Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওর রাগ বেশি, কিন্তু মানুষ ভালো!

সম্পর্ক বিষয়টি একটি পারস্পরিক সম্মানবোধ থেকে আসে। যে সম্পর্কে সম্মান নেই, সে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। তবু নারীদের সম্মান জলাঞ্জলি দেওয়াটা একটা নিয়মিত আয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যে ছাড় দিতে তৈরি থাকে, সেটাকে ‘স্টকহোম সিন্ড্রোম’ বলে।

আরও বিস্তারিতভাবে বললে বলতে হয়, যখন সব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করে কোনো সুক্ষ্ণ বিষয়কে আপন করে নিয়ে কোনো সম্পর্কে নারী টিকে থাকে, তখন তাকে স্টকহোম সিন্ড্রোম বলে। নারীকে হাজার বছর ধরে সম্পর্কের হাল ধরার জন্য একটা সমঝোতার শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিবার থেকে। এই সমঝোতা করার সমস্ত দায় নারীকেই নিতে হয়। কারণ সম্পর্কে পারস্পরিক দায়িত্ব বলেও যে কিছু আছে, সেটা এই সমাজ নয়, পুরুষকে শিখিয়েছে নারী। তাই পারস্পরিক দায়িত্বহীন সম্পর্কের হাল যখন নারীই ধরে তখন, নারীদের মুখে প্রচলিত একটা কথা বলতে খুব শোনা যায়, ‘ওর রাগ বেশি কিন্তু ও মানুষ ভালো।’

যে মানুষ নিজের রাগ কোথায় দেখাবে, কোথায় দেখাবে না, এটা ঠিকমতো জানে না, সে কোন মানুষের মূল্যায়ন তার জীবনে সবচেয়ে বেশি, সেটাও জানে না। এমনকি কোন সম্পর্ককে যত্ন নিতে হবে, এটাই ঠিকমতো জানে না৷ এমন স্বভাব যার ভেতরে রয়েছে, সে কিভাবে মানুষ ভালো হয়? রাগ যেখানে একজন মানুষের প্রবৃত্তি, সেখানে রাগ নিয়ন্ত্রণ করাটাই একটা মানবিক আচরণ। কিন্তু নারীদের সেই হাজার বছর ধরে পাওয়া শিক্ষা, সেই শিক্ষা বলে পুরুষ একটু যেমন তেমনই হবে কিন্তু নারীকে হতে হবে সহনশীল। তাকে সব মেনে নিয়ে সংসার, সম্পর্ক আর সন্তান পালন করতে হবে।

কিন্তু এই শিক্ষা যে নারীকে মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দেয়, সেটা কারও কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। কারণ সে অন্তত বেঁচে তো আছে। ভাত-কাপড়ের জায়গা তো এখনো আছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ক্ষমতা বড় ক্ষমতা। পুরুষ যেখানে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী, সেখানে তারা অধীনস্থ নারীকে এত সম্মান আর কেনই বা দেবে!

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী যদি নারীরা হয় তাহলে ঘর দেখবে কে? আর স্বাবলম্বী মানুষেরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে বোঝে৷ মেয়ে মানুষ বুঝে গেলেও তো আবার একটা সমস্যা৷ তখন আবার নিজের অধিকার চেয়ে বসবে।

যাই হোক, নারীদের এই মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে রাখার কার্যক্রম হাজার বছরের একটা প্রথা। সেই প্রথা আধুনিক যুগেও আধুনিকতার সঙ্গে টিকে আছে। হয়তো নারীদের ম্যানুপুলেট করার জন্য এখন অল্পতেই গায়ে হাত তোলা হয় না। কিন্তু মানসিকভাবে অনেক অংশেই এখনো নারীরা পিছিয়ে থাকে। কারণ এটাকেই তারা স্বাভাবিকতা হিসেবে মেনে নিয়েছে৷ তারা এখনো মনে করে, পুরুষের কাজ বুঝি বাইরে কাজ করে ঘরের ভেতরে এসে ‘খ্যাট-খ্যাট’ করা।

নিজের পরিবার আর সমাজে নারীরা দেখে অভ্যস্ত যে, পুরুষেরা এরকমই হবে। তাই মানিয়ে নেওয়ার গুরু দায়িত্বটা তার। নারীর বাইরে কাজ করাটা তার নিজের জন্যও একটা বিলাসিতা হিসেবে গণনা করে সে। এছাড়া, পুরুষের রাগ নিয়ে প্রচলিত কিছু বৈধতা তো তার মগজ ধোলাই করছেই৷

আর তাই নারীরা মনে করে, পুরুষ মানুষের রাগ বেশি হলেও হয়তো সে মানুষ হিসেবে খারাপ নয়। কিন্তু এতটুকু সে বুঝতে চায় না যে, সে নিজে কোনো ঘরের সাজানো পুতুল নয়। সে নিজে কোনো কেনা ক্রীতদাসিও নয়৷ সে একজন আলাদা মানুষ। একজন স্বতন্ত্র সত্তা। যার সঙ্গে রাগ দেখানো, কিংবা অপদস্থ করার মতো অধিকার কারও নেই।

অনন্যা/জেএজে