Skip to content

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

টেডি ডে: জানুন টেডির জন্মকাহিনী!

ভ্যালেন্টাইন উইক এর চতুর্থ দিন আজ।  আজ টেডি ডে।  শুধু রোজ আর চকোলেট নয়, ভালোবাসার উপহার হিসেবে টেডির চাহিদাও বেশ কম নয়। ছোট – বড় যেকোনো বয়সে টেডি জড়িয়ে ঘুমোতে পছন্দ করবেনা এমন মানুষ খুব কম।  তাই ভালোবাসার সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে টেডি হাতছাড়া করা যাবেনা কোনোভাবে। 

দেখতে একটি প্রাণহীন পুতুল মনে হলেও, এই টেডিই হতে পারে আপনাদের ভালোবাসার বন্ধন আরো মজবুত করার হাতিয়ার। এই উপহার দিলে যেমন সম্পর্কে উষ্ণতা বাড়ে, তেমনি সম্পর্ক আরো মধুর হয়। আপনার প্রিয় মানুষটির সব রাগ একমুহুর্তে ভুলিয়ে দিতে পারে এই টেডি। তবে এইযে এত এত উপকারিতা, কিন্তু কিভাবে আসলো এই টেডি সেই কাহিনী  কি আমরা জানি? চলুন তবে একটু সংক্ষিপ্ত আকারে জেনেই নেই – 

এই টেডির জন্মের সাথে জড়িয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্ট। বলা হয়, ১৯০২ সালের নভেম্বর মাসে মিসিসিপিতে শিকারে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অনেকক্ষণ খুঁজেও সে দিন ভাল শিকার পাননি রুজভেল্ট। 

প্রেসিডেন্টের  সঙ্গী সাথীরা ভেবে ফেললেন এইতো তাকে খুশি করার সময়। তারা প্রেসিডেন্টকে খুশি করার লক্ষ্যে ধরে আনেন এক লুসিয়ানিয়া কালো ভল্লুক ছানা। কিন্তু হঠাৎই মন কেমন করে উঠলো রুজভেল্টের। গাছের গুঁড়িতে বেঁধে রাখা ভল্লুক ছানার উপর গুলি চালাতে মন সায় দেয় নি তাকে। অবশেষে ছোট্ট ছানাটিকে ছেড়ে দেন তিনি।

এরপরে কোন এক সময়ে ‘ড্রইং দ্য লাইন ইন মিসিসিপি’ কার্টুনে এই গল্প তুলে ধরেন ওয়াশিংটন স্টার কার্টুনিস্ট ক্লিফর্ড বেরিম্যান। সেই ছবিতে তিনি তার হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেন এমন এক ছবি যেখানে টেডি রুজভেল্ট রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আর  তাঁর পিছনে মিষ্টি  এক ভাল্লুক ছানা।

এই ছবি তৈরির পরই শুরু হলো আসল কাহিনী। সেই কার্টুন দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ব্রুকলিনের এক খেলনার দোকানের মালিক মরিস মিচম। বানিয়ে ফেলেন মিষ্টি এক টেডি বেয়ার।  তবে তখন তিনি তা বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি করেননি।  নিছকই শখের বশে তৈরি করেন প্রথম টেডি। কে জানতো এই টেডিই একদিন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হবে।  

টেডি তৈরির পর দোকানের মালিক তা সাজিয়ে রাখেন জানালার পাশে। সাথে রাখেন বেরিম্যানের আঁকা সেই কার্টুনের কপিটিও। এরপর হঠাৎই কাস্টমার এসে হাত বাড়ান টেডির দিকে।  সকলেই কিনতে চান সেই টেডি। দোকানের মালিক তো রীতিমতো অবাক হয়ে ছুটে যান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের কাছে। তার ও তার স্ত্রীর বানানো টেডি বিক্রির অনুমতি চান। অনুমতি প্রাপ্তির পর শুরু হয় টেডির পথচলা। এভাবেই জন্ম হয় টেডি বিয়ারের।