Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সম্পর্ক হোক সহজ সুন্দর

সম্পর্ক এবং বিচ্ছেদ, দুটো বিষয়ই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।  মানব জীবন মানেই যেমন সেখানে সম্পর্ক থাকবে তেমনি সম্পর্ক থাকলে সেখানে বিচ্ছেদ হতেই পারে। কারণ প্রতিটা মানুষ ভীষণ আলাদা। তাদের চিন্তা ভাবনা আলাদা, জীবনবোধ আলাদা। সম্পূর্ণ আলাদা হয়েও যখন দুজন মানুষ একটা সম্পর্কে আসে তখনই সেখানে মানিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার মত ব্যাপার গুলো চলে আসে। আর সেগুলো ঠিকঠাক জায়গায় না হলেই সে সম্পর্কে ভাঙনের রেশ আসবে। তবে এই সম্পর্কে জড়ানো আর সেটাকে টিকিয়ে রাখতে দুপক্ষের কম্প্রোমাইজ  এবং চেষ্টাই জরুরি। কারণ বিচ্ছেদ কখনোই কাম্য নয়। যাপিত জীবনের জন্য সম্পর্কগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  

আমরা এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে একটা সূক্ষ্ম সম্পর্কের মধ্যে চলাফেরা করি । প্রকৃতির সঙ্গে যেমন আমাদের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের অজান্তেই তৈরি হয় , তেমনি প্রকৃতি সর্বদা তার কোলে আমাদের স্থান দিয়ে তার স্নেহ আদরে আমাদের প্রাণে স্নিগ্ধতা জোগায় , আর সেটা হয় খুবই নিশ্চুপে । মা তার সন্তান কে গর্ভে ধারণ করে তার রক্ত মাংস দিয়ে গড়ে তোলে এক জ্যান্ত মানুষ কে , যা একটি সুন্দর সম্পর্কের ফলেই গড়ে ওঠে । বাবা আমাদের তার আঙ্গুল ধরেই এক-পা দু-পা করে হাঁটতে শেখায় , প্রথম কথা বলতে শেখায়, যার নিটোল রূপই হল এই সম্পর্ক । প্রাণের কথা খুলে বলার জন্য আর এক প্রাণের খোঁজ চলে এবং যে হাত বাড়ায় তা হল ” বন্ধুত্ব কিংবা প্রেম ” নামক একটি অটুট সম্পর্ক। তাই সম্পর্ক ব্যতীত জীবন কল্পনাই করা যায় না। আর এই সম্পর্ক গুলোকে ভালো রাখতে মেনে চলুন বেশ কিছু উপায়। যেমন: 

 

সততা 

যে কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠতে সততা  ভিত্তির মত কাজ করে। আমরা কখনোই চাই না যে কেউ আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করুক । তাই আমাদেরও উচিত অন্যের বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়া। কোন সম্পর্কের মধ্যে যখন সততা নিয়ে টানাপোড়েন দেখা যায় তখন সম্পর্কের মধ্যে ছেদ পড়তে শুরু হয় । তাই সম্পর্কের প্রতি নিজে সৎ থেকে সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলুন । 

সুন্দর মুহূর্ত কাটানো 

আমাদের  জীবন কতগুলো মুগ্ধকর ও মধুর স্মৃতির সমাবেশ মাত্র । প্রতিটা সম্পর্কের মধ্যেই একসঙ্গে সুন্দর মুহূর্ত কাটানো খুবই প্রয়োজন । আজকাল প্রযুক্তির দৌলতে আমরা ভার্চুয়াল দুনিয়াতে নিজের জায়গা করে নিতে ব্যস্ত।  দিনের বেশিরভাগ সময় সে কাজে ব্যয় করি। অথচ আমাদের প্রিয়জনরা যারা সর্বদা আমাদের পাশে রয়েছে , তাদের জন্য সময় বের করার কথা আমরা তেমন মাথায় রাখি না । ফলে সম্পর্ক গুলি আলগা হতে শুরু করে । রোজ যদি আমরা আমাদের প্রিয়জনদের সাথে কিছু সময়, সুন্দর মুহূর্ত  কাটাই  , তাহলে আমাদের সম্পর্কগুলি সতেজ থাকে , তাতে প্রাণ থাকে । কারণ এই সুখকর মুহূর্তগুলো আমাদের জীবনে এতটাই শান্তির  যা আজীবন সুখস্মৃতি হিসেবে থেকে যায় । 

বিশ্বাস বা ভরসা করা 

সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসের বুনন এর ওপর । বিশ্বাস এর সুতো ছিঁড়ে গেলে সম্পর্কের ভাঙন অনিবার্য । তাই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বা ভরসা রাখা খুবই জরুরী । বিশ্বাসের সত্যিই অসীম ক্ষমতা রয়েছে , বিশ্বাস-ই পারে মধুর সম্পর্ক স্থাপন করতে । তাই বিশ্বাস ও ভরসা রাখুন প্রিয়জনের প্রতি । 

সহানুভূতিশীল হওয়া

আমরা প্রত্যেকেই চাই আমাদের মনের অবস্থা আমাদের প্রিয়জনেরা বুঝুক । আমরা কি চাই, কোনটা আমাদের সত্যিকারের প্রয়োজন ? সেটা তারাও অনুভব করুক । যখন দেখি আমাদের ভেতরের অবস্থা তারা বুঝেও বুঝতে চাইছে না বা আমরা বোঝাতে পারছি না , তখন সম্পর্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় । তার থেকে শুরু হয় হতাশা , একাকীত্ব । যদি আমরা সম্পর্কের প্রতি নমনীয়তা পোষণ করি, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হই, আন্তরিকভাবে অনুভব করতে পারি সামনের জনের পরিস্থিতি এবং তার দিকে আমাদের হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে আমাদের মধ্যে একটা ভরসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি হবে । তাই প্রিয়জনের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। 

ক্ষমা করা

ক্ষমা সবচেয়ে বড় ধর্ম। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন যাবত সম্পর্কের প্রাচীর কে করাঘাত করে । অতীতের কোন এক ভুল কে সামনে রেখে বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে নষ্ট করে। অথচ একটা ছোট ক্ষমা সম্পর্কের যাবতীয় মলিনতা মুছে দিতে পারে। তাই সঙ্গীর প্রতি ক্ষমাশীল হতে শিখুন। 

অনুভূতি প্রকাশ করা

আমরা অনেক সময় মনের কথা মন খুলে বলি না। আমরা ভাবি সামনের জন হয়তো এমনিতেই সব বুঝে নেবে । ফলে অনেক সময় দেখা যায় সামনের জন আমাদের থেকে যা আশা করছে শোনার জন্য তা না বলাই থেকে যায় । আমাদের উচিত দৈনন্দিন জীবনে আমাদের ভেতরের অনুভূতিগুলিকে প্রিয়জনের সাথে প্রকাশ করা । এতে দুজন একে অপরের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পায়। আর সম্পর্ক সহজ থাকে। 

স্বাধীনতা দেওয়া

কখনো কাউকে বন্ধনে বা খাঁচায় বন্দী করে রাখা যায় না , যদি না সে থাকতে চায় । জোর করলে কোন সম্পর্কই টিকে থাকে না । প্রতিটা সম্পর্কের মধ্যেই একে অপরকে স্পেস বা স্বাধীনতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরী । জোর করে নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে অনেক সম্পর্কই দম  আটকে থাকার মত ছটফট করে , ফলে প্রাণের স্বরূপ রুদ্ধ হয় । এতে সম্পর্কে বিচ্ছেদও ঘটে। তাই বিশ্বাস রেখে পরস্পরকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।