Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নারী ক্রিকেটে সুলতানার নতুন অধ্যায়

করোনা কালে দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকার মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করতে কাজ করছেন বিসিবির ফিজিওথেরাপিস্ট ও ট্রেইনাররা। একাডেমি মাঠে একজন নতুন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবে এসেছেন সুলতানা ইয়াসমিন। তিনি মেয়েদের ক্রিকেটে ‘বৈশাখী’ নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আগে কেবল বিদেশি নারীই প্রশিক্ষক বা ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছেন। কোনো দেশি নারী প্রশিক্ষণের কাজ করেননি। সুলতানাই নারীদের ক্রিকেটে প্রথম পেশাদার প্রশিক্ষক। অবশ্য বছর তিনেক আগে মেয়েদের ভারত সফরে একটি সিরিজে ফাতেমা তুজ জোহরা প্রশিক্ষক হিসেবে গিয়েছিলেন। তিনি এখন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) কোচ হিসেবে কাজ করছেন।

একসময় বাংলাদেশ নারী দলে খেলেছেন খুলনার মেয়ে সুলতানা। ৬টি ওয়ানডে আর ১টি-টোয়েন্টিতেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে এই উইকেট কিপার ও ব্যাটসম্যানের। গত পাঁচ বছরে জাতীয় দলে আর সুযোগ না পেলেও এখন ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন সুলতানা। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন বলেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন ক্যারিয়ারের আরেকটি পর্ব শুরু করতে। তারই অংশ হিসেবে গত মার্চে কক্সবাজারে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্পে তাঁর প্রশিক্ষক হিসেবে অভিষেক। এরপর পড়ে গেল চার মাসের করোনার বিরতি। গত আগস্ট থেকে আবার নিয়মিত কাজ করছেন। যেহেতু মেয়েদের খেলা নেই, ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হচ্ছে নির্দিষ্টসংখ্যক নারী ক্রিকেটারের সঙ্গে। তবু সুলতানা খুশি, একটা স্বপ্ন তো পূরণ হচ্ছে। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে কোচ কিংবা ট্রেইনার হওয়ার উদাহরণ খুবই কম। 

সুলতানার ট্রেইনার হওয়ার পিছনের কারন হিসেবে তিনি জানান, ‘একজন খেলোয়াড়ের জন্য ফিটনেসই আসল। ২০১৫ সালে ফিটনেসের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলাম। আমি আর ফিরতে পারিনি দলে। এ সময়ে আমার মা মারা যান। পরিবার নিয়ে অনেক ব্যস্ত হয়ে যাই। সেখান থেকেই চিন্তাটা আসে, খেলোয়াড়ি জীবন শেষে যদি কিছু করি ফিটনেস ট্রেইনারই হব।’ 

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার আগেই ট্রেইনার হয়ে গেছেন সুলতানা। যাত্রাটা শুরু হয়েছে মাত্র, সুলতানার এখনো অনেক পথ বাকি। তাঁর স্বপ্ন একদিন কাজ করবেন মেয়েদের জাতীয় দলে। তার স্বপ্ন ট্রেইনার হিসেবে বাংলাদেশ দলে কাজ করার। বাংলাদেশ দলের ফিটনেস ট্রেইনার হিসেবে কাজ করার স্বপ্ন সুলতানার।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ