তো গেলো ইংরেজির কথা। পাশাপাশি, একটা তৃতীয় ভাষা যদি জানা থাকে, সেটাই হয়ত আপনাকে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে সফলতার পথে । সময় সুযোগ করে জাপানি, ফ্রেঞ্চ, চাইনিজ যেকোনো ভাষাই শিখে রাখতে পারেন। বিভিন্ন ভাষা শেখার মাধ্যমে আপনার  যোগাযোগের দক্ষতা বাড়বে। শুধু যে দেশেই এসব দক্ষতা কাজে আসবে তা কিন্তু নয়।


অনেকেই জীবনের একটা পর্যায় প্রবাস জীবনে পাড়ি জমান।  কেউ পড়াশোনার খাতিরে কেউ আবার কাজের খাতিরে।  তখন যদি আপনার ঝুলিতে থাকে কেবল বাংলা ভাষার জ্ঞান,  নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হবে আপনাকে।  কিন্তু আগে থেকেই যদি আপনার জানা থাকে ইংরেজি ভাষাসহ আরো কয়েকটি ভাষা, তখন আপনাকে আর পায় কে।  সফলতার দিকে আপনি কচ্ছপ নয় ঘোড়ার গতিতে এগোতে পারবেন। 


এছাড়াও, ভাষা শিখার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায়, দূতাবাসে, উন্নয়ন সংস্থায় ও বহুজাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন। শুধু কি তাই, নিজেকে আরো জ্ঞানী করে তুলতে পারবেন এই ভাষা শেখর মাধ্যমে। বিভিন্ন ভাষা জানার মাধ্যমে আপনি ওই ভাষায় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় জানতে পারেন। আপনি নিজের দেশকেও বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে পারেন। 


এখন স্বভাবতই আপনার মনে প্রশ্ন জেগেছে তাহলে আর কোন কোন ভাষা শেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রথমেই বলবো যে ভাষার প্রতি আপনার আগ্রহ বেশি বা যে দেশের প্রতি আপনার আগ্রহ বেশি সে ভাষা শেখা তুলনা মূলক সোজা হবে। তাছাড়া বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে  ভাষা নির্বাচন করা উচিত। ইংরেজির পরে বর্তমান বিশ্বের অর্থনীতিক ও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হল ফরাসী, স্প্যানিশ, জার্মান, আরবি, চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, হিন্দি, পর্তুগিজ, ইতালিয়ান ইত্যাদি। এবার নিজেকে কোন কোন ভাষায় দীক্ষিত করবেন সেটা অবশ্যই আপনার ব্যাপার। তবে অন্য ভাষা শেখার সুফল যে কতটা, তা নিশ্চয়ই বোধগম্য হয়েছে।