Skip to content

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আহমদ রাকিব – ঠিক একের মধ্যেই অনেক!

আহমদ রাকিব। দেশের বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ফোর্টিস গ্রুপ-সারাহ্ রিসোর্টের ব্রান্ডিং, রিজার্ভেশন,  সেলস & রিজার্ভেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ( হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট) হিসেবে কাজ করছেন। তরুণপ্রাণ এই মানুষটি একজন আলোকচিত্রীও, জিতেছেন দেশের নানা বড় ফটোগ্রাফি পুরষ্কার। আজকের আলাপনে জানালেন নানা বিষয়! সাক্ষাতকার নিয়েছেন বেনজির আবরার।

 
অনন্যা প্রতিবেদক – স্যার, আপনার ছোটবেলা, পরিবার, পড়াশোনা সম্পর্কে বলুন।
 
আহমদ রাকিব- আমার ছোটবেলা চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে। নাসিরাবাদ বয়েজ স্কুলে ৯৫ তে এসএসসি শেষ করি। বাবা ছিলেন চট্টগ্রামের খুবই পরিচিত মানুষ। দৈনিক আজাদীতে বাবার কলাম প্রকাশিত হতো নিয়মিত। আমি ছিলাম ফুটবল প্রেমী, স্বপ্ন দেখতাম ফুটবলার হবার। 
 
সরকারি হাজি মুহাম্মাদ মহসীন কলেজে এইচএসসি শেষ করি। ভর্তি হয়েছিলাম চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির পরিসংখ্যানে, কিন্তু সেশনজটে পড়ার আশংকায় ভর্তি হই আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামে বিবিএতে, সেখানেই এমবিএও শেষ করি। 
 
অনন্যা প্রতিবেদক – ক্যারিয়ারের নানা সময় সম্পর্কে বলুন।
 
আহমদ রাকিব-  আমার আরেকটা স্বপ্ন ছিলো এয়ারলাইনসে কাজ করার বিষয়ে। সুযোগটাও আসে ২০০৫ সালে ট্রাফিক অফিসার-গ্রাউন্ড সার্ভিস হিসেবে।
 
২০০৭ সালে ওমান এয়ারলাইসে কাজ করার সুযোগ পেলেও মাত্র চারমাসের মাথায় একটা সুযোগ আসে সম্পূর্ন ভিন্ন একটা ইন্ড্রাস্টি থেকে। ওয়েল এন্ড গ্যাস ভিত্তিক একটি বড় প্রতিষ্ঠান কেয়ার্ন এনার্জীতে লজিস্টিকস/এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে সাপ্লাই চেইন বিভাগে,  এরপর কাজ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানী সান্তোসে, শেভরন বাংলাদেশেও কাজ ২০১৫ পর্যন্ত। 
 
একটা বড় সময় ২০১৭ পর্যন্ত কাজের বাইরে থেকে আবার ২০১৭ তে ফোর্টিস গ্রুপের সারাহ রিসোর্টের সেলস & মার্কেটিংয়ে দায়িত্ব নেই, এবছর কোভিড-১৯ এর সময়ে অপারেশন বিভাগের দায়িত্বও নেই। এই রিসোর্টের সাথে তখন থেকেই পথচলা ১৭ থেকেই…
 
অনন্যা প্রতিবেদক- আপনার বর্তমান ব্রান্ড "সারাহ্ রিসোর্ট সম্পর্কে বলুন।
 
আহমদ রকিব-  আমাদের সারাহ্ রিসোর্টে যারা গিয়েছেন তারা জানেন এটা পরিবেশবান্ধব একটি রিসোর্ট। আপনার মনে হবে ঘুড়তে এসে বাসার মত পরিবেশে আছেন, বাংলাদেশেরই অন্যতম বড় রিসোর্ট আমাদের সারাহ্ রিসোর্ট। খরচের দিক থেকেও খুবই ভালো সব ধরণের ভ্রমনপ্রিয় মানুষদের জন্য। আমাদের রয়েছে সুবিশাল এক স্পোর্টস গ্রাউন্ড এবং রেস্টুরেন্ট বিশাল আকারের বড় এবং একসাথে ৭৯টি রুমে ২২০ জন গেস্ট থাকতে পারবেন রিসোর্টে। আমাদের নতুন সংযোজন সারাহ্ ক্যাম্প যা আমাদের অতিথিদের নতুন এক অভিজ্ঞতা দেবে।
 
অনন্যা প্রতিবেদক- কোভিড-১৯ পর্যটন খাতকে কি বার্তা দিয়ে গেলো? 
 
আহমদ রাকিব- প্রত্যেকটা সেক্টরের মত আমাদের সেক্টরও ভীষন ক্ষতিগ্রস্ত কোভিড-১৯ এর প্রথম সময়টাতে। তবু আমরা কোনো কর্মচারী ছাটাঁই করিনি, বরং জুলাই-১৯ য়ে যখন প্রথম আমরা উদ্যোগ নেই খুলবো তখন থেকে এখন পর্যন্ত উল্টো লোকবল বাড়িয়েছি আমার পুরো টিমে। আমাদের ফোর্টিস গ্রুপের কাছে আমি ,  আমার টিম কৃতজ্ঞ অনেক যে তারা মহামারীতে আমাদের পাশে ছিলেন এবং আমি পরামর্শ দিয়ে খোলার কথা বলার পরেই সবধরণের নিয়ম মেনে রিসোর্ট চালুর ব্যবস্থা করেন।  
 
অনন্যা প্রতিবেদক – আপনার ফটোগ্রাফির শখের কথা যদি আমাদের বলতেন।
 
আহমদ রাকিব- একদম শখ থেকে ছবি তুলি। এরমধ্যে কিছু স্বীকৃতিও মিলেছে।  দ্যা ডেইলি স্টার- স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের সেলিব্রেটিং লাইফ ২০১৬,১৭,১৯ তিনবার আমার ছবি পুরষ্কার পেয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হোপ এর বইতেও এসেছে আমার তোলা ছবি। আমার সোশ্যাল মিডিয়াতে ছবিগুলো আছে। বলতে পারেন সুযোগ পেলেই তুলি। রিসোর্টটার বেশীরভাগ ভালো ছবিই আমার তোলা, কোনো এজেন্সী বা বাইরের কারো না।
 
অনন্যা প্রতিবেদক- তরুণ চাকরীপ্রার্থীদের জন্য যদি পরামর্শ দিতেন।
 
আহমদ রাকিব- আমি কয়েকটা বিষয়কে প্রেফারেন্স দেই। এরমধ্যে কম্পিউটার দক্ষতা, কাজ শেখার আগ্রহ, অস্থির না হওয়া, থাকতে হবে ধৈর্য্য আর কাজের প্রতি ভালোবাসা।