বৈঠকখানায় পরিবার, নারী ও শিশু বিষয়ে সহিংসতা নিয়ে মুখোমুখি রোকসানা সুলতানা

বৈঠকখানায় পরিবার, নারী ও শিশু বিষয়ে সহিংসতা নিয়ে মুখোমুখি রোকসানা সুলতানা
রোকসানা সুলতানা
শিশু নির্যাতনের কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘ বিচার ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেন। এমনকি শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটলে তার প্রতিবাদ না করে সেটিকে ভাইরাল করার চিন্তায় আশেপাশের মানুষ জন ব্যস্ত থাকেন। এই বিষয়ে রোকসানা সুলতানা প্রযুক্তির উন্নয়ন আমাদের মানবিক মূল্যবোধ কেড়ে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। 

"করোনাকাল এবং পারিবারিক নির্যাতন; এর শেষ কোথায়?" এমন শিরোনামে পাক্ষিক অনন্যার 'অনন্যা স্পেশাল - বৈঠকখানা'য় গত মঙ্গলবার অতিথি হিসেবে  উপস্থিত ছিলেন 'ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স' এর নির্বাহী পরিচালক শ্রদ্ধেয় রোকসানা সুলতানা। 

 

'ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স' নামটির মধ্যেই যেন একটা বৈষম্য বিরোধী বার্তা লুকিয়ে আছে। এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে। শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৯৪ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবেই রোকসানা সুলতানা  বৈঠকখানায় পারিবারিক নির্যাতনের নানান দিক নিয়ে আলোচনা করেন। 

 

শিশু নির্যাতনের কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘ বিচার ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেন। এমনকি শিশুর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটলে তার প্রতিবাদ না করে সেটিকে ভাইরাল করার চিন্তায় আশেপাশের মানুষ জন ব্যস্ত থাকেন। এই বিষয়ে রোকসানা সুলতানা প্রযুক্তির উন্নয়ন আমাদের মানবিক মূল্যবোধ কেড়ে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। 


তিনি বলেন, ' মোবাইল কালচার আমাদের মূল্যবোধ অবক্ষয়ের সাথে সাথে  নিষ্ঠুর ও আত্নকেন্দ্রীক করে তুলছে।' 

 

তিনি আরো নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহের মত সমস্যায় ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স কি ধরণের কাজ করেন, কোথায় কোথায় কাজ করেন সে বিষয়েও জানান। তিনি জানান, 'ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স'  শ্রীমঙ্গল,  মিরপুরের বিহারি ক্যাম্প ও সাতক্ষীরায়  ভুক্তভোগী নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন।

 

এছাড়াও রোকসানা সুলতানা কিশোর গ্যাঙ্গের মত অপরাধমূলক কাজ থেকে কিশোর-কিশোরীদের জন্য পারিবারিক পরিমন্ডলের উপর জোর দেন।  পারিবারিক শিক্ষা ও শাসন শিশু কিশোরদের বিপথে যাওয়া রুখতে পারে বলে জানান তিনি। 

 

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি বর্তমান বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে, সন্তান গ্রহণে তরুণ বাবা মায়ের অনিহা, বৃদ্ধ বাবা মা কে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা এসব বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন যে জীবনমুখী বিষয় গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে তার প্রভাবে হয়তো একদিন সমাজের এই দিকগুলো থেকে সমাজ মুক্ত হতে পারবে।