Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কার্টুন সমস্যা

কার্টুনের সঙ্গে শিশুর সখ্য বহু পুরনো। কোনো কোনো বাচ্চারা কয়েক কাঠি সরেস। তীর ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে ফুটফুটে এক পিচ্চির মুখে একটা জনপ্রিয় সংলাপ ছিল-তীর ছাড়া আমার চলেই না। সেটিকে খানিক ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে, কার্টুন ছাড়া আমার চলেই না! কার্টুন দেখে খায়, পড়ে, ঘুমায় এমন বাচ্চার সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। শিশুরা কোমলমতি। কার্টুনের হালকা চালের মজায় তাই নিজেদের দেখতে পায় তারা। কিন্তু কোনো কিছুতে আসক্ত হয়ে পড়া ভালো নয়। এ নিয়ে হালফিলে বাবা-মায়ের চিন্তার অন্ত নেই। শিশুরা যাতে কার্টুনে আসক্ত না হতে পারে, বা ইতোমধ্যে হয়ে গেলে সেখান থেকে বের করতে অভিভাবকদের জন্য রইল কয়েকটি টিপস…

আগে নিজে যাচাই করুন

একটা সময়ে মীনা, সিসিমপুর বা এইজাতীয় দেশি-বিদেশি কার্টুনগুলিতে তেমন ভারি বিষয়বস্তু ছিল না। যারফলে শিশুরা আনন্দটুকু ভালো করে গ্রহণ করতে পারত। ইদানীং বিভিন্ন কার্টুন প্রচারিত হয় যেগুলো শিক্ষামূলকের কম অন্যসব বেশি। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। সেসব কার্টুনে দেখানো নানান ফাঁকিবাজি, বিপজ্জনক সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা তারা করবেই। তাছাড়া, কোনটা ভালো কোনটা খারাপ অতটা বোঝার বয়স তাদের হয়নি। তাই অভিভাবক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো, আগে নিজে যাচাই-বাছাই করে জানুন। তারপর সন্তানকে দেখতে দিন।

সময় বেঁধে দিন


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সময়। শিশুকে যখন তখন কার্টুন নিয়ে বসতে দিবেন না। তাকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। প্রথম প্রথম হয়ত বায়না ধরে আরেকটু সময় বাড়িয়ে দিতে, ধীরে ধীরে মানিয়ে নেবে। এতে যেমন সময়ানুবর্তিতা সম্পর্কে অবগত হবে, তেমনি শিশুর কার্টুনের প্রতি ঝোঁকও কমবে।

ব্যস্ত রাখুন

ছেলে বা মেয়ে সন্তান যা-ই হোক, ঘরের কাজে সাহায্য করতে শিশুরা ভীষণ আগ্রহী হয়। সেই সুযোগে ওদের ব্যস্ত রাখুন। টুকটাক কাজ করতে বলুন। একদমই হালকা কাজ। হতে পারে নিজের ঘর গোছানো, টেবিল ঠিক করা, পানির গ্লাস এগিয়ে দেওয়া। এসবে আদতে সাহায্যের চেয়ে শিশুর মনোযোগ অন্যদিকে ধাবিত করাটাই মুখ্য।

খেলাধুলায় উৎসাহী করুন

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আর চারিদিকে যে হারে গড়ে উঠছে দালানকোঠা, বাইরে খেলার জায়গা বিলীন হচ্ছে দিনদিন। বাবা-মাও তাই বিকালের অবসর সময়ে সন্তানদের হাতে ধরিয়ে দেয় ফোন, ট্যাব অথবা কম্পিউটার। যাতে করে শিশুরা আরো সহজেই কাছাকাছি যেতে পারছে কার্টুনের। বরং বিকালে বাইরে খেলতে পাঠান সন্তানকে। একান্তই যদি উপায় না থাকে, অন্তত সাইকেল চালানোর মতো প্লেস বের করে দিন।

মিলেমিশে থাকতে শেখান


সময়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমরা মানুষ বেছে চলি। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের সমাজে এটিই এখন চলিত সত্য। এর বিরূপ প্রভাব শিশুদের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। নিজেরা যেমনই হই, শিশুদের ক্ষেত্রে অন্তত বিধিনিষেধ না চাপাই। এর সাথে মিশবে না, ওর সাথে খেলবে না এসব না করে মিশতে দিন। এতে করে বন্ধুদের নিয়ে ভাবনার জগৎ তৈরি হবে। নতুন নতুন গল্প সৃষ্টি হবে। ¯্রফে কার্টুন নয়, টিভির সামনে বসে থাকার বাজে আসক্তিও বহুলাংশে কমে যাবে।

সৃজনশীলতা বৃদ্ধি

অবসরে শিশুদের বিভিন্ন মাইন্ড গেম নিয়ে বসিয়ে দিন। পাজল হতে পারে, কিউব কিংবা সুডোকু হতে পারে। আঁকাআঁকিতে উৎসাহ দিন। নাচগান শিখান। তার বয়স অনুযায়ী বই পড়তে দিন। এসবের মাধ্যমে চিন্তায় যেমন গতিশীলতা, বিচক্ষণতা আসবে তেমনি কার্টুনের প্রতি আসক্তি উবে যাবে নিমিষেই।

নিজেরা সময় দিন

একজন শিশুর জন্য সবচেয়ে আনন্দের হচ্ছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটানো সময়। তারা পরিবারের কাছে সময় পেলে বাকি সব ভুলে থাকতে পারবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন বেড়াতে যান। প্রতিদিন সন্তানদের সময় দিতে চেষ্টা করুন। তাদের ভাবনা সম্পর্কে জানুন, কথা শুনুন। বাবা-মায়ের স্নেহ ভালোবাসার চেয়ে বড়ো দাওয়াই আর কিছু নেই।