Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জন্মদিনে কেন কেক কাটি, মোমবাতি জ্বালাই?

অনেক প্রতীক্ষিত একটি দিন, জন্মদিন। জন্মদিন মানেই যেন আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠা। জন্মদিনকে ঘিরে আমাদের শত চিন্তা। কেক ছাড়া কি জন্মদিন হয়! কেমন হবে এবারের জন্মদিনের কেক! কেক কাটার শুভক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে বসে যাই। কেকের আকার যেমনই হোক, কেক লাগবেই। কেক না কাটলে যেন জন্মদিন পালন কোনোভাবেই সফল নয়। কিন্তু কিভাবে শুরু হল এই কেক কাটার রীতি? 

অনেক বছর আগে রাজা-বাদশাহদের সময় থেকেই জন্মদিনে বেশ বড় উৎসব পালন করা হতো। কারণ তখন ধারণা করা হতো, বড় বড় মানুষদের পেছনে সব সময় দুষ্ট আত্মা বা অশুভ শক্তি ঘোরাফেরা করে।তাই জন্মদিনের নতুন বছরে রাজা-মহারাজার যেন কোন ক্ষতি না হয় সে লক্ষ্যেই শয়তান তাড়াতে পালন করা হতো জন্মদিনের অনুষ্ঠান । তখন থেকেই জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কেক কাটার প্রচলন শুরু হয়।তবে লিখিতভাবে জন্মদিনের কথা প্রথম জানা যায় বাইবেলের জেনেসিস অধ্যায় থেকে।

তৎকালীন সময়ে  গ্রিকরা প্রায় চাঁদের মতো দেখতে গোলাকৃতির কেক বানাত। সেই কেকটা বানানো হত চাঁদের দেবী আর্তেমিসের জন্য। মধ্যযুগে জার্মানরা যিশুর জন্মদিন উদযাপনের জন্য ময়দা দিয়ে এমনভাবে কেক তৈরি করত যে দেখে মনে হতো শিশু যিশুকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছে। ধীরে ধীরে একসময় ছোট শিশুদের জন্মদিন পালন করা শুরু হয়। এটাকে বলা হতো কিন্ডারফেস্ট। তারা মনে করত, এর মাধ্যমে তাদের সন্তানের পবিত্র আত্মাকে দুষ্ট আত্মা থেকে রক্ষা করা যাবে।

তবে বহু বছর আগে দেশভিত্তিক জন্মদিন পালনের ভিন্নতা ছিল। সব দেশ-ই যে কেক কেটে জন্মদিন পালন করত বিষয়টা তেমন নয়। রাশিয়ায় জন্মদিনে ফলের তৈরি পাই (এক ধরনের পিঠা) দেওয়া হতো সবাইকে। কোরিয়ায় খাওয়ানো হতো স্যুপ। তবে কালের পরিক্রমায় এখন প্রায় সকল দেশেই জন্মদিনে কেক কেটে উদযাপন করা হয়।

কেক কেটে জন্মদিন পালনের সঙ্গে আরেকটি বিষয় জড়িত, কেকের ওপর মোমবাতি জ্বালিয়ে জন্মদিন উদযাপন। মোমবাতি-ই কেন জ্বালাই! আবার ফু- দিয়ে সেটা নেভাতেই বা হবে কেন! 

 
প্রাচীনকালে গ্রিকদের দেবী আর্তেমিসের জন্মদিনের কেকটা যেন চাঁদের মতো জ্বলজ্বল করে, সে জন্য কেকের গায়ে অনেকগুলো জ্বলন্ত মোমবাতি বসিয়ে দেওয়া হতো। তারা মনে করত, আর্তেমিস তাদের কেকটাকে  ওপর থেকে দেখতে পাচ্ছেন।  এরপর সবাই মিলে প্রার্থনা করে ফুঁ দিয়ে মোমবাতি নিভিয়ে দিত। আর ভাবত যে সেই মোমবাতির ধোঁয়া তাদের প্রার্থনা নিয়ে দেবতার কাছে চলে যাচ্ছে। ছোট ছোট মোমবাতি দিয়ে কেকের চারপাশটা সাজিয়ে দিত আর মাঝখানে থাকত একটা বড় মোমবাতি।বড় মোমবাতিতে ১২টা দাগ টানা ছিল। এ দিয়ে বছরের ১২  মাস বোঝানো হতো। এটাকে তারা বলত লাইট অব লাইফ।
এভাবেই ধীরে ধীরে জন্মদিনের কেকে মোমবাতি জ্বালানোর প্রচলন শুরু হয়। এখন প্রায় সব দেশেই জন্মদিন পালনে কেকের ওপর মোমবাতি জ্বালানো হয়।

তারপর আরেকটি বিষয় হচ্ছে, জন্মদিনের গান। জন্মদিনে কেক কাটার সময় সুর করে হ্যাপি বার্থডে টু ইউ গাওয়া হয়। গানটা মূলত ছিল গুড মর্নিং টু ইউ। গানটা করেছিল দুই আমেরিকান বোন প্যাটি হিল ও মিলড্রেড হিল। পরবর্তীতে সুর অপরিবর্তনীয় রেখে গানের কথা বদলিয়ে গানটিকে করা হল জন্মদিনের গান। আর সেখান থেকেই জন্মদিন উদযাপনে গানটি ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ