Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ডায়াবেটিস নিরাময়ে জার্মানির উদ্যোগ

বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বহু পরিচিত রোগ। একে নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বে প্রায় ৪০ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে মৃত্যুর সপ্তম কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ এবং প্রতিবছর এক লাখের মতো নতুন রোগী বাড়ছে। জার্মানিতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময়ে জার্মানি কিছু কিছু সফল গবেষণা পেশ করেছে যা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব এনেছে।

 

ডায়াবেটিস হলে রোগীর অগ্নাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন উৎপন্ন করতে ব্যর্থ হয়। ইনসুলিন হলো এক প্রকার হরমোন যা গ্লুকোজকে মানুষের দেহের কোষগুলোতে পৌঁছে দেয়। ইনসুলিন উৎপাদন যদি ঠিক মতো না হয় তাহলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ইনসুলিনের নিঃসরণ কমে যায়। ফলে তাকে অনেক সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হয়। এক্ষেত্রে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিয়ে এর কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। ইনসুলিন নেয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

 

সুতরাং ডায়াবেটিস একেবারে নির্মূল করে ফেলাই উত্তম। অনেকেই মনে করেন যে একবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে আর এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তা একেবারেই ভুল। জার্মানির গবেষণা বলছে যে, ডায়াবেটিস একেবারে নিরাময় সম্ভব। কেবল কিছু নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিস পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়।

 

ডায়াবেটিস দেখা দেওয়ার প্রথম ছয় মাসের মধ্যে যদি ওজন কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তাহলে এটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে কোনো ওষুধ বা ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়না। কিন্তু প্রথম ছয় মাস একটু সাবধান থাকতে হবে। ওজন কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার তো অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। সাথে কোনো চর্বি জাতীয় খাবার যেসবে মেদ বাড়তে পারে সেসব একেবারেই প্রত্যাহার করতে হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ নিউট্রিশন শেক খাওয়া যেতে পারে। সাথে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতে হবে। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে এক ঘণ্টা করে হাঁটলেই হবে। কিছু যোগব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগব্যায়াম রয়েছে। সেগুলোর পাশাপাশি মেদ কমানোর কিছু ব্যায়াম করা যেতে পারে।

 

জার্মানির এই গবেষণা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বিপ্লব এনেছে। আগে মনে করা হতো ডায়াবেটিস হলে তা আর সারবার নয়। সারাজীবন রোগীকে ওষুধ খেয়ে যেতে হবে ডায়াবেটিসের। পরে এক পর্যায়ে হয়তো ইনসুলিনে অভ্যস্ত হতে হবে। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। ওষুধ ও ইনসুলিন ছাড়াও যে ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া যায় তা আবিষ্কার করেছেন জার্মানি গবেষকরা। ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি সম্ভব।

 

যেহেতু ডায়াবেটিস হওয়ার প্রথম ছয় মাসের মধ্যে নিয়মমাফিক চললে ডায়াবেটিস নিরাময় সম্ভব, তাই নিজেকে খেয়াল রাখতে হবে যে শরীরে কোনো ডায়াবেটিসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কিনা। ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো হলো,

 

ঘন ঘন প্রসাব হওয়া ও পানি পিপাসা পাওয়া

ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা

রাতে প্রসাবের কারণে বারবার ঘুম ভাঙ্গা

চোখে ঝাপসা দেখা

শরীরে ক্লান্তিভাব

ওজন কমে যাওয়া

শরীরের কাটাছেঁড়া সহজে না শুকানো

হাতেপায়ে ব্যথা ও অবশ হয়ে যাওয়া

 

যদি এই লক্ষণগুলি দেখা যায় তাহলে দ্রুত নিকটস্থ ডায়াবেটিস সেন্টারে গিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস হলে উপর্যুক্ত নিয়মমাফিক চলতে হবে। রোগী যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার রক্তনালী, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রথমদিকেই ডায়াবেটিস নিরাময়ে সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করতে হবে।