Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের প্রথম নারী বনরক্ষী মিলির গল্প

নারীর ক্ষমতায়নে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই সাফল্যের ছাপ রাখছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতার দায়িত্বেও নারীরা সমাসীন। এমন কিছু পেশা ও কাজ রয়েছে যেগুলোতে সচরাচর নারীদের খুব একটা দেখা যায় না। এসবক্ষেত্রেও পদার্পণ ঘটছে নারীর। ২০১৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের নারী বিহীন ছিল বনরক্ষা কর্মকর্তার পদটি মিলির যোগদানের পূর্বে। ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম বনরক্ষী নারী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন দিলরুবা আক্তার মিলি। 

 

তবে এই সফলতায় আসতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে একটি কঠিন পথ। সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা প্রতিকুলতার। নারী সফলতার এই যাত্রা নিয়ে তিনি অনন্যার সাথে কিছু কথা শেয়ার করেছেন।
২০১৬ সালের নিয়োগে ২০৪ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র নারী। বাকি ২০৩ জনই ছিল পুরুষ। ভাইবা পরীক্ষায় তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ট্রেনিং এ তো সব পুরুষ থাকবে এর মধ্যে নারী কেবল তুমি একাই, এই পরিস্থিতিতে তুমি কীভাবে থাকবা? উত্তরে মিলি বলেছিলেন, “মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক ভাইবোন থাকলে আর একটি খাট থাকলে সবাই এক খাটেই ঘুমায়। আমি এই ভাই-বোনের মতো করেই থাকবো।” তার এই জবাব সত্যিই খুশী হয়েছিলেন উপস্থিত শিক্ষকরা। তার এই উত্তরই বলে দেয় ইচ্ছাশক্তি থাকলে নারীরা সব পরিস্থিতিই মানিয়ে নিতে সক্ষম। 

 

মিলির দেশের বাড়ি শ্রীপুরে। একজন নারী হয়ে এতো দূর এগিয়ে আসতে তার পরিবারের ছিল সম্পূর্ণ সাপোর্ট। তার পরিবারের সকলেই বিশেষ করে তার বাবা তার এই চাকরির জন্য বিশেষ সাপোর্টিভ ছিল। তার বাবা নিজেই তার এই চাকরির জন্য দরখাস্ত করেছেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় নিয়ে নিয়ে এসেছেন মেয়েকে। তার এই সফলতার জন্য তার পরিবারের কৃতিত্ব অনেক। 
এই পথে সব ঘটনাই কিন্তু সহজ ছিলোনা। তাকে পার করতে হয়েছে অনেক বাধার। এরকমই একটি অভিজ্ঞতা তিনি জানান আমাদের। 

 

রাজশাহীর ট্রেনিং এর সময় ট্রেনিং সেন্টারে প্রবেশ করার সময় ২০৪ জনের মধ্যে কেবল একমাত্র নারী মিলিকে দেখে তাকে ঢুকতে দিচ্ছিলোনা ভিতরে। তারা বলছিল ফরেস্টে কখনো নারী আসেনা। আপনি ফরেস্টের না। পরবর্তীতে কাগজ দেখানোর পর তাকে ঢুকতে দেয়া হয়। এরপর সেখানে তাকে মহিলা পুলিশদের সাথে আলাদা রুম দেয়া হয়। কিন্তু সেখানেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। আচার আচরণের মাধ্যমে তাকে বলা ইনডাইরেক্টলি হয় সেখান থেকে চলে যেতে। কেবল একটা তোষক ও বালিশ দিয়ে অনেক কষ্টেই পর করতে হয়েছিলো তাকে একটি রাত সেখানে। মশারিও পর্যন্ত দেয়া হয়নি তাকে। 
পরেরদিন এনইসি এর এক প্রিন্সিপালের মাধ্যমে তিনি নিজের থাকার ব্যবস্থা করেন। সেখানে তিনি বেশ ভালোভাবেই ছিলেন তিনমাস। 

 

তিনি বলেছেন, “লড়াই না করলে, নিজের জায়গা নিজে না ধরলে কেউই আসলে দিবেনা। সবকিছুর জন্যই চেষ্টা করতে হবে।” ভবিষ্যতে এই পদে তিনি আরো অনেক নারীকে আশা করেন। তিনি জানান একা আলোকিত হয়ে কি করবো! সবাই মিলেই আলোকিত হই। সত্যিই তিনি ভবিষ্যতে নারীদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা উৎসাহিত করবে সামনের নারীদের। 
বর্তমানে ঢাকার জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে কর্মরত রয়েছেন তিনি। আশা করি সামনে আমরা মিলির মতো আরো অনেক সাহসী নারীকে দেখবো এসব পদে।