Skip to content

২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বপ্ন ও বাস্তবতার লড়াইয়ে ৩ কিশোরীর জয়

আধুনিক সমাজে শহুরে নারীরা বেশ এগিয়ে। তারা যেমন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, আবার এগিয়েও যাচ্ছে। সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে লড়াইও করছে৷ তবে প্রত্যন্ত গ্রামের নারীরা এসব দিকে অনেকটা পিছিয়ে। তাদের স্বাধীনতার সামনে, স্বপ্নের সামনে পাহাড়সম বাধা। কিন্তু বাধা ভেঙে কেউ না কেউ তো প্রতিনিয়ত এগোচ্ছে। তা আবারও প্রমাণ করলেন ময়মনসিংহের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের ৩ কিশোরী। ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছেন একই গ্রামের এই ৩ কিশোরী।

সিনহা জাহান শিখা, স্বপ্না আক্তার জিলি ও তানিয়া আক্তার তানিশা, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে বসবাস তাদের। সাধারণত বড় কোনো স্বপ্ন দেখতে হলে সমাজে যেসব বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তার প্রায় সবগুলোই তাদের রয়েছে। ৩ জনের কেউই এখনো মাধ্যমিকের গণ্ডিই পেরোননি। ৩ জনই নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। শিখা ৯ম শ্রেণিতে, জিলি ও তানিসা ৮ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

তাদের ৩ জনের পরিবারেই রয়েছে আর্থিক অনটন। আর এর মধ্যে প্রত্যন্ত একটি গ্রামে মেয়েদের বড় কোনো স্বপ্ন দেখাও যেন পাপ। তানিশার বাবা দুলাল মিয়া একটি ছোট্ট পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা করেন। থাকার মধ্যে আছে কেবল একটি ঘর। স্বপ্নার বাবা ফয়জুদ্দিন কৃষিকাজ করেন। স্বপ্নার আরও ছয় ভাইবোন রয়েছে। সাত সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে যান তার বাবা। শিখার পরিবারের চিত্র আবার অনেকটাই ভিন্ন। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বড় হয়েছেন নানা বাড়িতে। হাঁস-মুরগি লালন-পালন করে শিখার খরচের ব্যয় মেটান নানি হালিমা বেগম।

ভাবছেন তো তবে কিভাবে এলো তাদের বিদেশ যাত্রার সুযোগ। আর তাদের পর্তুগাল যাত্রার উদ্দেশ্যই বা কী? যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় ক্রীড়া অধিদফতর বঙ্গমাতা নারী ফুটবলের সেরা ৪০ খেলোয়াড়কে নিয়ে বিকেএসপিতে দুই মাসের ক্যাম্প করে। সেই খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকেই নির্বাচিত হয়েছে নান্দাইলের এই ৩ কিশোরী। তাদের নিয়েই গড়া একটি দল এখন প্রশিক্ষণের জন্য যাবে পর্তুগালে। এই দলে সুযোগ পেয়েছে শিখা, স্বপ্না ও তানিয়া।

সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই মাসে তারা যাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগালে। তাদের এ সফলতা নিয়ে পরিবার ও গ্রামবাসী বেশ আনন্দিত। তাদের পরিবারগুলোতে বইছে খুশির হাওয়া। যদিও মেয়েদের ফুটবল খেলা নিয়ে এর আগে গ্রামবাসী অনেক কথা শোনাতো তাদের পরিবারকে। তবুও থেমে থাকেনি তারা। থামিয়ে রাখেনি খেলা, মাঠে ঐ সাদা-কালো রঙের ছোট্ট বলটিকে নয়, তাড়া করতেন তাদের স্বপ্নকে।

আমাদের সমাজ নারীদের চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোতে মেনে নিতে পারে না। খেলাধুলা বিষয়টিকে সাধারণত ছেলেদের কাজই ধরা হয়। নারীর খেলাধুলা বলতে কেবল পুতুল খেলাকেই ধরা হয়। আর গ্রামাঞ্চলে এ ধারণা বেশ অনেকটা শেকড় গেড়ে বসে আছে যা এতো সহজে উপরে ফেলা সম্ভব নয়। তবে তাই বলে কি নারীর স্বপ্ন দেখা থেমে যাবে? বাধা কাটিয়ে স্বপ্ন জয় করা , পরিবেশ, পরিবার সব সাথে নিয়ে লড়াই করে স্বপ্ন জয় করা যে অসাধ্য কিছু নয় তা প্রমাণ করলেন এই কিশোরী।

অনন্যা/জেএজে