Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রান্নায় যত তেল!

যেকোন খাবার তৈরিতে অত্যন্ত উপকারী একটি উপাদান তেল।  বাজারে দেখা মেলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও বিভিন্ন নামের তেল। প্রত্যেকদিন রান্নার কাজে সয়াবিন বা সরিষার তেলের ব্যবহার আমরা মোটামুটি সবাই করে থাকি।ইদানীং অবশ্য অন্যান্য ভোজ্য তেলের কদরও বাড়ছে। এগুলোর পুষ্টিগুণও ভিন্ন। এক এক জনের পছন্দ এক এক রকম।  তাই এবারের লেখায় আপনার সুবিধার্থে রয়েছে  বর্তমান বাজারে প্রচলিত কিছু তেলের গুনাগুণ নিয়ে আলোচনা: 

 

সয়াবিন তেল

 

রান্নার ক্ষেত্রে সয়াবিন তেল অনেক বছর ধরেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।  তাই প্রথমেই দেখে নেয়া যাক সয়াবিন তেল।  তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ৩৫ শতাংশের নিচে এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫০ শতাংশের ওপরে। এর স্মোক পয়েন্টও অনেক বেশি (২৫৬ ডিগ্রি)। বেশি তাপমাত্রার রান্না, ভাজাপোড়া ইত্যাদি খাবার তৈরির জন্য সয়াবিন তেল বেশি উপযোগী। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিন তেল ডায়াবেটিস, স্থূলতা, স্নায়ুজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

সরিষা তেল

জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সয়াবিন তেলের কাছাকাছিই সরিষার তেল। সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে।  এর মধ্যে রয়েছে ওষুধি গুণেও।  শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুল ও ত্বকের যত্নেও সরিষা তেল উপকারী।  তবে ইদানীং সয়াবিনের ব্যাপক প্রচলনের ফলে সরিষা তেলের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। 

 

সানফ্লাওয়ার তেল

সানফ্লাওয়ার তেল দৈনিক যেকোনো রান্নার উপযোগী। এই তেলে প্রচুর পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। এর স্মোক পয়েন্ট ২২৭ ডিগ্রি।  সানফ্লাওয়ার তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ আছে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়ার ক্ষেত্রে এই তেল এলডিহাইড নামের ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

জলপাই তেল

 

আমাদের দেশে জলপাই তেলের প্রচলন খুব বেশি না হলেও একেবারে কমও নয়। জলপাই তেলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ, হাড় মজবুত করা, ওজন কমানো, মনকে প্রফুল্ল রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শুধু খাবারেই নয়, আমাদের ত্বকের যত্নেও জলপাই তেল দারুণ উপকারী। শুষ্ক, স্বাভাবিক ও তৈলাক্ত—সব ধরনের ত্বকের জন্যই এই তেল সমান কার্যকর।

 

রাইসব্রান তেল

এই তেল যেকোনো খাবার রান্নায় ব্যবহার উপযোগী। রাইসব্রান তেল মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ। এর স্মোক পয়েন্ট ২৫৪ ডিগ্রি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই তেল রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমায়। এ ছাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগারের মাত্রাও কমায়। তবে যাঁদের ব্লাড প্রেসার কম, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই তেল ব্যবহার করা উচিত।