Skip to content

২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে টেনে ধরুন খরচের লাগাম

মাসের শুরুতে হাতে টাকা পয়সাতো আসছে , কিন্তু একি? মাস শেষে সঞ্চয় তো দূর পকেট যেনো গড়েরমাঠ। টাকা-পয়সা হাতে আসলেই খরচ হয়ে যায়। প্রতিদিন নানা ভাবে আপনার পকেট থেকে টাকা বের হতেই থাকে। এর সবটা যে আবার পরিকল্পনামাফিক তা কিন্তু নয়। অনেক সময় আপনি অপরিকল্পিতভাবেও খরচ করে ফেলেন।  আবার কখনো কখনো বুঝতেও পারেননা কোথায় খরচ করলেন, কিভাবে খরচ হলো?  হিসেব মিলাতেও হিমশিম খেতে হয়। তাইতো খরচের খাত নিয়ন্ত্রণ করে টেনে ধরতে হবে খরচের লাগাম। আর এর জন্য জেনে নিতে পারেন কিছু করনীয়,

 

 

অপচয় কমাতে হবে 

টাকা-পয়সাকে অনেকটাই তুলনা করা যায় তরল পদার্থের সঙ্গে। যতই হাতের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন বেরিয়ে যাবে খুব সহজেই। বিলাসিতায় গা ভাসাতে গিয়ে আমরাও যেনো হাত বাড়িয়ে থাকি অপচয় করার জন্য। কখনও আবার নিজের অজান্তেই অপচয় করে ফেলি।  বর্তমান সময়ে আমাদের অনলাইন কেনাকাটার ঝোঁক প্রকট আকারে দেখা যাচ্ছে। পছন্দসই কোনো একটা জিনিস দেখলেন তারমানে নাছোড়বান্দা আপনাকে সাথে সাথেই অর্ডার করতে হবে। মাসের শুরুতে হাতে অর্থের আগমন, তো লাফ দিয়ে মন বায়না ধরলো বিলাসবহুল কোনো রেস্তোরাঁয় খেতে যেতে হবে, আপনি বেচারাও গিয়ে মাসের শুরুতেই পকেট ফাঁকা করে চলে  আসবেন। শুধু এসবই নয়  বিলাসবহুল স্থানে বেড়াতে যাওয়া, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ইত্যাদি যেনো আমাদের নিত্যদিনের ঘটনা । তাই  প্রথম দরকার কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো হয় সেটা চিহ্নিত করা। কোথায় আপনার অর্থ অপচয় হচ্ছে সেটা চিহ্নিত করতে পারলে তা বন্ধ করার উপায় বের করা সহজ হবে। মনে রাখতে হবে, অর্থ অপচয় না করলেই তা সঞ্চয় হবে। 

 

খরচের জন্য তালিকা সংরক্ষণ

একটি হিসাবের খাতা তৈরি করুন।  মাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার সকল খরচের হিসাব সেই খাতায় তুলে রাখুন। এতে মাস শেষে আপনার খরচের তালিকা করা সহজ হবে। সঠিকভাবে খরচের হিসাব রাখা সম্ভব হলে আপনার নিজের ব্যয়গুলো যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তেমন কার্যকরভাবে ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এ পন্থা অবলম্বন করে অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ থেকেও বাচা সম্ভব।  আপনাকে মাস শেষে গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে হবেনা কোন খাতে কত খরচ করেছেন তা নিয়ে৷ 

 

শুরুতেই সঞ্চয় করুন

আমাদের একটি প্রচলিত ধারনা, মাস শেষে যা বেচে যাবে তাই সঞ্চয় করে রাখবো।  এই ধারনার কারণেই আমরা দিনশেষে খরচের লাগামটা টেনে ধরতে ব্যর্থ হই। তাই শুরুতেই বাড়তি অর্থ সরিয়ে ফেলুন। আপনার হাতে যে টাকা আসবে তা থেকে খরচের জন্য নির্দিষ্ট টাকা রেখে বাকি টাকা আগেভাগেই  সঞ্চয় করে রাখুন।  মনে রাখবেন টাকা হাতে থাকলে আপনার চাহিদা কখনোই ফুরাবেনা। তখন সঞ্চয় করা তো দূরে থাক, মাস শেষে টানাটানি অবস্থা হয়ে যাবে। তাই শুরুতেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করার অভ্যাস করুন।  এতে মাসের শুরুতেই সঞ্চয় যেমন হবে তেমনি খরচের লাগাম টানার অভ্যাসও হয়ে যাবে।

 

পরিস্থিতি মাথায় রাখুন

মনে করে দেখুন তো প্রতিদিন এমন কোনো  একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন আপনি হন যখন  আপনার পকেট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যায়। এই ধরুন একটি চায়ের দোকানে গিয়ে আপনার এক কাপ চা পানের পাশাপাশি এক প্যাকেট সিগারেট কেনা দীর্ঘদিনের অভ্যাস।আবার রোজ কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে আপনি শপিং মলে ঢু মেরে আসলেন নতুন কোনো কালেকশন আছে কিনা তা দেখার জন্য,  পছন্দসই কিছু দেখলেন তো নিয়ে চলে আসলেন। এক্ষেত্রে মাস শেষে একটা মোটা অঙ্কের অর্থ আপনার হাতছাড়া হচ্ছে , আর খুব সম্ভবত আপনি সেটা ভালোভাবে টেরও পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখুন এবং তা এড়িয়ে চলুন। 

 

তালিকা ধরে কেনাকাটা

আমাদের আয়ের বেশির ভাগ অর্থই আমরা কেনাকাটার পেছনে ব্যয় করি। তাই খুব বেশি সতর্ক হতে হবে কেনাকাটার ব্যাপারে।  কেনাকাটায় কিছু নিয়ম মেনে চললে অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হচ্ছে কেনাকাটার প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করা এবং দোকানে গিয়ে সেই তালিকা ধরে কেনাকাটা করা । দোকানে গিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে জিনিস কেনার প্রবণতায় খরচ হয়ে যেতে পারে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ। তাই  তালিকার বাইরে কেনাকাটা বাদ দিন। 

 

র মাঠ বানাবেন? নাকি একবার খরচের লাগাম টেনে ধরার এ পন্থাগুলো প্রয়োগ  করে দেখবেন?