Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যৌনতার অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মেলবন্ধন

দেশব্যাপী পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা ৬৩ ভাগ পুরুষ মনে করেন স্ত্রী যৌনসঙ্গমে অনাগ্রহী হয় তাহলে তাকে প্রহার করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়া উচিত৷ নারীরা ও মনে করেন স্বামীকে যৌনসঙ্গমে সুখী রাখাটা তাদের দায়িত্ব৷এই জ্ঞান নারীদের মাঝে একটা বড় সময় ধরে আরোপ করে আসা করে আসছে এই সমাজ। নারীর কর্ম কি কি এবং কি কি না সে একটা বিরাট তালিকা। নারীর পা থেকে মাথা অবধি কানুনের ধরাবাঁধা একটা ঐতিহ্যের মত।

যৌনতার অধিকার, যৌন নির্যাতন, নিপীড়ন নারী জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনাই বলা যায়। প্রতিটি নারী কখনো না কখনো তার জীবনে যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়৷ এটা কেউ কেউ ভুলে যেতে পারে৷ কেউ কখনোই পারে না। কেউ কেউ এই সব স্মৃতি ধারণ করে একটা সারাজীবন একটা ক্ষত নিয়ে বেড়ায়। এই সব ক্ষতের পরিণাম প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এই প্রভাবে মানসিক স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ে আছে। যৌন নিপীড়নের ক্ষত জয় করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা অবশ্যই বড় ব্যাপার।

বৈবাহিক ধর্ষণ বাংলাদেশে একটি নতুন ঘটনা নয়। অনেক দিন আগে থেকেই বৈবাহিক ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে নারী। কিন্তু যৌনশিক্ষা নিয়মিত কার্যকর না থাকায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা বুঝতে পারে না, এটা আদৌ ধর্ষণ কি না। বুঝলেও সেটা নিয়েই নিজেকে একটা গর্ববোধের ধারণা দেয়। কারণ নারীর অনেক দায়িত্বের মধ্যে ধর্ষণে চুপ থাকাটাও অন্যতম একটা দায়িত্ব বলে বিবেচিত। কারও সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করলেও সে বিষয়টা অনেকে বুঝতে পারে না। কারণ ম্যারিটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যাপার নিয়ে অনেকেরই ধারণা স্পষ্ট নয়। নারীকে এই যে বৈবাহিক ধর্ষণের স্বীকার হতে হয়। এর আরেকটা দিকও রয়েছে।

যেহেতু সেক্স এডুকেশন স্কুলিংয়ের ক্ষেত্রে এ দেশে পরিসীমা কম। সেহেতু লোকে যতটুকু জানে, সেটা ছেলে-মেয়ে যৌনসঙ্গমে সন্তান জন্ম দেবে, এর বাইরে কিছু চিন্তা করা হয় না।

২০২১-এ হয়তো মানুষ LGBTQ কমিউনিটি সম্পর্কে জেনেছে বা জানে কিন্তু এসেক্সুয়ালিটি বলেও যে একটা বিষয় রয়েছে, সেখান থেকে হাসি উদ্রেকের সীমা ছাড়াতে পারেনি।

এসেক্সুয়ালিটিকে বাংলাদেশ এসেক্সুয়াল এসোসিয়েশন(BDAA) অনুবাদ এনেছে দুইভাবে। এক অযৌনচিত্ত আরেকটা হচ্ছে অপ্রেমময়ী। BDAA এখন পর্যন্ত ২০ জনকে খুঁজে পেয়েছে, যারা নিজেকে অযৌনকামী বলে জানিয়েছেন। অযৌনচিত্ত মূলত বুঝতে পারার উপায় হচ্ছে একটি অনলাইন পরীক্ষা। পারসোনালিটি টেস্টে যেমন করে মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব নিরূপণ করতে পারে, এই পরীক্ষাটাও সেরকম।

এখন আসি অযৌনচিত্ত ব্যক্তি হওয়ার কারণে মানুষের কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, অযৌনচিত্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণত নারী হয়। বাকিরা নন-বাইনারি। তবে এই নারীদের মধ্যে যারা অযৌনচিত্ত বা এসেক্স্যুয়াল তাদের, নিত্যদিন বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে৷ অনেকে এই বিষয়ে কাউকে বলতে গেলে কখনো হাসির পাত্র হচ্ছে, কখনো বা তাকে একজন অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন মেডিকেশন অথবা থেরাপির আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

নারীর প্রতি ধরাবাঁধা সঙ্গম কিংবা নারীকে জোর করে সঙ্গমে বাধ্য করার নজির অনেক রয়েছে৷ অনেক খবরাখবরে জানা গেছে, ১৩ বছর বয়সী বালিকার অনিরাপদ যৌনতার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে। অনেকে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। এই সব বিষয়বস্তু হেলা করার মতো নয়। এছাড়া যৌনসঙ্গমে অনিচ্ছুক হওয়াটা হয়তো গতানুগতিক ধারার বাইরে, তবে অস্বাভাবিক নয়।

মানুষের সেক্সুয়ালিটিকে আমরা যতটা একে একে দুই মনে করি, আসলে ততটা নয়। এর বিস্তার অনেক বেশি। সবেচেয়ে বড় কথা, এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য জড়িত। এসেক্সুয়ালিটি বা অযৌনচিত্তকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া উচিত। কারণ মানুষের স্বাভাবিকতার আরেক অংশ এটাকেও বলে। নারীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ভোগের বস্তু বানানো বন্ধ করতে হবে৷