Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রূপচর্চায় গাজর!

সবজি হিসেবে খাওয়া হলেও রূপচর্চার জন্য গাজর উত্তম উপাদান। রূপচর্চায় গাজরের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গাজরে প্রচুর ভিটামিন-এ এবং ক্যারোটিন রয়েছে। প্রতিদিন একটি করে কাঁচা গাজর খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন-এর অভাব হবে না। এতে চোখ, ত্বক-উভয়ের জন্যই উপকার। চোখ আর দাঁতের মতো ত্বক ও চুলের জন্য বেশ উপকারী এটি। প্রায় সারাবছর গাজর পাওয়া গেলেও শীতের শেষে বসন্তের শুরুতে একটু বেশিই সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় এটি।

 

 

ভিটামিন-এ ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। গাজর থেকে এই ভিটামিন সহজভাবেই পেতে পারেন। গাজর খেলে দাঁতও চকচকে হয়। গায়ের রং ফর্সা হয়। পেট পরিষ্কার হয়। চুল পড়া বন্ধ করে। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। অর্থাৎ গাজর খেলে আপনার ত্বক চোখ দাঁত ঠোঁট চুল সব কটি অঙ্গেরই উপকার হচ্ছে। আবার গাজর দিয়ে সুন্দর ফেসপ্যাকও তৈরি করে নিতে পারেন। এ প্যাক মিশ্র ত্বকের পক্ষে খুবই উপকারি। কীভাবে প্যাক তৈরি করবেন জেনে নিন। আরো কত কী।

 

 

শুষ্ক ত্বকের জন্য ফেস মাস্ক: শুষ্ক ত্বকের জন্য গাজর একটি আদর্শ রূপচর্চার উপাদান। পটাশিয়ামসমৃদ্ধ গাজর ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে একে ভেতর থেকে আর্দ্রতা প্রদান করে। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন একটি সহজ ফেস মাস্ক। একটি গাজরের অর্ধেকটা অংশ ভালো করে পানি দিয়ে পেস্ট করে এতে এক চামচ দুধ ও এক চামচ মধু মেশান। মাস্কটি মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন লাগালে ত্বকের শুষ্কতা কমে আসবে অনেকখানি।

 

 

তৈলাক্ত ত্বকের ফেসমাস্ক: তৈলাক্ত ত্বকের জন্যও গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গাজরের ভিটামিন এ ত্বকের অতিরিক্ত তেল বের করে দিয়ে একে সতেজ ও টক্সিনমুক্ত রাখে। তৈলাক্ততা দূর করতে চটজলদি বানিয়ে ফেলতে পারেন একটি ফেস মাস্ক। এটি বানাতে প্রয়োজন হবে এক কাপ গাজরের রস, এক টেবিল চামচ টকদই, বেসন ও লেবুর রস। সব কটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে ভালোভাবে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে ফেলুন।

 

 

এছাড়াও বয়সের ছাপ পড়তে দেয়না ও সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মির ক্ষতির বিরুদ্ধে বাইরে ও ভেতর থেকে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা রাখে।

 

এ ছাড়া আপনি যখনই কোনো পাউডার ফেস প্যাক ব্যবহার করবেন তখন সেখানে পানির বদলে গাজরের রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া কাঁচা গাজর নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। যেকোনো সবজি ভাজি অথবা রান্নায় আপনি গাজর ব্যবহার করতে পারেন।

 

 

সতর্কতা: গাজরের প্যাক ব্যবহার করার আগে শুধু গাজরের রস অথবা পেস্ট আপনার ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। যদি অল্প সময়ে খুব বেশি চুলকায় তাহলে গাজর ব্যবহার না করাই ভালো। এ ক্ষেত্রে আপনি গাজর অথবা গাজরের জুস খেলে ভালো করবেন।