Skip to content

২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লকডাউন উপভোগ করবেন যেভাবে…

 

 

সময়ের সাথে যেকোনো দম্পতির মধ্যেই নিজেদের অভ্যাস, ভালো লাগা-মন্দ লাগা, খাবারের স্বাদ, পছন্দ-অপছন্দ পরস্পরকে প্রভাবিত করে। ভালো লাগা থেকেই হোক কিংবা এক সাথে থেকেই হোক, এভাবেই  দম্পতি এক সুরে বেঁধে যায় পরস্পরের সাথে। বছরের পর বছর একে অন্যের অংশ হয়ে যায়। আর অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, সময়ের সাথে একজনের অভ্যাস হয়ে যায় অন্যের । তাই, ভালো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলে তা আপনার সঙ্গীরও অভ্যাস হবে ভেবেই, ভালো অভ্যাস তৈরি করুন ।

 

আপনি কাজে যেমন সঙ্গীর অনুপ্রেরণা আশা করেন, তেমনি উনিও কিন্তু চাইবে আপনি তার কাজকে পছন্দ করেন। তাই তার মতামতগুলোকে উৎসাহিত করবেন, সাহস যোগাবেন। তার শক্তির উৎস হবেন। একজন জীবনসঙ্গীকে কাজ করার জন্য নিজেকে আরও শক্তিশালীকরণে অনুপ্রাণিত করে ।

 

আজ আপনাদের সাথে ৫টি দৈনন্দিন কাজ নিয়ে আলোচনা করবো, যা এই লকডাউন পরিস্থিতিতে আপনি সহজেই প্রতিদিনের রুটিনে যুক্ত করতে পারেন । এগুলো করোনার এই অনিশ্চয়তা আর অস্বস্তিতে নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ভালো করতে কাজে দেবে। সেই সাথে এগুলোর মধ্য দিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন চলমান এই লকডাউন পরিস্থিতি।

 

 

একসাথে শারীরিক অনুশীলন

 

বাসায় নিজেকে বন্দি না ভেবে, নিজের মধ্যে কথা বলুন। হাঁটা, দৌড়, ব্যায়াম তথা ফিট থাকার উদ্দেশ্যে নিজের মতো করে সময় বের করুন। প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একে অপরকে অনুপ্রাণিত করুন।

 

স্বাস্থ্যকর রান্না করুন

 

যেহেতু প্রতিদিন বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না, একসঙ্গে অনেক বাজার আর তা নিয়ম করে গুছিয়ে রান্না হচ্ছে, তাই নিজেদের খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করুন এবং কোন খাবারে স্বাস্থ্যকর আর পুষ্টিগুণ বাড়ছে সেইভাবে তৈরি করুন। স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো পর্যায়ক্রমে রান্না করুন, যা আপনার স্বাস্থ্যের আকার এবং সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।

 

নিজের জন্য সময় রাখুন

 

ঘরের মধ্যে একদম আটকে আছেন। এতটা সময় পাশাপাশি থাকার সুযোগ হয়তো অনেক কম হয়েছে। তাই পরস্পরকে আরো ভালো করে জানার চেষ্টা করুন। নিজের পছন্দের বই নিয়ে কথা বলুন। কোন কোন কাজে একজন অন্যজনকে সাহায্য করতে পারেন সেগুলো নিয়ে কথা বলুন। সব কাজ একজন না করে ভাগাভাগি করে নিলে পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা আর নির্ভরতা অনেক বেড়ে যাবে। বিকেলের নাস্তা বা সকালের নাস্তায় যদি স্বামী তার বউ কে সাহায্য করে, তবে তো কথাই নেই।

 

প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে দিন

 

আমরা সবাই কোন না কোনভাবে ভার্চুয়াল জগতে ডুবে আছি আর আতংকিত হচ্ছি। তাই কিছুটা সময় বের করে ফেসবুকিং করুন, তবে দিনের বাকি সময়টা পরিবারের সাথে কাটান, তাদের সাথে কথা বলুন। নিজের ভেতরের গুমোট ভাব কেটে যাবে। আপনার নিজেকে অনেক পরিপূর্ণ আর সুখী লাগবে।

 

একসাথে পরিষ্কার করুন

 

একসাথে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করুন। এতে করে পছন্দের কোন জিনিস কোথায় রাখলে কার কাছে কেমন লাগছে সেটা বুঝে নিতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতা সব এরকম পরিস্থিতিতেই আপনার মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। সেই সাথে নিজেদের বদ অভ্যাসগুলো ঝেড়ে ফেলুন।

 

বাসায় বাচ্চাদের সামনে কাজ করলে ওরাও শিখবে, নিজেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলবে। আপনার অজান্তেই তারাও বুঝবে সঙ্গীর সাথে ঠিক কেমন ব্যবহার করা উচিত। আগামী প্রজন্মও ভালো মানুষ আর দায়িত্বশীল হয়ে বেড়ে উঠবে।

 

লেখক: হুরাইরা শিশির
প্রতিষ্ঠাতা, বাটারফ্লাই ম্যাট্রিমনিয়াল