Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দাম্পত্য কলহের বলি নারী: বিভৎসতা আর কত!

আমাদের সমাজে আজাবধি একের পর এক নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পরিবার-পরিজন, অফিসে-বাইরে এমন কোথাও নেই যেখানে নারী নিরাপদ! বর্তমানে পরিবারের সম্পর্কগুলো নির্জীব, নিশ্চল হয়ে পড়েছে। মানুষ হয়ে পড়েছে স্বার্থকেন্দ্রিক। নিজের স্বার্থ হাসিল না হলে অপরের জীবন নিতেও তারা নিশ্চুপ থাকছে না। এমনকি পরিবারে কলহ, সংকটের কারণে অপরের জীবন নাশ করছে। আবার এ নিয়ে বিভৎসতা বা বিকৃত মানসিকতা প্রকাশেরও নজির দেখা যাচ্ছে! অবক্ষয়ের এ যুগে মানুষের মধ্যে এমন বিভেদ, এমন হিংস্রতা জাতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলে! মানুষ হয়ে ওঠার মূলমন্ত্র তাদের অজানা। তারা জীবননাশের মেশিন হয়ে উঠছে এ কারণেই।

গণমাধ্যম বরাত জানা যায়, বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামী সুমন রায়কে (৩৩) আটক করেছে পুলিশ। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে আহতর পর স্বামী সুমন নিজেই জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করে পুলিশ ডাকেন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পিজিএস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টার দিকে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীথি সমাদ্দারের (৩০) মৃত্যু হয়। এর আগে তাকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিলো। বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত বীথি সমাদ্দার (৩০) গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের বাসুদেব সমাদ্দারের মেয়ে। আটক সুমন বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সুধীর রায়ের ছেলে। পাঁচ বছর আগে সুমন ও বীথির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুক্তা রায় নামে তিন বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। সুমন অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতেন।

মৃতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরিবারের লোকজন বলেছে, বাসায় সুমন ঘুমিয়ে ছিলেন। এর এক পর্যায়ে ঘরের মধ্য থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যায়। তখন প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যে সুমন বলেন, ‘কাম হইয়া গেছে। কেউ ভেতরে আসবা না।’ এ কথা বলে সুমন ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে আমরাও পুলিশে খবর দিয়েছিলাম।

বানারীপাড়া মডেল থানার এসআই শফিকুল বলেন, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তর্ক হয়েছিলো। এর এক পর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি হাতুড়িপেটা করেন। বীথি রক্তাক্ত জখম হয়।

বানারীপাড়া থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর স্বামী নিজেই ৯৯৯ কল করে হত্যার কথা জানিয়ে আত্মসমর্পণের কথা জানান। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা, হামলা, শাস্তি কোনকিছু করেই যেন একশ্রেণিকে রুখে দেওয়া যাচ্ছে না! বিবেক ও মানুষ্যত্বহীন মানুষকে দিয়ে সমাজ বদলের ডাক দেওয়া যায় না। সমাজকে বদলাতে হলে, নারীর প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তুলতে হলে মানুষ আগে মনুষ্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হতে হবে। মানুষ যদি আত্মকেন্দ্রিক এবং ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে না পারে তবে নানাবিধ সংকট দেখা দেবে। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন সংসারে বা দাম্পত্যে সংকট দেখা দিলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে। শতচেষ্টার পরও যদি তা সম্ভব না হয় তবে সেখান থেকে বের হতে হবে। নতুবা সাংসারিক দ্বন্দ্ব থেকে তা হত্যা-আত্মহত্যায় রূপ নিতে পারে! যা এখন অহরহ ঘটছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে আর না হয় সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ