Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সাদামাটা জীবনে অর্থবহ কিছু পেতে চাওয়া এক নারীর গল্প 

মানুষের স্বপ্নের কোন সীমানা নেই। সেই স্বপ্নের থাকে বিভিন্ন রূপ কিন্তু সবারই থাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য।  কেউ কেউ আবার তার স্বপ্নকে কোনোকিছু অবলম্বন করেই যেন বাঁচিয়ে রাখতে চায়। কখনো সেই অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে একটি ঘোড়াও!

 

এইতো এই মাসেই সবাই যখন ই-লোনা হোমসকে নিয়ে প্রচণ্ড মাতামাতি করছিলো, তখন হয়তো কেউ এই মুভিটাকে নিয়ে খুব একটা ভাবেনি। "ড্রিম হর্স" অনেক আগেই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে, তবে ইনোলা হোমসের দৌরাত্বে হয়তো কিছুটা ভাঁটা-ই পড়েছে এক স্বপ্নবাজ নারীর গল্প। 

 

গল্পটা সাদামাটা। বলা যায় ড্রিম এলায়েন্সের গল্প। কি – পরিচিত ঠেকছে? হ্যাঁ, বাস্তবের ড্রিম এলায়েন্সের গল্পকে পুঁজি করেই মুভিটি তৈরি করা হয়েছে। এক সামান্য বারটেন্ডার জেন ভোকসের ইচ্ছে সে ঘোড়দৌড়ে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু প্রতিযোগিতায় সকলের কাছেই আছে ভালো জাতের ঘোড়া। তার এই বিলাসী এক জগতের প্রতি কিভাবে এতটা আগ্রহ জাগলো তা বোঝা যায়না। 

 

কিন্তু জেনের কাছে আছে ড্রিম এলায়েন্স নামক এক ঘোড়া। ড্রিমকে ঠিক ভালো জাতের ঘোড়া বলা যায়না। হ্যাঁ ড্রিম অবশ্যই রেসের ঘোড়া, কিন্তু ঠিক লম্বা রেসের ঘোড়া বলা যাবেনা। কিন্তু ড্রিমকে নিয়েই জেনের স্বপ্ন যেন নীলকণ্ঠ পাখির মতো উড়ে বেড়াতে শুরু করে। 

 

এদিকে রেসে অংশগ্রহণ করতে হলেও অনেক টাকার প্রয়োজন। দরকার ঘোড়ার সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন। জেনের মতো বারটেন্ডারের কাছে এতো টাকা থাকার কথাও না। তাই সে প্রতিবেশীদের কাছে হাত পেতে টাকা জোগাড়ের চিন্তা করে। আস্তে আস্তে নিজের স্বপ্নগুলোর সাথে অন্য মানুষদেরও জড়িয়ে ফেলতে শুরু করে। 

 

শুরু হয় জেন আর ড্রিমের রেস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। লক্ষ্য ন্যাশনালসে অংশগ্রহণ করা। অনেকটা কমেডি ধাঁচের এই মুভিটার মুখ্য চরিত্র একটি সামান্য ঘোড়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের চাবিকাঠি যার হাতে লুকিয়ে সেই জেনকেও যেন ফেলে দেয়া যায়না। 

 

মুভিটির পেছনে রয়েছে একটি বাস্তব গল্প। কিন্তু বাস্তব গল্পকে ফুঁটিয়ে তুলতে গেলে প্রয়োজন গল্প বলার ভঙ্গি। সেই কাজটাই ইউরোস লিন সফলভাবে করে দেখিয়েছেন। সেই ২০১৫ সালে একই ঘটনাকে পুঁজি করে লুই অসমন্ড নির্মাণ করেছিলেন “ডার্ক হর্স” নামক একটি ডকুমেন্টারি। সেই ডকুমেন্টারি দেখেই সকলে বলে দিতে পারতো এই গল্পকে নিয়ে সহজেই মুভি তৈরি করা যায়। 

 

হাসি ও কান্নার মিশেলে গল্পটিকে এত চমৎকারভাবে ফুঁটিয়ে তোলার জন্যে লিনকে বাহবা দিতেই হয়। গল্পটিকে আমরা অসাধারণ কখনই দাবি করবোনা। কারণ গল্পের মধ্যে অন্যান্য আর গল্পের মতোই উত্থান পতন এসেছে। কিন্তু আমরা শুধু প্রতীক্ষায় ছিলাম এক আনন্দঘন আগামীর। যেখানে শেষ হাসি জেনের মুখেই ফুঁটবে। 

 

মজার বিষয় হল, চলচ্চিত্রটির কোথাও মাত্রাতিরিক্তভাবে কিছু দেখানো হয়নি। জেনের অর্থনৈতিক মন্দাকেও মেলোড্রামাটিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। যেন এই মন্দাটাই স্বাভাবিক – এমনটাই হয়। যার ফলে আমরা জেনের সংগ্রামী চরিত্রকে ভালোভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হই।

 

ণ পাওয়া যায়। রেসের নিখুঁত ছবি আর স্থানীয় পরিবেশের চিত্রায়ন চমৎকারভাবে করা হয়েছে। ফলে দর্শকরা অনুধাবন করতে পারবেন মুভির পরিবেশ ও চরিত্রগুলোর পারিপার্শ্বিক অবস্থা। 

 

যদি সহজভাবে বলতে যাই, “ড্রিম হর্স” একটি সাদামাটা গল্পের মুভি। এখানে চোখ ধাঁধানো কিছু নেই। নেই কোনো টুইস্ট কিংবা রহস্য। শুধু ফুঁটে আছে নিটোল একটি গল্প। একজন নারী যার জীবন সাদামাটা। অথচ তার জীবনে অসাধারণ কিছু ঘটুক এমন আশাতেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে। তবে শুধু আশা নিয়েই বসে থাকার পাত্রী জেন না। বরং নিজের জীবনকে আরো অর্থবহ ও সুন্দর করে তোলার জন্যেই নিজের স্বপ্নকে গুছিয়ে নেয়া। 

 

এই জীবনের পেছনে রয়েছে তার উদ্যম। এই উদ্যমকে সে সফল করার জন্য অর্থনৈতিক মন্দাকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে রাজি। তাইতো গল্পটিকে কমেডিক ধাঁচে দেখানো হয়েছে। যেন জীবনটা এমনই। কোনোকিছুকে এতো সিরিয়াস ভাবে নেয়ার কিছু নেই। শেষ হাসিটা সবসময় ঘোড়ার মতোই দৌঁড়ে ফিনিস লাইন ক্রস করবে। সেটা কোনো অদ্ভুত ব্রিডেরই ঘোড়া হোক না কেন। যেন এই ড্রিম হর্স আমাদের সকলের মনেই আছে। আমাদের শুধু ঘোড়াটাকে দৌঁড়ে অংশগ্রহণ করাতে হবে।