Skip to content

২২ মে, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্যরি মা! খুব ভালোবাসি তোমায়!

স্যরি মা! খুব ভালোবাসি তোমায়!

আমাদের সবচেয়ে স্বস্তির জায়গাটা হচ্ছে মা। যখন যেমনই লাগুক না কেন মায়ের কাছে গিয়ে সবই বলা যায়। বলাটা হয়তো সবসময় শাব্দিক হয় না। কখনো রাগ দেখিয়ে কখনো কেঁদে-কেটে মায়ের কাছে গিয়ে হাজির হই। কিংবা মা তো মাঝেমধ্যে চেহারা দেখেই বুঝে যান কী লাগবে, কষ্টে আছি, না কি খুব আনন্দে আছি । মা হলেন আমাদের কাছে শীতল পাটির মত।

মায়ের কাছে আমাদের এত ঋণ থাকলেও, সহস্র আবেগ নিয়েও পড়ে থাকি। কিন্তু কখনো মা-কে ‘ধন্যবাদ’ আমরা বলি না। বলি না কখনো ভালোবাসি। কারণ আমাদের অভ্যাসেই এটা নেই৷ মায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার অভ্যাস কারও কারও মধ্যে একটু থাকলেও ভালোবাসি কথাটি বলার কোনো প্রচলন অন্তত এই দেশে নেই।

কারণ মা-কে ভালোবাসি বলতে একটু ইতস্তত লাগে। হয়তো কখনো দূর থেকে মনে মনে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করি। স্যরি বলে। স্যরি শব্দটা একটা ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ৷

আবার মায়েরাও কখনো মুখ ফুটে ভালোবাসার কথা বলে না। আড়ালে আমাদের জন্য সমস্তটাই করে ভালোবাসা দেখানোর চেয়ে আরও ঋণী করে তোলেন। দুঃখ কষ্ট যা আমাদের প্রভাবিত করে, সেটা কখনো আমাদের সামনে আসতে দেন না। নিজের শত ভালোলাগাকে নজর আন্দাজ করেও আমাদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় গড়ে দেন৷

এ কারণে কখনো মাকে ধন্যবাদ ও দেওয়া হয়নি। না ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু মায়েদের ভালোবাসার কথা জানানোর প্রচলন এদেশ ছাড়া অন্যান্য দেশে বেশ আছে৷ কারণ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই পারে একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের সমস্ত রাগ অভিমান ভুলিয়ে দিতে। তাছাড়া ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ তো আর অন্যায় নয়। বরং মানব জীবনের সবচাইতে সুন্দর জিনিষ।

একটা টিভিসি বানানো হয়েছিল।। সেখানে স্যরি মা নামের একটি ক্যাম্পেইনিং চালানো হয়েছিলো। মা সন্তানের জন্য নিজের যে আত্মত্যাগ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনেরই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাই হচ্ছে এই টিভিসি।

মায়েদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের জন্য আমরা নাটকীয়ভাবে অনেক কিছুই বলি আর অনেকভাবেই বলি। কিন্তু মায়েরা আমাদের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে দিনকে দিন। মায়ের বয়স হলে মায়ের প্রতি যত্ন নেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব৷ কারণ মায়ের আত্মত্যাগ কোনোদিন কোনো কিছু নিয়ে শোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর সহনশীলতা মায়ের জন্য অনেক বড় কিছু।

কী-ই বা চায় একজন মা তার সন্তানের কাছ থেকে? একটু ভালোবাসাই তো। মা যেমন করে সন্তানকে বড় করে তুলেছে সেটার পুরোটা তো আর ফেরত চায় না।

মা-কে নিয়ে হুমায়ুন আজাদ একটি কবিতা লিখেছিলেন,

‘আমাদের মা দিন দিন ছোট হতে থাকে
আমাদের মা দিন দিন ভয় পেতে থাকে।’

মা-কে আমরা ছোটবেলায় যেমন আমাদের স্তম্ভ ভাবতাম, তেমন আমরা বড় হওয়ার পর মা আমাদের ওপর নির্ভরশীল হতে থাকেন৷ কারণ মা তো একা ৷ মায়ের সন্তান আর সংসার ছাড়া তার জীবনে তিনি কিছুই আর রাখেননি।

‘আমাদের মা আমাদের থেকে বড় ছিলো, কিন্তু ছিলো আমাদের সমান।
আমাদের মা ছিলো আমাদের শ্রেণীর, আমাদের বর্ণের, আমাদের গোত্রের।’

মা-কে কখনো আমরা ভয় পাইনি। মায়ের মুখের ওপর প্রতি কথার জবাব দিতে পারতাম ছোটবেলা থেকেই৷ কিন্তু বাবা কখনো কিছু বললে সেটা বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতাম। মায়ের কাছে আমাদের বায়নার শেষ ছিল না৷ মা-কে নির্দ্বিধায় সবই বলা যেতো। মায়ের কথা শুনে কথায় কথায় রাগ উঠে গেলেও সেটা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আর বাবার সামনে কখনো রাগ দেখানো যেতো না।

‘কারণ মা ছিলো আমাদের শ্রেণীর’; মা আমাদের কাছে বন্ধুর মতো। তাই মায়ের কাছে কখনো আমরা শাব্দিক অর্থে ক্ষমাও চাই না। কারণ মা-ই তো! একদিন মায়ের সঙ্গে কটু কথা বলে রাগ দেখালাম, অন্যদিন তো ঠিকই হয়ে যাবে। কারণ মা-ই তো।

অনন্যা/এসএএস