Skip to content

১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজও নারীকে শ্লীলতাহানি: এর শেষ কোথায়

আজোবধি সমাজে নারীকে অপদস্ত করার নানামুখী প্রচলন রয়েছে। আজও নারীরা পথে বের হলেই বখাটের উৎপাতের শিকার হতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে শেষমেশ তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। ফলে নারী বিপদকে মোকাবিলা করতে গিয়ে আরেকভাবে সমাজের কাছে অপদস্ত হয়ে পড়ে! গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে উঠে এসেছে, এক নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।
গণমাধ্যম বরাতে জানা গেছে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক বখাটের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানি ও মারধর করার অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধূ। এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও দেন। তবে মামলা রেকর্ড না করে পুলিশ ওই বখাটেকে ছেড়ে দিয়েছে। আপসরফা করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ ও তার স্বজনেরা।

গৃহবধূর স্বামী অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় ১৪ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানায় গিয়ে তার স্ত্রী ইদ্রীস আলীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য এএসআই মো. সাজু দায়িত্ব পান। ওই দিন দুপুরে এএসআই সাজু  ঘটনাস্থলে যান। তিনি অভিযুক্ত ইদ্রীস আলীর বাড়িতেও যান। ইদ্রীস তখন বাড়িতেই ছিলেন। সোমবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গ্রামের লোকজন থানায় যান। তারা অভিযুক্ত  ইদ্রীস আলী ও তার বাবাকে থানার ভেতর দেখতে পান।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার সময় পুলিশের কথা শুনে খুশি হয়েছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল এখনই পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করবে। এএসআই সাজু অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়ার পর সুর পাল্টে গেছে। এখন পুলিশ আপস করতে চাপ দিচ্ছে। আমি আপস করতে চাই না।’

দম্পতির সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন তাদের প্রতিবেশী রুবেল হোসেন। তিনি বলেন, ‘গৃহবধূ ও তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের ৫০-৬০ জন থানায় গিয়েছিলাম। তখন বখাটে ইদ্রীস আলী ও তাঁর স্বজনেরা ওসির কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। আমাদের সঙ্গে ওসি থানা চত্বরে কথা বলেন। তিনি আমাদের আপস করতে বলেছেন। আমরা সময় নিয়ে চলে এসেছি।’

তবে অভিযুক্ত ইদ্রীস আলী বলেছেন, ‘গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির ঘটনা সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ আমাকে থানায় আসতে বলেছিল। রোববার সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলাম। ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে শাসন করেছেন।’

পরবর্তী সময়ে এসআই গৃহবধূর অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। তখন অভিযুক্ত ইদ্রীস আলী বাড়িতে ছিলেন না। সন্ধ্যায় তাকে থানায় আসতে বলা হয়েছিল। ওসি ইদ্রীস আলীকে শাসন করেছেন। এ ঘটনাটি ওসি নিজেই দেখছেন। তিনি বিবাদী পক্ষের কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। ভুক্তভোগী এবং পুলিশের বিপরীত মন্তব্য ঘটনার জল ঘোলা হয়েছে বেশ।

শ্লীলতাহানির ঘটনাটি খতিয়ে দেখা উচিত একইসঙ্গে বিষয়টা প্রথম থেকেই তদন্ত করা জরুরি যাতে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসে এবং দোষী শাস্তির আওতায় আসে। গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে দুই পক্ষের উপস্থিতি! এক ভুক্তভোগী অন্যপক্ষে পুলিশ ও অভিযুক্ত বখাটে। এই পরিস্থিতির সমাধান পেতে সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। নারী নির্যাতন এ সমাজে নতুন কোনো ঘটনা নয়। নারীকে নিয়ে ভিলেজ পলিটিক্স খুব বেশি। ফলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে।

নারীরা এ সমাজে নিরাপদ নয় ঘরে-বাইরে কোথাও! এরপর যদি আইনি সহয়তা পেতেও নারীকে মাথা ঠুকতে হয়, তবে বিচারের বাণী নিভৃতেই কাঁদবে। এর ব্যত্যয় হবে বলে মনে হয় না। সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হোক।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ