Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যেসব কারণে হতে পারে অনিয়মিত পিরিয়ড

নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সংরক্ষণে নিয়মিত পিরিয়ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। সাধারণত ১২-১৩ বছর বয়স থেকে ৪৫-৫০ বছর অবধি  নারীদের প্রজনন কাল। অর্থাৎ সন্তান ধারণের জন্য তার শরীরে এই সময়ে প্রতি মাসে ডিম্বাণু তৈরি হয়। শুক্রাণুর সংস্পর্শে সেই ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়। আর সেটা না হলে  মাসিক রক্তস্রাবের মাধ্যমে নারীর শরীর থেকে ডিম্বাণু বেরিয়ে যায়। এই মাসিক চক্র বা পিরিয়ড সাইকেল হিসাব করা হয় এক চক্রের শুরুর দিন থেকে পরবর্তী চক্রের প্রথম দিন পর্যন্ত। কিন্তু নানা কারণে এই নিয়মে বাঁধা  ঘটতে পারে বা অনেক সময় মাসের পর মাস পুরোপুরি মাসিক বন্ধ থাকতে পারে। পিরিয়ড সাইকেলের গড় সময় ২৮ দিন ধরা হয়। নারীর শরীর ভেদে, আবহাওয়া কিংবা মাসের ভিত্তিতেও এটি পরিবর্তন হতে পারে। তবে সাধারণত ২৪-৩৮ দিনের সাইকেল হলেও তাকে রেগুলার পিরিয়ড হিসেবে ধরা হয়। এর কম বা বেশি হলে বা সাইকেল বার বার পরিবর্তন হলে তাকে অনিয়মিত পিরিয়ড বলা হয়। নারীর শরীরে অনিয়মিত পিরিয়ড একটি প্রচলিত সমস্যা। যার অনেক গুলো কারণ থাকতে পারে।  আসুন অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ সম্পর্কে জেনে নেই।

 

বয়ঃসন্ধিকাল 

বয়ঃসন্ধির শুরুতে সাধারণত ১২-২০ বছর বয়সে অনেকের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্ট্রেরন হরমোনের অভাব থাকে। ফলে  অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা  হতে পারে। 

 

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল 

জন্মনিয়ন্ত্রণে যারা পিল সেবন করেন, তাদের হঠাৎ পিল খাওয়া বন্ধ করে দিলে বা ঔষধ বারবার পরিবর্তন করলেও পিরিয়ডে সমস্যায় দেখা দিতে পারে। 

 

মানসিক চাপ 

মস্তিষ্কে রয়েছে হাইপোথ্যালামাস নামের একটি বিশেষ অংশ, যেখান থেকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হরমোন  নিঃসরিত হয়। এর মধ্যে কিছু হরমোন রয়েছে, যা নারী দেহে মাসিকের জন্য প্রভাবকের কাজ করে। কিন্তু অতিরিক্ত মানসিক চাপে ভুগলে অনেক সময় হাইপোথ্যালামাস ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে মাসিক শুরু হতে দেরি হয়। 

 

থাইরয়েড-এর সমস্যা 

থাইরয়েড গ্ল্যান্ড যা আমাদের গলার নিচে অবস্থিত। এটি শরীরে মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রাখে।এমনকি দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপও নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড গ্রন্থির যে কোন সমস্যার কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। 

 

রি ব্যায়াম 

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। যারা রেসার, হেভি ওয়েট লিফটিং করেন বা অন্যান্য কারণে নিয়মিতভাবে কঠিন পরিশ্রম করেন, তারা এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। কারণ অতিরিক্ত এক্সারসাইজ ইস্ট্রোজেন লেভেল কমায়। যার ফলে পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

 

প্রি-মেনোপজ 

সাধারণত ৫০ বছর থেকে মেনোপজ বা একবারে পিরিয়ড বন্ধ হয়। অনেকের ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যেই মেনোপজ শুরু হয়ে যায়। একে প্রি-মেনোপজ বলে। এই প্রি-মেনোপজ-এর সময় পিরিয়ড অনিয়মিত হয়। 

 

ব্রেস্ট ফিডিং 

ব্রেস্ট ফিডিং-কে বলা হয় ন্যাচারাল কন্ট্রাসেপ্টিভ বা প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। যেসব মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের পিরিয়ড সাধারণত বন্ধ থাকে বা অনিয়মিতভাবেই হয়। 

 

ওজন কম বা বেশি 

ওজন অতিরিক্ত কম বা বেশি হলে পিরিয়ডের উপর তার প্রভাব পড়ে। অতিমাত্রায় স্থূল নারীদের ওভারির চারপাশে ফ্যাট জমে ওভুলেশন-এ সমস্যা হয়। যার ফলে পিরিয়ড নিয়মিত হয় না। একি সাথে আবার অতিমাত্রায় ক্ষীণ স্বাস্থ্যও পিরিয়ড অনিয়মিত করতে পারে।