Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

গণপরিবহনে নারী-পুরুষের জন্য সমান সিট হোক

দেশের সংবিধান বলছে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো। সমানাধিকারের চর্চা দূরে থাক, তিন ভাগের একভাগও নারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় না। বলছি, গণপরিবহনে নারীদের আসন বরাদ্দের কথা! কিন্তু নারী-পুরুষের সমান সিট বরাদ্দ নয় কেন? আমরা জানি, জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ নারী। এই নারীরা অনেকেই কর্মজীবী আবার অনেকেই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী। শুধু কি তাই? যারা গৃহিণী, তারাও কি ঘরের বাইরের কাজে গণপরিবহন ব্যবহার করেন না?

নারীদের বৃহৎ অংশ যেহেতু সাশ্রয়ী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গণপরিবহনকে বেশিই ব্যবহার করেন, সেহেতু তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব গাড়িতে অর্ধেক সিট বরাদ্দ করা উচিত ছিল। ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি সাধারণ যাত্রীবাহী বাসে নারী-শিশু-প্রতিবন্ধীদের জন্য মাত্র নয়টা সিট বরাদ্দ। তবে সেটাও কী বরাদ্দ থাকে! এই নয়টি সিট কেন নারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয় গণপরিবহনে!

নারীরা যেহেতু জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, সেহেতু মানবিক হিসাব বাদ দিয়ে গাণিতিক হিসাব করলেও অর্ধেক সিট নারীদের জন্য বরাদ্দ করা প্রয়োজন। নারীদের জন্য অর্ধেক সিট বরাদ্দ রাখলে নারীরা গণপরিবহনে অনেকটা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। কন্ডাক্টর থেকে শুরু করে পুরুষ যাত্রীদের অযাচিত হাতের স্পর্শ থেকে রক্ষা পাবেন। একজন পুরুষ যাত্রী যতটা সহজে গণপরিবহনে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, একজন নারীর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।

কারণ প্রথমত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে, দ্বিতীয়ত গণপরিবহনের আকস্মিক ব্রেক। ফলে একে তো নারী অন্য সহযাত্রীদের থেকে অযাচিত স্পর্শ এড়াতে কোণঠাসা হয়ে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তার ওপর গণপরিবহন চালক, হেল্পার, কন্ডাকটরের ‘বাজে’ আচরণও রয়েছে!

আবার যে নয়টি সিট তিন ক্যাটাগরির জন্য বরাদ্দ, সেখানেও পুরুষরা দখল করে বসে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষেরা জায়গাটা ছাড়তেও চান না!

গণপরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত চাপের ফলে এবং নারীদের জন্য অর্ধেক সিট বরাদ্দ না থাকার কারণে সকালে স্কুল-কলেজ এবং অফিসগামী নারীদের পড়তে হয় বিপাকে! একদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছানোর তাড়া অন্যদিকে গণপরিবহনের লোকদের অসদাচরণ! অনেক ক্ষেত্রে নারী দেখলে বাসের হেলপারেরা বাস সেখানে থামানই না। এতে নারীদের জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক নারী গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকায় জোর করে গণপরিবহনে উঠে পড়েন। এরপর তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। পুরুষ যাত্রী বা বাসের কন্ডাকটর, হেলপারেরা নানারকম কটূকথা বলেন। ফলে নারীকে হতে হয় বিব্রত, অপমানিত!

তাহলে নারীরা কোথায় যাবে? তাদের জন্য তো অফিস বা স্কুল-কলেজ সময় পিছিয়ে যাবে না! এই পরিস্থিতিতে নারীদের সঙ্গে ঘটে আরও একটি অঘটন! নারীদের বাসে ওঠানো-নামানোর সময় যেহেতু গতি কমায় না, সেহেতু তাকেও পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাস ধরতে হয়, বাস থেকে নামতে হয়। সেক্ষেত্রে সহযাত্রীরা যেমন সুযোগ গ্রহণ করেন, ঠিক তেমনি কন্ডাকটরও নারীদের শরীরে হাত দেওয়ার সুযোগ হারাতে চায় না। এজন্য তারা অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছলনার আশ্রয় গ্রহণ করে। গেটের মধ্যে হাতটা এমনভাবে রাখে, মনে হয় নারীকে খুব সাবধানে বাসে ওঠাতেই তারা যত্নশীল। বাস্তবে ঘটনা ভিন্ন। বাসে ওঠার সময় নারীরে আপত্তিকর স্পর্শ করাই তাদের লক্ষ্য।

এসব কারণে নারীরা গণপরিবহণে থাকে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। এই সমস্যা থেকে নারীকে মুক্তি দিতে গণপরিবহণে অর্ধেক আসন বরাদ্দ করা উচিত। গণপরিবহনকে নির্দিষ্ট স্টপেজে থামাতে হবে। নারীদের ওঠা-নামার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গণপরিহনগুলো অপেক্ষা করতে হবে। তবেই গণপরিবহণে নারী হয়রানির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমবে।

অনন্যা/জেএজে