Skip to content

গবাদিপশু নিয়েই ছাদে ঠাঁই—ফেনীতে অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতা

গবাদিপশু নিয়েই ছাদে ঠাঁই—ফেনীতে অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতা

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ফেনীর বহু গ্রাম। নদীর পানি কিছুটা কমলেও ভাঙা বাঁধ দিয়ে নতুন নতুন এলাকায় ঢুকছে পানি। ফলে ঘর ছেড়ে ছাদে বা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিচ্ছেন বানভাসি মানুষ।

ফুলগাজী উপজেলার দক্ষিণ আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা তনিমা সুলতানার ঘরে বুধবার (৯ জুলাই) রাতে পানি ঢুকে পড়ে। তলিয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র। পরে গবাদিপশু নিয়ে পরিবারসহ আশ্রয় নেন পাশের দোতলা বাড়ির ছাদে।

এই বাড়ির মালিক শাহজাহান মজুমদারের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে আরও অন্তত দশটি পরিবার। একই রকম দুর্ভোগ চলছে পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও ফেনী সদর উপজেলার বহু গ্রামে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম।

দক্ষিণ আনন্দপুরের বাসিন্দা আলো মজুমদার বলেন, গত বছরও আমরা প্রতিবেশীর ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এবারও একই অবস্থা। ঘরে এখনো হাঁটু পানি। সুপেয় পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।

আলীম নামে একজন বলেন, এটা আমার মামার বাড়ি। বাড়ির মালিক বাইরে থাকলেও ছাদ খুলে দিয়েছেন সবার জন্য। এখানকার দশটি পরিবার অনেক কষ্টে দিন পার করছে।

ফেনীর জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সদর উপজেলার আংশিক এলাকায় বন্যাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। জেলার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৬ হাজার ৮২৬ জন।

পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে মাঠে কাজ করছেন ৯০ জন স্বেচ্ছাসেবক। ছয়টি উপজেলায় ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, জেলায় গত চার দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার জানান, “নদীর পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে। পানি কমলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে।

ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় দুর্যোগে আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ। আমরা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।