Skip to content

২২শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুরুষের টাকায় নারীর ঈদ শপিং: কিছু কথা


আবহমানকাল ধরেই নারীরা বিশেষভাবে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন৷ এর কারণ সামাজিক-অর্থনৈতিক উভয়ই। প্রাচীনযুগ থেকে সমাজের প্রথা নানা সময়ে নানামুখী মোড় নিয়েছে৷ কখনো সমাজের মূল চালিকাশক্তি নারীদের হাতে ছিল আবার কালের পরিবর্তনে তা পুরুষের ওপরও নির্ভরশীল হয়েছে। তবে বর্তমান সময়টা যেহেতু তথ্য-প্রযুক্তি-বিজ্ঞান ও আধুনিকতার যুগ ফলে আগের সেই প্রথা বা নিয়ম আর নেই।

কালের পরিক্রমায় এখন নারীরা শিক্ষিত হচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তিও ঘটছে। ফলে তারা নিজেদের পছন্দকে প্রাধান্য দিতে শিখছেন। তবে এ সমাজে অনেক সময় নারীকে নিয়ে নানাধরনের প্রশ্ন ওঠে! সেই প্রশ্ন কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে কেউ কথা বলেন না বরং তার নেতিবাচক দিকটাই সবাই দেখাতে চান। সম্প্রতি এক টিভি চ্যানেল নারীর ঈদের কেনাকাটাকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তা নিয়েও বরাবরের মতো আলোচনা-সমালোচনার জোয়ারে ভাসছে নেট দুনিয়া!

প্রকৃত অর্থেই কি নারী পুরুষের টাকায়-ই ঈদের কেনাকাটা করে? প্রশ্নের উত্তরটা যদি ‘হ্যাঁ’ হয়; তাতেও তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়! বরং সেটাই তো পরিবারপ্রধানের কাজ। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত পরিবারে পুরুষপ্রধান। একটি পরিবারে বাবা-ভাই-স্বামী তিনিই অর্থের জোগান দেন, সেটা ঈদ শপিং হোক বা পরিবারের দৈনন্দিন খরচ হোক। ফলে তিনিই পরিবারের সবার চাহিদা পূরণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে যে নারীদের কোনোই যোগসূত্র থাকে না, এমনটা বলা যাবে না। যে নারীরা অর্থ উপার্জন করেন, তারাও কিন্তু পরিবারের সচ্ছলতা আনতেই তা করেন।

আমরা জানি, পরিবার একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ভালোবাসা ও সহোযোগিতায় প্রধান। একে অন্যের হাতে হাত রেখে পরস্পর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গেই পরিবার পরিচালনা করেন। ফলে স্বামী বা স্ত্রীর উপার্জিত টাকাকে আলাদা করে দেখারও কোনোই কারণ নেই। দুজনেই গুছিয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যের ভিত্তিতেই পরিবার পরিচালনা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। ফলে পুরুষের টাকা অর্থাৎ স্বামীর টাকা বা স্ত্রীর টাকা বলে যেমন কোনোই বিভেদ নেই; তেমনই ঈদের কেনাকাটায় পুরুষের টাকা বলেও কোনো কথা নেই৷ পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান ও ভালোবাসার ফলেই দুজনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এটি। যা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, পুরুষ যখন টাকা উপর্জন করেন, তখন তিনি তার বাবা-মা-স্ত্রী-সন্তানের কথা ভেবেই তা করেন। আবার নারী যখন নিজের গণ্ডির বাইরে এসে অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটাতে চান, তখন তিনিও সন্তান-স্বামী-বাবা-মায়ের মুখের দিকে চেয়েই তা করেন। ফলে উভয়ই যখন একে অন্যের জন্য উপার্জন করছেন, তখন খরচের সময় সেই উপার্জনের সমন্বয় ঘটানোই স্বাভাবিক। এই কাজকে ক্যাটাগরাইজড না করাই শ্রেয়। এ নিয়ে মানসিক দৈন্য প্রকাশ না করে বরং পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রতি মনোযোগ দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ঈদের কেনাকাটা হোক নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণে। নারী বা পুরুষ বলে কথা নয় বরং যার সক্ষমতা আছে, তাকেই অর্থের জোগান দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে৷ কেউ কারও ওপর বোঝা না চাপিয়ে পরিবারের সক্ষমতা বুঝেই তা নির্ধারণ করতে হবে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এ আয়োজন। জয় হোক মানবতার। জয় হোক শুভ বোধের।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ