Skip to content

২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শীতে হাড়ের ব্যথায় করণীয়

ষড়ঋতুর পরিক্রমায় প্রকৃতিতে এখন শীত আসছে। উত্তরাঞ্চলে আবার শীত একটু আগেই পড়ে যায়। বাংলাদেশে শীত বেশ ভালোই পড়ে। শীত আসলেই মানুষদের যে সমস্যাটা বেড়ে যায় তা হলো হাড়ের ব্যথা। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষই হাড়ের সমস্যায় ভোগে। এছাড়াও হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা, বাত ব্যথা শীত আসলেই বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা এই হাড়ের ব্যথায় বেশি ভোগে। আবার অনেক কমবয়সীদেরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাড়ের ব্যথা হলে যেকোনো কাজ করতে, উঠতে-বসতে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হয়। অনেক সময় নড়াচড়া ছাড়াও অসহ্য ব্যথা হয়। শীত আসলেই অনেকের এই হাড়ের ব্যথা দেখা দেয় নয়তো আগের ব্যথাই আবার ফিরে আসে।

 

শীতকালে হাড়ের ব্যথা বাড়ার কারণ হলো ঠাণ্ডায় তাপমাত্রা কম থাকায় হাড়ের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। রক্তের তাপমাত্রাও কমে যায়। ফলে জয়েন্ট সমূহের প্রদাহ বৃদ্ধি পেয়ে জয়েন্ট বা গাঁট শক্ত হয়ে ফুলে উঠে। ফলে সেখানে প্রচুর ব্যথা হয়। বিভিন্ন জয়েন্টের চারপাশের ত্বক বেশি ঠাণ্ডা হলে স্নায়ু প্রান্তগুলো বেশি সংবেদনশীল হয়। এতে হালকা ব্যথার যন্ত্রণাও তীব্র অনুভূত হয়। এজন্য শীতকালে কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেলে বা সামান্য আঘাত পেলে ব্যথা অনেক বেশি হয়। তাই হাড়ের সামান্য ব্যথাও তীব্র ও অসহ্য অনুভূত হয়।

 

আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে হাড়ের ক্ষয় দেখা দেয়। আবার লিগামেন্টের দৈর্ঘ্য ও নমনীয়তাও হ্রাস পায়। এর ফলে হাড়ের জয়েন্টগুলো ফুলে যায় ও তীব্র যন্ত্রণা হয়। কেবল ব্যথাই নয় অনেক সময় হাত-পা অবশ হয়ে আসে, ঝিম ঝিম ধরে আসে, আবার ব্যথার প্রসারণও ঘটতে পারে। অনেকক্ষণ একভাবে থাকার পর চলাচলের সময় ব্যথা দেখা দিতে পারে।

 

ব্যথা নিয়ন্ত্রণে করণীয়

 

শরীরে একেবারেই ঠাণ্ডা লাগানো যাবেনা। শরীর সবসময় যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখতে হবে। কোথাও বাইরে গেলে অবশ্যই গরম পোশাক পরতে হবে। পায়ে হাতে মোজা ব্যবহার করা উচিত।

ব্যথা জায়গাগুলোতে গরম সেঁক করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। ব্যথা বাড়লে দিনে দুই তিনবার গরম সেঁক করলে ব্যথা কিছুটা উপশম হয়।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পানি বেশি খেতে হবে। লাল মাংস বা চার পা বিশিষ্ট পশুর মাংস, মিষ্টিজাতীয় খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার, ফাস্টফুড এগুলো খাবার বর্জন করতে হবে।

ব্যথা কমানোর জন্য সাধারণ ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে ইলেকট্রোথেরাপি, ম্যানুয়ালথেরাপি নেয়া যেতে পারে।

হাড়ের ব্যথার কিছু যোগব্যায়াম রয়েছে। এগুলো খুবই কার্যকরী। সকালে-বিকালে দুইবার করে বা দিনে অন্তত একবার করে ব্যায়াম করলে ব্যথা কিছুটা কমে। সাথে শরীরও সতেজ থাকে। ব্যথা খুব বেশি হলে অবশ্যই ব্যায়াম বন্ধ রাখতে হবে।

শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাবে মূলত ব্যথা হয়। ভিটামিন-ডি এর সবচেয়ে উত্তম উৎস হলো সূর্যের আলো। তাই প্রতিদিন রোদে এক/দুই ঘণ্টা বসে থাকতে হবে। এতে শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতিও কমবে আবার ব্যথা জায়গাগুলোয় গরম সেঁক লাগবে।

অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকাই ভালো। একঘণ্টা পর পর অবস্থান বদলানো উচিত।

প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

রাতে শোবার ক্ষেত্রে নরম বিছানার পরিবর্তে সমতল শক্ত বিছানায় শোয়া উচিত।

ভারি কাজ করা ও ভারি জিনিস তোলা যাবেনা। এতে করে ব্যথা আরও বাড়বে।

 

শীতে হাড়ের ব্যথা প্রশমনে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। হাড়ের যেকোনো ব্যথা হলেই অতি শীঘ্র অর্থোপেডিক ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ব্যথার প্রথমদিকেই যদি ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে সহ্য করা যায় তাহলে ব্যথা না কমে ক্রমেই বাড়তে থাকবে। পরে এটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সুতরাং হাড়ে বা জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিলে, হাত পা অবশ হয়ে আসলে, ঝিম ঝিম করলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।