Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সন্তানের দেখাশোনা করার দায়িত্ব মায়ের একার নয়!

কোনো দম্পতি যখন সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের দুজনেরই চিন্তা করা উচিত, সন্তানের লালন-পালন তারা কিভাবে করবেন। সেজন্য পর্যাপ্ত পড়াশোনা ও প্যারেন্টিং বিষয়ক জ্ঞান থাকতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বটা ছেড়ে দেওয়া হয় মায়ের কাঁধের ওপর। সন্তান ঠিকমতো পড়লো কি না, খাবারটা খেলো কি না, সন্তানের আচার-আচরণে কতটুকু শালীনতা আছে বা নেই, তার সব দায় চাপিয়ে দেওয়া হয় মায়ের ওপর।

কিন্তু সন্তানের পরা , খাওয়া ও তাকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্ব সমানভাবে মা ও বাবার থাকে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, মা খুব চেঁচামেচি করা মানুষ। সারাক্ষণ এটা ওটা নিয়ে শুধু বকাঝকা করেন। আর কথায় কথায় শুধু দুশ্চিন্তা করাই মায়ের স্বভাব। আর বাবারা হচ্ছেন খুব মজার মানুষ। তার কাজ হচ্ছে সন্তানকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া আর চকলেট কিনে নিয়ে আসা। মানে বাবা একটা উৎসবের মতো।

স্বাভাবিকভাবে এমন মা-বাবার পার্থক্য থাকলে সন্তানেরা তাদের বাবাকে এবং মাকে ভিন্ন চোখেই দেখবে। মা রান্নাঘরে চুলার কাছে থাকবেন আর বাবা বসে পত্রিকা পড়বেন আর চা খাবেন, এটাই সন্তন্দের কাছে বাবা-মায়ের চিত্র। একারণে যখন সন্তান বড় হয়, তখন তার নিজের সংসার গোছানোর সময় সে নিজের বাবা-মায়ের সংসারের কথা স্মরণ করে। তার বাবা-মায়ের যে সংসার ছিল, সেটাই তার কাছে আদর্শ সংসার। সেভাবেই সে নিজের সংসারটাকে পরিচালনা করে।

সন্তান লালন-পালনের জন্য প্যারেন্টিংয়ের কিছু কোর্স করা যেতে পারে। সন্তানের লালন-পালনের জন্য একজন পুরুষ কিভাবে কাজ করতে পারে, সেগুলো ওইসব কোর্সে শেখানে হতে পারে। অধিকাংশ মানুষই মনে করে, নারীদের তো ভেতরেই একতা মাতৃত্ব বোধ থাকে। একজন নারীই পারে সন্তান লালন-পালন করতে ।

সন্তানের অনেক কিছু হয়তো পুরুষ নাও বুঝতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরুষ কিভাবে সাহায্য করতে পারে? সন্তানের মাকে সাহায্য করে অনেকটুকু কাজ এগিয়ে দেওয়া যায়।

সন্তান লালন-পালনের জন্য কিছু লিঙ্গ নিরপেক্ষ কাজ আছে, সেগুলো হলো, সন্তানের সঙ্গে খেলাধুল করা, সন্তানকে খাওয়ানো, সন্তানের ডায়াপার চেঞ্জ করা এবং সন্তানকে পড়ানো। এই কাজগুলো করা এতটা কঠিনও নয়। কারণ একজন মা নিজের ঘুম খাওয়া বাদ দিয়ে এই কাজগুলো করে।

তাছাড়া সন্তান তো আর মায়ের একার নয়। সন্তান দুজনেরই। তাই দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাসটা দুজনেরই করতে হবে। একইসঙ্গে সংসার করলে অনেক কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়।এমনকি কাজ কমেও যায়। তাই সন্তান লালন-পালন যেহেতু অনেক বড় কাজ, সেহেতু দুজন মিলে ভাগাভাগি করে কাজ করলে সংসার সুন্দর হয়।

মনে রাখা ভালো, সংসার শুধু রমণীর গুনে সুখে হয় না। সংসার সুখের হয় দুজনেরই কাজে।