Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সাফল্য!

বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে যে জিনিসগুলো সম্মানের সাথে তুলে ধরতে বা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তা হল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশের গেল এক দশকের ক্রীড়াঙ্গনের দিকে লক্ষ্য করলে চোখে পড়বে নারী ক্রীড়াবিদদের অবিশ্বাস্য সাফল্য গাঁথা ক্রীড়াঙ্গনে দেশের অর্জনের বেশিরভাগ কৃতিত্বে নিজেদের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্যময় অধ্যায়ের দিকে তাকালে স্বাভাবিকভাবেই সর্বপ্রথম চোখে পড়বে ক্রিকেট ও ফুটবলে। 

 

কেননা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে নারী ক্রিকেট ও নারী বয়সভিত্তিক ফুটবল দল। সাফল্যের কথা যেখানে বাংলাদেশ পুরষ ক্রিকেট দল তিন তিন বার এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে ট্রফি জয় করতে ব্যর্থ সেখানে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল প্রথম বারের মতো ফাইনালে উঠে বাজিমাত করে দিয়েছে। ২০১৮ সালের জুনে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে নারী ক্রিকেট দল। আর সবাইকে তাক লাগিয়ে উল্লাসে মাতে সালমা-জাহানারারা। আর ফুটবলেও বাংলাদেশ পুরুষ জাতীয় দল যেখানে পর পর ব্যর্থ সেখানে মুদ্রার উল্টো পিটে বাংলাদেশ বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল দল। 

২০১৭ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ২০১৮ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত হয় সাফ অনূর্ধ্ব- ১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানেও সাফল্যের দেখা যায় অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দল জিতে শিরোপা। এছাড়াও ২০১৭ ও ২০১৯ পরপর দুইবার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল। এতো গেল দলগত সাফল্যের কথা। ব্যক্তিগত অর্জনেও এগিয়ে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা। 

 

এদের মধ্যে অন্যতম সাতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, দাবাড়ু– শারমিন সুলতানা ও আর্চার ইতি খাতুন। দেশের এই নারী ক্রীড়াবিদরা তাদের নিজ অবস্থান থেকে পেয়েছেন সাফল্য। আর তাদের এই সাফল্যে বিদেশের মাটিতে গর্বের সাথে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা বেজেছে জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। 

 

২০১৬ সালে ভারতের শিলং-গোহাটিতে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ। আর সেই আসরে বাংলাদেশ, আর সেই আসরে বাংলাদেশ প্রথম স্বর্ণের দেখা পায় মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এর হাত ধরে। ভারোত্তোলনের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণীতে বাংলাদেশকে স্বর্ণ উপহার দেন। শুধু তাই নয় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যখন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠে তখন আবেগ আপ্লুত হয়ে কাঁদেন মাবিয়া আক্তার আর তার সেই চোখের জলের আবেগ পুরো জাতিকে করে তুলেছিল আবেগি। সেই আসরেই সাঁতারে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে বাংলাদেশকে জোড়া স্বর্ণ উপহার দেন মাহফুজা খাতুন শিলা। 

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সাফল্যের দেখা পায় ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমুন্ডু পোখারায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে , সেবার ২০১০ সালে দেশের মাটিতে জয় করা ১৮ স্বর্ণের রেকর্ড ভেঙ্গে হয় করে ১৯ স্বর্ণ। ব্যক্তিগত স্বর্ণ অর্জন করেন ছয়জন নারী ক্রীড়াবিদ। এইবারও ভারোত্তোলনে সফল হয় মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণ জয় করেন তিনি। এছাড়াও রেসলিং একক শ্রেণীতে বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ণ উপহার দেন ফাতেমা মুজিব। আর কারাতের কুমি ইভেন্টে ৫৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে মারজান ও ৬১ কেজি ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণ জয় করেন হোমায়ারা আক্তার। 

এই আসরে বাংলাদেশ যে ইভেন্টে সবচেয়ে বেশি সাফল্য তা হল আর্চারি। আর্চারিতে কম্পাউন্ড এককে সোমা এবং রিকার্ভ এককে স্বর্ণ জেতেন ইতি খাতুন। এছাড়াও দলগত ইভেন্টেও সাফল্য দেখান বাংলাদেশের নারী আর্চাররা। কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টে সুস্মিতা বনিক, সোমা ও শ্যামলী রায় আর দলগত রিকার্ভে মেহনাজ, ইতি ও মনিরা ও বিউটি বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দেয়। এছাড়াও রিকার্ভ মিক্স দলগত ইভেন্টে ও স্বর্ণ জয় করেন ইতি। আর এতেই মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক আসরে তিনটি স্বর্ণ জয়ের বিরল কীর্তি গড়েন এই নারী আর্চার। শুধু সাফল্যই নয় রেকর্ড গড়াতেও পিছিয়ে নেই নারী ক্রীড়াবিদরা সাবেক নারী টেনিস খেলোয়াড় জোরেরা রহমান লিনু যিনি ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশের একমাত্র নারী ক্রীড়াবিদ হিসাবে নাম লিখিয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডসে। 

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এত সাফল্যের পরও এইসব নারী ক্রীড়াবিদদের রয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। তারা বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সহ রয়েছে যৌন নিপীড়ন ও বেতন বৈষম্যের মত প্রতিবন্ধকতা। ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত গ্রামের কলসিন্দুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েরা দেশের নারী ফুটবলের বিপ্লব ঘটিয়েছে। তাদের হাত ধরেই আসছে নারী ফুটবলের সাফল্য। গ্রামীণ পরিবেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তবুও দমে যায়নি এইসব কিশোরী ফুটবলাররা। ঠিকই তারা ছুটে চলছে অদম্য গতিতে সামনের দিকে। তাই সাফল্যের দেখা পাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। যার ফলে ভবিষ্যতও খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত হচ্ছে তাদের দেখে। নারী ক্রীড়াবিদদের এইসব প্রতিবন্ধকতা যদি দূর করা যায় তাহলে আরও অনেক অনেক সাফল্য আসবে এইসব নারী ক্রীড়াবিদদের হাত ধরে।