Skip to content

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নতুন বিয়ে, কিভাবে সামলাবেন ঘর এবং অফিস?

জীবনযাপনের ধারায় সামাজিক প্রথাগুলোর মাঝে বিয়ে একটি রুচিশীল ধারা। এই ধারাকে বিস্তৃত করে সংসার নামক শব্দ। দাম্পত্য জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই নির্ভর করে পরিবারের কর্তীর উপরে। যুগ যুগ ধরে নারী দেখিয়ে আসছে তার দায়িত্ববোধের জায়গাটুকু। এই দায়িত্ববোধের জায়গাটুকু একজন কর্মজীবী নারীর জন্য উঠে আরো অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ঘর এবং অফিস দুটোই সামলাতে হয় সমান তালে। অধিকাংশ নারীই হিমশিম খেতে শুরু করেন এই অফিস এবং ঘর সামলানোর ব্রতে।

আধুনিকতার যুগে নারীরা কেবল ঘর সামলানোতে নয়,ক্যারিয়ারেও নিজেকে প্রমাণ করতে চান সমানভাবে। একদিকে ঘর অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন, দুটোকেই আঁকড়ে ধরতে চান।ফলে সময় এবং বুদ্ধিমত্তা- এ দুটোতে ব্যালেন্সের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কতটুকু সময় ঘরে দেবেন কিংবা কতটুকু সময় কর্মক্ষেত্রে দেবেন অনেক নারীই সেটা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে ঘরোয়া সময়টুকুতেও অনেকে ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়েন অফিস সংক্রান্ত কাজে। যেটা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরক্তির উদ্রেগ সৃষ্টি করে। পারিবারিক সময়টুকুতে চেষ্টা করুন নিজেকে অন্য সদস্যদের মাঝে প্রকাশ করতে।

অনেক পরিবারে বিয়ের পরে নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশকে পছন্দ করেন না। স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবোঝি।মানসিক দোলাচলে দুলতে থাকেন অনেকে। ক্যারিয়ারকে একপাশে ছুঁড়ে দিয়ে শুধু গৃহিণীপনা করবেন, নাকি ঘর-অফিস দুটোকেই একসঙ্গে কাভার করে নেবেন- এই প্রশ্নের পাঁকে জড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে আপনার উচ্চাশা কিংবা আত্মসন্তুষ্টির কথা পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বলুন। পরিবারের মুখ্য এবং গৌণ কাজগুলোর মধ্যে মুখ্য কাজগুলো সম্পাদন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন। কথিত আছে সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। সময়ের কথা মাথায় রেখে বড় বড় কাজগুলো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবারের সকলের সাহায্যে সম্পন্ন করে নিন। ফলে কর্মক্ষেত্রের জন্য আপনার থাকবে পর্যাপ্ত সময়।

নতুন সংসারে প্রবেশের সাথে সাথে ঘিরে ধরে নতুন নতুন দায়িত্ববোধ। একদিকে পরিবারের সদস্যদের চাওয়া-পাওয়া, অন্যদিকে নিজের কর্মক্ষেত্র-এ দুটোতে কম্বিনেশন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজন পড়ে পরিবারের সদস্যদের কো-অপারেটের। অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের এই সহায়তা পূর্ণ আচরণের অভাবে নারীর স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গাটুকু হয়ে পড়ে কঠিন থেকে কঠিনতর। মেন্টাল প্রেসারে ভুগতে থাকেন অনেক নারী। দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই এই ধরণের সমস্যার সৃষ্টি নারীর চিন্তা এবং কর্মক্ষমতা দুটোকেই নষ্ট করে দেয়। চেষ্টা করুন নিজেকে হাসিখুশী এবং চাপমুক্ত রাখতে। ঘর এবং অফিস দুটোতেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রবৃত্তি রাখুন। ছোটখাটো ব্যাপারে তর্কে না জড়িয়ে ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করুন। সবকিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করে নয়, বরং সবকিছু সমানভাবে সামলে নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করুন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে।

কর্মক্ষেত্রে পারিবারিক চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত থাকুন। এটা কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টির বদলে কর্মের ব্যাঘাত ঘটায়।ফলে কাজ করার পূর্ণ স্পৃহা থাকে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। আপনার ঘর এবং অফিস সামলানোর ব্রত হবে অনেকটা সহজ। পরিবারের সদস্যদের সাথে আনন্দপূর্ণ মূহুর্ত প্রকাশে স্বতঃস্ফূর্ত হোন। মানসিকভাবে আপনি থাকবেন তৃপ্ত। সময়ানুবর্তিতা,কর্মদক্ষতা, মানসিক সক্ষমতা ইত্যাদির গুণাবলীর মাধ্যমে একজন নারী পারেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। পারেন ঘর সামলে দশ দিগন্ত জয় করতে।ঘর এবং বাহির দুটোই হয়ে উঠতে পারে তার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা। আজকের আধুনিকতার সোপানে দাঁড়িয়ে কেবল নিপুণা গৃহলক্ষ্মী হয়ে নয়, নিজের জ্ঞান মেধাকে কাজে লাগিয়ে চার দেওয়ালের বাহিরেও রাখছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর। প্রয়োজন শুধু আত্মবিশ্বাস আর সহযোগিতা। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আত্মবিশ্বাসটুকু ধরে রাখতে পারলে ঘর এবং অফিস সামলানোতে নারী হয়ে উঠে সার্থক।