Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ভালো কাজের বিনিময়ে মিলছে খাবার!

'ভালো কাজের হোটেল ' নামটা শুনলেই মনে প্রশ্ন আসে কি হয় এখানে? সবাই মিলে ভালো কাজ করে? নাকি ভালো ভাবে কাজ করে হোটেল পরিচালনা করে? এমন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। তবে এখানে যা হয় তা হল ভালো কাজের বিনিময়ে খাবার পাওয়া যায় বিনামূল্যে। তারমানে ভালোভাবে কাজ করে দিলে খাবার পাওয়া যায়, এমনও নয়। বরং প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করলে মিলবে এই হোটেলে বিনামূল্যে খাবার। এই ব্যবস্থা সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্যও নয়। শুধু সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্যই এই উদ্যোগ।

 

প্রথমে সপ্তাহে এক বেলা এবং পরবর্তীতে প্রতিদিন একবেলা করে খাবার খাওয়ানোর এই অভিনব উদ্যোগ একদল তরুণের। একজন অসহায় পিতা মেয়ের চিকিৎসার জন্য মাত্র পাঁচ হাজার টাকার জন্য পথে পথে ঘুরতে দেখে একদল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ পাশে এসে দাঁড়ায়। সময়টা ২০০৯ সাল। সেদিনের ঘটনা থেকে ভাবনা আসে অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার। নিজেদের সম্পৃক্ত করেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। শুরু করেন কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় পথশিশুদের পড়ানোর কাজ। স্কুলে আসার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি করতে খাবার দিতেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সকলের কর্মব্যস্ত জীবন শুরু হয়ে যায়। তবে ভালো কাজ করার একটা প্রেরণা মনে রয়ে যায়। তাই ২০১২ সালে এই তরুণরা গড়ে তোলে 'ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ' নামে একটি ফেইসবুক পেইজ। যার মাধ্যমে কাজ করে দেশব্যাপী। অসহায় দুস্ত মানুষের জন্য সাহায্য নিয়ে ছুটে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। 

 

তারপর এই তরুণেরা ২০১৯ এ উদ্যোগ নেয় ছিন্নমূল মানুষদের খাবার দেওয়ার। তারজন্য বের করেন অভিনব পদ্ধতির। ভলো কাজের বিনিময়ে খাবার। অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করতে হবে।পরিকল্পনা মতে কমলাপুরের আইসিডি কাস্টম হাউজের কাছে একটি ফুটপাতে 'ভালো কাজের হোটেল' নাম দিয়ে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে বিনামূল্যে খাবার পেলেও পূরণ করতে হয় একটি ভালো কাজ করার শর্ত। খাবার দেওয়ার আগে সকলের প্রতিদিনের করা ভালো কাজটি লিপিবদ্ধ করা হয়। কেউ যদি কোনো ভালো নাও করতে পারে তবে তাকেও খাবার দেওয়া হয়। বরং পরদিন দুটো ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে এই হোটেল থেকে ২৫০-৩০০ জনকে খাবার দেওয়া হয়।

 

এই খাবার দেওয়ার অর্থ যোগানের জন্য তারা 'ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ' পেইজে একটি সদস্য দল তৈরি করেছেন যারা প্রতিদিন দশ টাকা এই হোটেলের জন্য জমা রাখেন। এর বাইরেও এই সদস্যরা আবার নিজেদের বিশেষ দিন উপলক্ষে মাঝে মাঝে খাবারের দয়িত্ব নেন। এভাবে করেই হোটেলের খাবার যোগান দিয়ে যাচ্ছে এই তরুণরা।

 

করোনার কারণে তারা হোটেলে ভিড় জমিয়ে খাবার দেওয়ার বদলে ভ্যানে করে এসব ছিন্নমূল মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছেন। শুক্রবার ছাড়া বাকি ছয়দিন দুপুর দেড়টা থেকে তিনটা পর্যন্ত চলে এই খাবার দেওয়ার কার্যক্রম। শুক্রবারে দেওয়া হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত নয়টা অব্দি। 

এই মহান অভিনব উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষগুলো যেমন খাবার পেয়ে থাকেন তেমনি প্রতিদিন ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন। যা সমাজে এনে দিতে পারে পরিবর্তনের নতুন ধারা।