Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নারীকে ইভটিজিং বন্ধ হবে কবে

আমাদের সমাজে আজও নারীরা অসহায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে কোনোদিনই সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতে পারেনি যদি তা সম্ভব হতো তবে হয়তো ইভটিজিং শব্দটির সঙ্গে কেউ পরিচিত হতো না। এ সমাজ নারীকে সর্বদা দুর্বল ভাবে, নারীর যোগ্যতাকে সম্মান না করে নারীকে মাপে বিভিন্ন সীমাপরিসীমায়। কিন্তু এই বিকৃত মানসিকতার পরিবর্তন কবে হবে? কবে এ সমাজ নারীকে শ্রদ্ধার চোখে দেখবে? কবে তদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হবে!

গণপরিবহন, স্কুল-কলেজ, পথে চলতে গিয়ে নারীরা আজও নানারকম বাজে মন্তব্য ও কটুক্তির শিকার হচ্ছে। এর সঠিক প্রতিকারও নারী পান না। যদি কোন নারী প্রতিবাদ করে এ সমাজ বাছ-বিচার ছাড়াই নারীর ওপরই আঙুল তোলে। আমাদের সমাজের এমন নোংরা চিত্র অহরহ ঘটছে। বিষয়গুলো নিয়ে সমাজের দৃষ্টি থাকে নারীর ওপর পুরুষের ওপর নয়। এ সমাজের এই জঘন্য ও ঘৃণ্যতার শিকার হতে হতে নারী যেন কেমন মিইয়ে যায়। নারীর হৃদয়ে সবসময় একটা শঙ্কা কাজ করে কোন পথে হাঁটলে পুরুষের কুদৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া যাবে!

বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় নারীকে ভাবতে হয় তিনি সুস্থভাবে এ সমাজে চলতে পারবেন কিনা? কারো রোষের মুখে পড়বেন কিনা! ইভটিজিং এর ভয়াবহতার শিকার হয়ে একসময় এর চূড়ান্ত রূপ ছিল মুখে এসিড নিক্ষেপ এখন তা পরিবর্তিত হতে হতে হত্যা-গুম-খুন পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবু এ সমাজ নির্বিকার! নারীকে যখন কোন বখাটে উত্যক্ত করে, কটু কথা বলে তখন তার পাশে যদি কোন ব্যক্তি থাকেনও তিনি কিন্তু কোন প্রতিবাদ করেন না। বরং নারীকেই চুপ থাকার নির্দেশ দেন। কারণ দিন শেষে নারীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। নারীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এর পশ্চাতে যে কারণ নেই তা নয় তাও এ সমাজের তৈরি। এ সমাজই পায়ে শেকল পরিয়েছে পুরুষের সাতখুন মাফ হলেও নারীর নয়। নারীর ব্যক্তিক জীবন আছে। এই জীবনে যেন কোনরকম ছাপ না পড়ে সেজন্য তাকেই চুপ করানো হয়। কিন্তু কেন এ সমাজের পুরুষতন্ত্র নারীকে অবরুদ্ধ করে, দায়বদ্ধ করে! নারীকেই কেন কথা শোনায়? নারীকেই কেন নোংরা ইঙ্গিত দেয়!

এমন তো কখনও তেমন শোনা যায় নাই যে, নারীরা পুরুষকে উত্যক্ত করেছে! তাহলে পুরুষের এই নোংর প্রবৃত্তি কেন? এখন শুধু পথে, পরিবহনে নয় হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, নানামুখী অনলাইন প্লাটফর্মেও নারীকে হেনস্তা করা হয়। কটু মন্তব্য করা হয়। পত্রিকা খুললেই দেখা মেলে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়াতে নারীকে খুন করা হয়েছে। এমন ঘৃণ্য কর্ম দিন দিন বাড়ছে। স্কুল-কলেজে সিনিয়র আপুকেও এই বখাটেরা ছাড়ছে না। এদের মগজে কী বিকৃত রুচি কাজ করছে। এ সমাজে ভুল করেও এ শ্রেণি ক্ষমা প্রর্থনা করে না। বা ভুল স্বীকার করে না। বরং অন্যায়ের প্রতিবাদ হলে তারাি চোটপাট করে। মেয়েটিকে নানাভাবে শাসানো হয়। হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় যাতে সে চুপ থাকে। শুধু যে ধনীর দুলাল এমন নয় বখাটেদের কোন শ্রেণীবিভাগ নেই তারা যেকোনো বয়সী নারী দেখলেই টোন করে। আর বলাই বাহুল্য যে, তরুণীদের কী করুণ দশা! এই নির্মম বাস্তবতার মুখে প্রতিদিন নারীকে পড়তে হচ্ছে। এর পরিত্রাণ ঘটাতে হবে।

নারী যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, নারীর সম্মানের যাতে কিঞ্চিৎ অমর্যাদা না হশ সেদিকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ, সরকার ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-গণপরিবহনে এমন ঘটনা ঘটলে তার উপযুক্ত প্রমাণ ও তথ্যাদি নিয়ে অপরাধীর কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই যদি নারীর জীবন কিঞ্চিৎ স্বস্তির হয়।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ