Skip to content

১৪ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারী শিক্ষককে কেন প্রহার করবেন অধ্যক্ষ


শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষা যারা প্রদান করেন, তারাই এর কারিগর। কিন্তু শিক্ষিত মানুষ হয়েও বর্তমান সময়ে দেখা গেছে চরমভাবে নৈতিক স্খলন ঘটছে। শিক্ষা মানুষকে বিনয়ী, নম্র-ভদ্র ও অন্যের প্রতি সহনশীল-সহানুভূতিশীল করে তোলে। কিন্তু আজ যেন একথা বলা বা ভাবাও অকল্পনীয় কারণ শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বিশেষভাবে ঢুকে গেছে দুর্নীতি, অন্যায়-অবিচার ও শোষণের চিত্র! গ্রামের একজন সাধারণ চাষি বা খেটে খাওয়া মানুষ, তিনি সমাজে গড়ে ওঠা জটিলতা এত বোঝেন না, এ নিয়ে মাথাও ঘামান না। কিন্তু শিক্ষত মানুষ নামের অপশিক্ষার এই মানুষই সমাজকে টালমাটাল করে তুলছে। এত কথা বলার কারণ এই যে, শিক্ষার এমন দীনতা দেখা গেছে ভারতের একটি স্কুলে! সেখানকার নারী অধ্যক্ষ আরেক নারী সহকর্মীকে মারধর করেছেন! যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ভাইরাল হয়েছে!

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের আগ্রার সেগানা গ্রামের একটি প্রাক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দেরি করে আসায় শিক্ষিকাকে মারধর করেছেন অধ্যক্ষ। । এসময় ভুক্তভোগীর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগও আনা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে ভুক্তভোগী নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করছেন। এ সময় তার জামা অধ্যক্ষের হাতে আটকে থাকতে দেখা গেছে। তার ড্রাইভার প্রথমে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। তখন ড্রাইভারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন অধ্যক্ষ।

ভিডিওতে কাউকে বলতে শোনা গেছে, ‘ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা হবে। ম্যাডাম আপনি অভদ্র আচরণ করছেন। এটা কি আপনার সঙ্গে মানায়?’ ভিডিওর এই কথাটি যিনি বলেছেন তিনি যে, খুব বিচক্ষণ তা বোঝা যায়। মূলত মানুষের প্রতি এমন খড়গহস্ত হওয়ার কোনোই কারণ নেই। তার ওপর একজন অধ্যক্ষ কিভাবে তার পদমর্যাদা ভুলে এভাবে আরেক নারীর প্রতি আক্রোশ উগরে দিতে পারেন! সত্যি বিস্ময় জাগে শিক্ষার যে মূলসুর, সেখান থেকে ভারতের মতো একটি রাষ্ট্র কতটা ছিটকে পড়েছে। শিক্ষা মানুষকে বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয় কিন্তু আজ সে বিনয় কোথায়?

স্কুলে দেরি করে আসলে স্কুলের বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী তাকে সোকস করা যেতে পারে, নোটিশ প্রদান করা যেতে পারে বা স্কুলের নিয়ম মতো নিয়ম ভঙ্গ হলে যে শাস্তি প্রদান করার বিধান আছে তা করা যেতে পারতো কিন্তু অধ্যক্ষ তা না করে বরং সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন! যা একদিকে তার অপরিপক্বতা, বদমেজাজি, ঈর্ষাপরায়ণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

সবচেয়ে বড় বিস্ময় অধ্যক্ষ নিজেও একজন নারী। তিনি কিভাবে আরেকজন নারী সহকর্মীর প্রতি এতটা বিভৎস আচরণ করতে পারেন? মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষাটা তারই পূর্ণ হয়নি, তিনি কী শিক্ষা দেবেন তার ছাত্র-ছাত্রীদের! ভিডিওতে এও দেখা গেছে যখন অধ্যক্ষ নারী সহকর্মীকে বেদম প্রহারে ব্যস্ত, তখন এক শিক্ষার্থী ওই রুমে প্রায় দৌড়েই প্রবেশ করে! মারাধর দেখে সে কিছুটা সরেও যায়!

শিক্ষার্থীরা সবসময় তার শিক্ষককে আদর্শ হিসেবে মান্য করে। তারা মুখে বলুক বা না বলুক এই শিক্ষদের থেকেই তারা প্রেরণা পায়, নিজের জীবনের সুপারম্যান হিসেবে কল্পনা করতেও ভালোবাসে। কিন্তু যদি শিক্ষক নিজেই না বোঝেন, কোনটা তার আচরণের সঙ্গে যাবে, নীতির সঙ্গে যাবে; তাহলে জাতি কী শিখবে!

ওই ভিডিও ফুটুজে আরও দেখা যায়, ঘটনায় ওই শিক্ষিকা আহত হয়েছেন বলে ভিডিওতে দাবি করেছেন তার সহকর্মী। আইনের লঙ্ঘন সবসময়ই শাস্তিজনিত অপরাধ ফলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার হোক। যেন ভবিষ্যতে কেউ এভাবে আক্রোশ প্রকাশ করতে না পারেন। স্কুলে দেরি হয়েছে তার জন্য কারণ দর্শানো যেতে পারে, দরকার হলে সেলারি কাটা যেতে পারে, নাহলে স্কুলের রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনের আওতায় যে ধরনের শাস্তি বরাদ্দ, তা করতেই পারেন অধ্যক্ষ। কিন্তু তিনি তো মারধোর করতে পারেন না! এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হোক দেশে বা বিদেশে!

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ