Skip to content

১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসাসেবায় নারীরা আগ্রহী কেন

চিকিৎসাক্ষেত্রে নারীদের সুনাম বহুদিন ধরেই। ইতিহাস বলছে, রেনেসাঁর পর থেকেই চিকিৎসাখাতের পথ ধরেই নারীরা নিজেদের মেলে দিয়েছিল। তারমানে এই নয় যে বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ একেবারেই ছিল না। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে অংশগ্রহণের তুলনায় বেশ কম।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি সূত্রে একটি গবেষণার কথা জানা যায়। সেই গবেষণার জন্যে আমেরিকার প্রায় ১৫ লক্ষ হাসপাতালে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরুষ ডাক্তাররা যদি নারী ডাক্তারদের মতো বয়স্ক রোগীদের যত্ন নিতো তাহলে অন্তত ৩২ হাজার মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হতো। বছরে ৩২ হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সহজ কথা নয়।

সচরাচর ছেলেরা প্রকৌশল বা পিউর সায়েন্সে পড়ালেখার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহ দেখিয়ে থাকে। উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের প্রাধান্য মেডিক্যাল, জীববিজ্ঞান, ফার্মাসি বা বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতেই থাকে বেশি। এমনটা কেন? এর পেছনে সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক বা সামাজিক প্রভাব কতটুকু? এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়াটা মুশকিল।

প্রথমে আমাদের ভেবে দেখতে হবে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল; এই দুটো ক্ষেত্রের মধ্যে পার্থক্য কতটুকু। সচরাচর মেয়েরা সেবামূলক কার্যক্রমে বেশি অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। সামাজিকভাবে তাদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। যুগ-পরিবর্তনের সঙ্গে নারীকে দমিয়ে রাখার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এসেছে স্বাধীনতা। তবে নিরাপত্তা কমেছে অনেকাংশে। নিরাপত্তার অভাবেই নারী তার স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পারেনা। নিজের কর্মক্ষেত্র নির্বাচনে তাই নারী কিছুটা স্বাধীনতা আশা করে। সেই স্বাধীনতার আশায় সচরাচর সেবামূলক কার্যক্রম অথবা উদ্যোক্তা হওয়ার দিকেই ঝোঁক থাকে বেশি। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবী হতে চাইলে নারীরা সচরাচর ডাক্তারি পেশার সঙ্গেই বেশি সংযুক্ত হতে চায়।

মেডিক্যালে পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে ভিন্নভাবে। এমনকি রোগীদের চিকিৎসা করার ক্ষেত্রেও তাদের পদ্ধতিগত ভিন্নতা আছে। মেয়েরা সবসময় বেশ গোছালো। তাই খুব সহজেই বিরাট পড়ার চাপ তারা গুছিয়ে নিতে পারে। এমনকি প্রতিটি কাজে মনোযোগী হওয়ার ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের ফলাফল চোখে পড়ে। একজন নারীর পরিপূর্ণতা মাতৃত্বে। সচরাচর নারী ও প্রসূতিবিদ্যার মতো ক্ষেত্রে নারীরা অধ্যয়নে বেশি আগ্রহী হন। খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ও অন্যান্য কিছু ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ আছে। যদিও সার্জারি ও মেডিসিন ক্ষেত্রটি এখনো পুরুষের দখলে।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করেছে। সামাজিক মর্যাদার বিচারে চিকিৎসক হওয়াটা এখনো সবার প্রথমে। বিশেষত করোনা মহামারির পর নতুন করে চিকিৎসাক্ষেত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্মানবোধ বাড়তে শুরু করেছে। সেজন্যেই পেশার ক্ষেত্রে শিক্ষকতার পাশাপাশি চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছেটা মেয়েদের মধ্যে থাকে বেশি।

এটি অবশ্য একটি ধারণা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, মেডিক্যালে মেয়েরা স্বাধীনতা পায়। নারীরা এখনো গ্রুপওয়ার্ক বা একত্রিত হয়ে কাজ করার মতো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি। বলা যায় তাদের জন্যে যথাযথ নিরাপদ পরিবেশ এখনো নিশ্চিত হয়নি। আর কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতার মাঝে মেডিক্যাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মেডিক্যালে শিক্ষকতার চেয়ে সেবামূলক কার্যক্রমেই মেয়েদের আগ্রহ বেশি। এসব কিছু ইতিবাচক হলেও কিছু নেতিবাচক দিক তো আছেই।

নারীরা মূলত শহুরে পরিবেশেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ফলে গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো পরিপূর্ণভাবে ভালো চিকিৎসক নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এর দায় অনেকাংশে অবকাঠামোর উপর বর্তায় তো বটেই। মূলত অবকাঠামোগত সমস্যার জন্যে চিকিৎসাখাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তাদের ছড়িয়ে পড়ার বাঁধা আছে। এ তো গেলো একটি দিক।

মেডিক্যালে নারীরা মূলত নারী ও প্রসূতিবিদ্যার সঙ্গেই বেশি সংযুক্ত হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন প্রচেষ্টা এখনো দেখা যায়নি। বাংলাদেশের চিকিৎসাখাতে নারীদের অংশগ্রহণের ফলে লাভের পাল্লাটা একটু ভারী। বাংলাদেশের সামাজিক পরিস্থিতি বিচারে নারীরোগের ক্ষেত্রে অনেকেই নারী ডাক্তারের কাছে যেতেই বেশি আগ্রহ পান। তাই পারিবারিকভাবেই মেয়েদের মধ্যে মেডিক্যালের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো হয়। আমাদের দেশে প্রকৌশল এর বিভাগগুলো সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা নেই।

শুধু ইঞ্জিনিয়ার বললেই বিস্তৃত অঙ্গনের চিত্র পাওয়া যায় না। মেডিক্যালে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিবাচক হলেও ভবিষ্যতে সংকটের আশঙ্কা পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। সেজন্যে নারীদের মেডিক্যালেই বিভিন্ন বিষয়ে যেমন আগ্রহ বাড়াতে হবে তেমনই অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা রাখতে হবে।

অনন্যা/এআই