ধর্ষণের প্রতিবাদে ছয় দিন হাঁটলেন দুই তরুণ

প্লেকার্ড হাতে তরুণ
প্লেকার্ড হাতে তরুণ
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দায়ী মনে করেন। সেখানে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোকে একঘরে করা হয়। আবার অনেকে নারীর পোশাককে দায়ী করেন। তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন, ভুক্তভোগীকে নয়, অপরাধীকে একঘরে করা হোক।

দুজন তরূণের হাতে প্ল্যাকার্ড, দুজনের কাঁধেই ঝুলছে বাংলাদেশের পতাকা৷ নেই ভয়, নেই কোনো সংশয়৷ প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘গ্রামে গঞ্জে পাড়ায় মহল্লায় ধর্ষণবিরোধী জনতার ঐক্য গড়ে তোল’। অন্যটিতে লেখা, ‘ধর্ষণের প্রতিবাদে ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত পদযাত্রা’। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সাদাসিধে ভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই তরুণ আরিফ সোহেল এবং মেহেদী হাসান।

 

আরিফ সোহেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মেহেদী হাসান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানাতে ঢাকা থেকে সিলেট, প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন এই দুই তরুণ।

 

আরিফ ও মেহেদী বলেন, এমসি কলেজের ঘটনা শুনে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাঁরা জানতে পেরেছিলেন সিলেটে প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে। তাঁরা এ প্রতিবাদে যোগ দিতে চান। তখন তাঁরা পরিকল্পনা করেন, সিলেটে যখন যাবেন তখন হেঁটে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে ধর্ষণবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেবেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা হেঁটে ৪ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে রওনা হন। পথে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাধবপুর, পুটিজুড়ি এবং শনিবার সকাল ১০টায় লালাবাজারে পৌঁছান। এসব এলাকায় তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ষনকারীদের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান।

 

আরিফ বলেন, ‘আমাদের পদযাত্রা সবাই সাদরে গ্রহণ করেছেন। সহায়তা করেছেন। সাধারণ মানুষ আমাদের আতিথেয়তা করেছে। সে সুযোগে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের কাছে ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

 

তিনি বলেন, তাঁরা কিছু ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দায়ী মনে করেন। সেখানে ভুক্তভোগীর পরিবারগুলোকে একঘরে করা হয়। আবার অনেকে নারীর পোশাককে দায়ী করেন। তাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন, ভুক্তভোগীকে নয়, অপরাধীকে একঘরে করা হোক।

 

মেহেদী বলেন, তাঁরা দিনের বেলা হাঁটতেন, রাতে কোনো আবাসিক হোটেলে থাকতেন। এভাবে করে ছয় রাত পর শনিবার সকালে সিলেটে পৌঁছান। শনিবার বিকেলে তাঁরা এমসি কলেজে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। রোববার সকালে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।