Skip to content

১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কোথায়

নারীর জীবনে বেড়েছে সুযোগ কিন্তু কমে এসেছে নিরাপত্তা। নারীর নিরাপত্তা কোথায় এ নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকেরই। আর সেই আশঙ্কা নারীর জন্মের আগ থেকেই। কন্যাশিশু কি নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারবে সমাজে? নাকি সমাজের গ্লানি, কলুষতা আর অনিরাপত্তার করাল গ্রাস কেড়ে নিবে প্রাণোচ্ছল, আপনার প্রজাপতিটিকে?

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে। বেশ কিছুদিন আগেও পরিবহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি ঘটে যাওয়া নানা সহিংসতার কথা শোনা গেছে। যেন নারীর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার মানও কমতে শুরু করেছে।

নারীর জীবনের প্রথম সংকট শুরু হয় শিশুকাল থেকেই। এই সময়ে নারীর নিজ শরীরকে চেনার কোনো অবকাশ নেই। অথচ কন্যাশিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। কন্যাশিশু নিরাপদ নয় তার ঘরে কিংবা পরিবারে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও তার সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সচরাচর নারীর ক্ষমতায়নে নিরাপত্তা বিষয়ক পরিকল্পনা রাখা হয় না। অথচ অবকাঠামোর ভিত্তিতেই মূলত নারীকে সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দিতে হয়। সে প্রক্রিয়া শুরু হয় পরিবারে কন্যাশিশুর আদরের ওপর ভিত্তি করে। দেশে শিক্ষার প্রসার ও স্বল্প পরিসরে নারী-শিক্ষার প্রসারকে উৎসাহী করার চেষ্টা থাকায় পারিবারিক পর্যায়ে কন্যাশিশুদের তেমন অনাদরের মুখোমুখি হতে হয় না একথা সত্য। কিন্তু সীমিত পরিসরে। গ্রামীণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে কন্যাশিশুদের রাখা হয় অনাদরে।

কন্যাশিশুর পারিবারিক পর্যায়েও নির্যাতিত হতে দেখা গেছে। এমনকি শিশুধর্ষণের মতোও গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর পেছনের কারণ অনেকটা মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ব্যাপক পরিসরে এ নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। গণমাধ্যম ও বিভিন্ন পরিসরে শুধু বিষয়টিকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বিশাল একটি সময় ঘরে আবদ্ধ থাকার পর কন্যাশিশু আবার বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আগেও তার সেই সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। খোলা আকাশের নিচেই যখন তার এত বাধা সেখানে বাক্সেবন্দী জীবনটা আর কত ভালো হবে? তবে এখনকার পরিবর্তনটা একটু অন্যরকম। নিঃসঙ্গতার আদল থেকে বের হয়ে আসা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভেতর নিজস্ব জগতে থাকায় প্রলোভনের শিকার হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। অথচ আপনি জানতেও পারবেন না আপনার কন্যাশিশু তার সেই জগতটি কিভাবে নির্মাণ করে রেখেছেন।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং সবখানেই আপনার কন্যাশিশুকে আপত্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কখনো সহপাঠী, কখনো শিক্ষক এমনকি নিজেরই বান্ধবীদের কাছ থেকে। অনলাইন জগত, বাস্তব জগত এই দুয়ের মিশেলে কন্যাশিশুর মানসিক অপরিপক্বতা প্রলম্বিত হতে থাকে।

এককালে কন্যাশিশুকে নিয়ে ভয়ের মাত্রা ছিল অন্যরকম। বখাটেরা তাকে টিজ করবে। এমনকি এসিড ছুড়ে মারবে। সেই সহিংস পরিস্থিতি এখন কিছুটা কমেছে। কিন্তু আদতে কি আপনার কন্যাশিশু নিরাপদ? স্কুলে, কলেজে শিক্ষকরাই নিরাপদ নন। এমনকি কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বাড়তে শুরু করেছে এলাকাভিত্তিক পরিসরে। সেখানে আপনার কন্যাশিশু এমনকি আপনিও কি নিরাপদ?

প্রযুক্তির বদৌলতে নর-নারীর যৌন সৃজনশীলতা বুঝে ওঠার বয়স হওয়ার আগেই কিশোর-কিশোরীরা জানতে শুরু করেছে সব। ফলে কাজের পরিণাম না ভেবেই আপনার কন্যাশিশু নিজ সম্মতিতেই বিপদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে আমাদের ব্যক্তিগত দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বের মতো প্রযুক্তিকে আমরা গ্রহণ করেছি কিন্তু নিরাপত্তাকে কখনই জোর দিতে শিখিনি।

কন্যাশিশুকে ঘরের বাইরে যেতে না দেওয়া কিংবা সবসময় চোখে চোখে রাখাটা সেই বেঁধে রাখার মতো করেই বা করতে হবে কেন? Parental Mode নামে বেশ কিছু পদ্ধতিতে আজকাল শিশুদের প্রযুক্তির ব্যবহার সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। অন্তত প্রাপ্তবয়স্ক না হলে যেসকল প্রযুক্তি তাদের ব্যবহার করতে নেই তা তো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আমাদের নিজস্ব সামাজিক গোঁড়ামি থেকেও কন্যাশিশু নিরাপদে নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার সুবিধা অর্জনে তার যেমন থাকে বাধা তেমনই নিয়মিত গ্রাস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। পথঘাটে তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে যে কারো দ্বারাই – সেটা কোনো সেবামূলক কার্যক্রম থেকেই। তাহলে উপায় কী? নারী কি তবে পরিবহনের সুবিধা ভোগ করবে না? আপনার কন্যাশিশুকে সবসময় একজনের ওপর নির্ভর করেই সবকিছু করতে হবে?

নাকি এই মুহূর্ত থেকেই সংকট নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে?

অনন্যা/এআই