Skip to content

২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রশংসায় সম্ভব সম্পর্কের উন্নয়ন

আকাশ এবং আসিফ, একই অফিসে চাকরি করেন। কয়েকদিন ধরেই আকাশের বেশ মন খারাপ। দিন দিন তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ইদানীং তাদের কথাবার্তা ও কাজকর্মে ভীষণ অমিল। দুজনের ভাবনাটা দুজনকে নিয়েই নেতিবাচক। একজনের পদন্নোতিতে অপরজনের মন খারাপ। করতে ছাড়েননি তুচ্ছতাচ্ছিল্যও। এখন তারা পাশাপাশি ডেস্কে বসলেও সম্পর্কটা দা-কুমড়া।

 

করে। পরস্পর পরস্পরের জীবনের ছোট ছোট পাওয়া গুলোকে নিয়েই খুশি থাকেন। দিনশেষে তাদের মধ্যে সবসময়ই একটি সুন্দর সম্পর্ক বিদ্যমান।

 

উপরের চারটি চরিত্রের সঙ্গে অনেকেই নিজেকে বা পাশের জনকে মেলাতে পারছেন নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই চাইবেন আকাশ ও আসিফের মতো না হয়ে ইলা ও মিলার মতো বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে। এর জন্য চাই নির্ভরতা। আপনার বন্ধুর গোপন কথা আপনাকে বলছে মানে বিশ্বাস করেই বলছে। আপনার সফলতায় সে বন্ধু বা পাশের মানুষটি খুশি হলে আপনাকেও তার সফলতায় খুশি হওয়া বাঞ্ছনীয়। সম্পর্ক অন্তত মিষ্টি একটা বিষয়। একটি সম্পর্ক নির্ভর করে ভালোবাসা, পারস্পারিক সমঝোতা ও সততার ওপর।

 

এই সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে প্রশংসা করবার মন-মানসিকতা অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। জীবন চলমান। এই চলমান জীবনে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় একটি সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলতে পারে আবার অনেক সময় সম্পর্ক নষ্টের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।

 

একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি অপর ব্যক্তি হতে আলাদা। একজন মানুষের সবভালো গুণ থাকে না। সেই ব্যক্তির আচার-ব্যবহার আমাদের নিকট বিভিন্ন কারণে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠে না। এর ফলে সম্পর্ক অনেক সময় খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ওই ব্যক্তির খারাপ গুণগুলোকে প্রাধান্য না দিয়ে যদি ভালো গুণগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। তার দিকে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করি তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। তার ভালো কাজের জন্য যদি খুশি হই এবং তার প্রশংসা করি সেক্ষেত্রে সে ভালো কাজের দিকে বেশি অনুপ্রাণিত হবে। যার ফলে সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

 

প্রশংসা করলে যে শুধু ভালোই বলতে হবে বিষয়টা তেমন নয়। প্রশংসা শুধু প্রশংসাই নয়। প্রশংসার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন ভাবে করা যেতে পারে। ছোট্ট একটা হাসিও অনেক সময় প্রশংসার বিকল্প হয়ে কাজ করে। ছোট্ট একটা ধন্যবাদও সম্পর্কে এনে দিতে পারে নতুন প্রাণ। তাই দৈনন্দিন জীবনে চলতে নিজের মধ্যে প্রশংসার মনোভাব রাখা খুব প্রয়োজন।

 

মনে করুন, আপনি আপনার কোনো আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলেন। সেখানে আপনাকে কোনো উপহার দেয়া হলো। যদিও উপহারটি আপনার মনমতো হয়নি তারপরও আপনি একটা ধন্যবাদ দিতে পারেন বা বলতে পারেন উপহারটি খুব সুন্দর হয়েছে। এতে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

 

ধরুন, আপনার কোনো বন্ধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে বা আপনার কোনো সহকর্মীর পদোন্নতি হয়েছে। তাদের এই সাফল্যে আপনি খুশি হোন। অভিনন্দন জানিয়ে তাদেরকে একটা ‘খুদে বার্তা’ পাঠান। এই বিষয়গুলো সম্পর্ক সুন্দর করতে অত্যন্ত জরুরি। আবার ধরুন, আপনার কোনো ছোট ভাই বা বোন কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু সে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে নিজের নাম লেখাতে পারিনি। এতে করে তাকে নিয়ে কখনো বিদ্রুপ বা হাসি-ঠাট্টা করবেন না। এতে সে মনের দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে। বরং তাকে আরও উৎসাহ দিন। অনুপ্রাণিত করুন। তাকে বোঝান অংশগ্রহণ করাটাই অনেক বড় বিষয়। এতে করে সে আবার সাহস পাবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া স্বজনদের কখনই নিরুৎসাহীত করা যাবে না। মনে রাখবেন, এই সামান্য কটাক্ষও যদি করেন এতে তার মানসিকভাবে ছোট হবার পাশাপাশি জীবন যুদ্ধ থেকেও পিছিয়ে দিচ্ছেন।

 

একটি পরিবারে অনেক সদস্য থাকে। সকলের আনন্দে আপনিও আনন্দিত হোন। আপনি যদি একজনের ভালো দিক গুলো আলোচনা করেন। তাহলে দেখবেন আপনার ভালো দিকগুলো নিয়েও কেউ না কেউ আলোচনা করছে। শুধু  প্রশংসা করলেই যে সম্পর্ক সুন্দর হবে বিষয়টা এমন নয়। তবে সম্পর্ক সুন্দর করার ক্ষেত্রে প্রশংসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।