সন্তানের চোখ স্মার্টফোন থেকে বইতে ফেরাবেন যেভাবে
আজকের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও স্মার্টফোনের প্রতি অত্যন্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে তারা বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছে যা তাদের সৃজনশীলতা ও জ্ঞানার্জনের পথে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু কার্যকর কৌশল অবলম্বন করে সন্তানের দৃষ্টি স্মার্টফোন থেকে বইয়ের দিকে ফেরানো সম্ভব।

ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করুন
সন্তানের সামনে আপনি নিজে যদি স্মার্টফোন কম ব্যবহার করেন এবং বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন তবে তারা সহজেই অনুপ্রাণিত হবে। পরিবারের সকলে যদি নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখে শিশুরাও এই অভ্যাসে আকৃষ্ট হবে।
পড়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করুন
বাড়ির একটি কোণকে পড়ার জন্য আরামদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তুলুন। রঙিন পোস্টার, আরামদায়ক আসন এবং শিশুদের পছন্দসই বইয়ের সংগ্রহ রাখুন। সুন্দর পরিবেশ শিশুরা সহজেই আকর্ষিত হয় এবং এতে তাদের বই পড়ার আগ্রহ বেড়ে যায়।
উপহার হিসেবে বই দিন
স্মার্টফোন বা গ্যাজেটের বদলে উপহার হিসেবে বই দিন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন জন্মদিন বা কৃতিত্ব অর্জনের জন্য বয়স উপযোগী বই দিতে পারেন। এতে শিশুদের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে।
ইন্টারেকটিভ বই নির্বাচন করুন
ছোট বয়সের শিশুদের জন্য চিত্রসমৃদ্ধ, রঙিন ও ইন্টারেকটিভ বই বেছে নিন। গল্প বলার সময় বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠস্বর নকল করুন। এতে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখবে। গল্পের মজার অংশগুলো নিয়ে প্রশ্ন করুন বা তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন।
স্মার্টফোন ব্যবহারে সময় নির্ধারণ করুন
সন্তানের স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করুন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে তারা যদি শুধুমাত্র স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে তবে তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্য বিকল্প খুঁজবে। এই সময়ে বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা করুন।
বই পড়াকে আনন্দদায়ক অভ্যাসে পরিণত করুন
বই পড়া যেন তাদের জন্য কাজের মতো মনে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। এটি যেন একটি আনন্দদায়ক অভ্যাস হয়। গল্পের চরিত্র নিয়ে আলোচনা করুন, গল্প শেষ হলে মজার পুরস্কার দিন বা তাদের সঙ্গে মিলিয়ে বইয়ের ছবি আঁকতে বলুন।
পাঠাগারে নিয়ে যান
সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে সন্তানকে পাঠাগারে নিয়ে যান। তাদের পছন্দের বই বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিন। পাঠাগারের পরিবেশ বই পড়ার প্রতি একটি ভালোবাসা তৈরি করতে সহায়ক।
পড়ার জন্য পারিবারিক সময় নির্ধারণ করুন
পুরো পরিবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন যখন সবাই একসঙ্গে বসে বই পড়বে। ফলে শিশুরা অনুভব করবে যে বই পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

অনলাইন কনটেন্টের বিকল্প দিন
যদি সন্তান অনলাইনে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে তবে শিক্ষামূলক ই-বুক বা অডিওবুকের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ান। প্রাথমিকভাবে এই মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
শিক্ষামূলক খেলায় অংশগ্রহণ
বই পড়াকে মজার খেলার সঙ্গে যুক্ত করুন। পড়া শেষ হলে একটি কুইজ আয়োজন করুন বা গল্পের চরিত্র নিয়ে নাটক সাজাতে দিন। এটি শিশুরা গল্প থেকে শেখার আগ্রহ বাড়াবে।
ধৈর্য ধরুন
শিশুর বই পড়ার অভ্যাস একদিনে তৈরি হবে না। এজন্য ধৈর্য ধরে তাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের সঠিকভাবে গাইড করুন।
আগ্রহের বিষয় খুঁজে বের করুন
প্রত্যেক শিশুর ভিন্ন রকমের আগ্রহ থাকে। কেউ গল্পের বই পছন্দ করে, কেউ বিজ্ঞানের। তাদের পছন্দ অনুযায়ী বই কিনে দিন এবং সেই বিষয়ে আলোচনা করুন।
প্রযুক্তিকে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত করুন
প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন। তাই প্রযুক্তিকে বইয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। যেমন গল্পের বইয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি অ্যানিমেশন বা ডকুমেন্টারি দেখানোর পরে বইটি পড়তে উৎসাহ দিন।
সন্তানের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস থেকে বই পড়ার প্রতি ঝোঁক তৈরি করা সহজ কাজ নয়। তবে ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং পরিবারিক উদ্যোগের মাধ্যমে এটি সম্ভব। একটি বইপাঠ-প্রেমী পরিবেশ তৈরি করে সন্তানদের জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিন যা তাদের ভবিষ্যতের পথচলাকে সমৃদ্ধ করবে।