Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতার আশ্বাস

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত নারীর ক্ষমতায়নসংক্রান্ত এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।

 

অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং দোহাটেকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ও ওরাকল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাবা দৌলা অংশ নেন।

 

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অনেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যায় পড়েছেন। পণ্য বাজারজাত করতে না পেরে অনেকে নানা রকম সংকটে আছেন। এ ধরনের নারী উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এ উদ্যোক্তারা কি ধরনের সমস্যায় আছেন, কি ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন- সেটা জেনে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যদিও অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। নারী উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যার মধ্যে রয়েছে পুঁজির সংকট, ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, বাজার প্রবেশের ক্ষেত্রে বিপণন নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ও তথ্যের সংকট। সরকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ডিজিটাল জ্ঞান বলতে শুধু ফেসবুক আর ই-মেইল চালানো বুঝলে হবে না। তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসার সুযোগ করে নিতে হবে। বিশেষ করে কোভিডে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আরও কি করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে। ড. শিরীন শারমিন বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে প্রযুক্তির সব ধরনের সুবিধা নিতে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন তিনি।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নে স্পিকারের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। নারী উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ ডিজিটাল জ্ঞান-বিজ্ঞানের সুযোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের সন্তানদের অনলাইন স্কুল করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।

 

দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। নারীরা এখন পুরুষদের তুলনায় শিক্ষায় ভালো করছেন। অনেক শিল্প এখন নারী কর্মীনির্ভর, তৈরি পোশাক খাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কৃষি খাতের ৫০ শতাংশ শ্রমিক নারী। প্রাণ-আরএফএলের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও অনেক নারী কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে নারীদের দরকার বন্ধুত্বের প্রসারিত হাত। এসব কথা বলেন প্রাণআরএফএল গ্রুপের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ও পরিচালক উজমা চৌধুরী।

 

নারী উদ্যোক্তারা বলেন, কোভিড-১৯-এর প্রভাবে কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাত ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে নারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নারী উদ্যোক্তারা আরেকটু সহযোগিতা পেলে ক্ষুদ্র থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা হতে পারবেন। এ ক্ষেত্র প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তারা যেসব বিষয় চিহ্নিত করেন, সেগুলো হলো অর্থায়ন, পুঁজি, করপোরেট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সামাজিক রীতি।