Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

প্রথম নারী কাজি হওয়ার স্বপ্ন আয়েশার!

ঊনচল্লিশ বছর বয়সের আয়েশা সিদ্দিকার স্বপ্ন কাজি হওয়ার। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজিদের বিয়ে পড়াতে দেখে তার মনে এই স্বপ্নের উৎপত্তি। বড় হওয়ার পর তিনি দেখলেন মেয়েরা কাজি হতে পারবেননা। অথচ মেয়েরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না— এমন কথা কোথাও লেখা নেই।

 

গত প্রায় ১৯ বছর ধরে দিনাজপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব কাটাবাড়ীতে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন আয়েশা সিদ্দিকা।  ফুলবাড়ীর দারুল সুন্নাহ সিনিয়র সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাশ করেছেন তিনি। এরপর স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন।

 

নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার পর যাচাই বাছাই শেষে লাইসেন্স মঞ্জুরির স্থানীয় উপদেষ্টা কমিটি ২০১৪ সালে তিন জনের নাম আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। তার মধ্যে আয়েশা সিদ্দিকার নামও ছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় নারী বলে আয়েশা সিদ্দিকাকে রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স দিতে নাকচ করে। তারপর নারী আন্দোলন এর তীব্র প্রতিবাদ করে। শুরু হয় নিকাহ রেজিস্ট্রার হওয়ার লড়াই।

 

আয়েশা বলেন, এজন্য তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে গেলে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। সেই পূর্ণাঙ্গ রায় সম্প্রতি প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। আয়েশা জানান, আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিধিমালায় কোথাও বলা হয়নি যে কেবল পুরুষই নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে। সেখানে যেসব যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, তার সবগুলোই তার আছে।

 

তিনি যে এলাকার কাজি বা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে চান, সেখানকার বাসিন্দা হতে হবে। আয়েশা সিদ্দিকা এসব যোগ্যতা থাকার পর কেন তিনি কাজি হতে পারবেন না?

 

২০১৪ সালে আয়েশার লাইসেন্সের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’ আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আয়েশা হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত রুল জারি করেছিল। কিন্তু গত বছর সেই রুল খারিজ হয়ে গেলে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

 

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে দুজন মুসলিম যুগলের মধ্যে বিয়ে পড়ানোই একজন নিকাহ নিবন্ধকের কাজ, যা মূলত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান না থাকায় মসজিদে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, শারীরিক কিছু পরিস্থিতির কারণে একজন নারীর পক্ষে মাসের কোনো একটা সময় মসজিদে যাওয়া সম্ভব হয় না। ঐ সময় একজন নারী বাধ্যতামূলক দৈনন্দিন প্রার্থনা থেকেও বিরত থাকেন।

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ