মায়ের পরিচয়ে বড় হবে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তান

মায়ের পরিচয়ে বড় হবে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তান
মায়ের পরিচয়ে বড় হবে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তান
খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভধারণের ১০ সপ্তাহের মধ্যে স্বেচ্ছায় ভুক্তভোগী গর্ভপাত করাতে পারবেন।

ধর্ষণ ঘৃণিত অপরাধ হলেও, আমাদের সমাজে মানুষ ধর্ষককে বাদ দিয়ে বরং ধর্ষিতাকে হেয় করে। আর যদি সেই ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্ম নেয়, তবে তো কথাই নেই। মায়ের সাথে সাথে  সন্তানটিও লাঞ্ছনার ভাগিদার হয়ে যায়। তার ভবিষ্যত হয়ে পড়ে অনিশ্চিত।

 

কিন্তু এবার আইন মিলছে সেই অভাগা মা ও সন্তানের পক্ষে। প্রস্তাবিত 'নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২১'- বিধান দিচ্ছে, ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী নারীর সন্তান হলে সেই সন্তানের দায়িত্ব নেবে সরকার। ধর্ষকের সম্পদ থেকে ভরণপোষণের এ টাকা আদায় করা হবে। ভুক্তভোগীকে দেয়া হয়েছে গর্ভপাতের অনুমতিও। আর ধর্ষণের শিকার নারীর সন্তান বেড়ে উঠবে মায়ের পরিচয়ে। এ আইনকে দেশের বিচারবিভাগের জন্য মাইলফলক বলছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

 

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে ধর্ষণের শিকার নারীর সন্তান শুধু তার মায়ের পরিচয়েই পরিচিত হবেন। আর শিশুটির ২১ বছর পর্যন্ত সরকার তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে। যা আদায় করা হবে ধর্ষকের কাছ থেকে।

 

খসড়া আইনটিতে বলা হয়েছে, ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভধারণের ১০ সপ্তাহের মধ্যে স্বেচ্ছায় ভুক্তভোগী গর্ভপাত করাতে পারবেন।

 

দেশের বিচার বিভাগের জন্য এ আইনকে মাইলফলক- বললেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শাসমুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, এই আইনটা আরো আগে করা প্রয়োজন ছিলো। কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃস্বত্বা হয়ে যান তাহলে বাচ্চার দায়িত্বভার বহন তার জন্য বোঝা। আইনটি বাস্তবায়ন হলে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার সন্তানের সুরক্ষা অনেকাংশে নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।