Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্মজীবী মায়ের সন্তানের জন্য ডে-কেয়ারের গুরুত্ব

কর্মজীবী মায়েদের কর্মস্থলে নিশ্চিন্ত মনে কাজের পথে প্রথম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তার শিশুসন্তানের নিরাপত্তাজনিত চিন্তা। শিশু কোথায় আছে, কিভাবে আছে, কী করছে, এসব চিন্তা একজন মাকে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তার ভেতর রাখে। ফলে মা নিজের কাজে শতভাগ মনোযোগী হতে পারেন না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পেশাজীবী নারীর সন্তানের জন্য দেশে শতভাগ যত্নশীল ও নিরাপত্তাবেষ্টিত ডে কেয়ার থাকা জরুরি। তাহলে মায়েরা তাদের শিশু সন্তানকে ডে কেয়ারে রেখে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করতে পারবেন। আর সন্তানও থাকবে নিরাপদে।

কর্মক্ষেত্রে ও সাংসারিক দুই কাজেই নারীদের সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের নারীদের ক্ষেত্রে এজন্য নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম কর্মজীবী মায়ের সন্তানের জন্য ডে কেয়ার নেই। অনেক নারী যোগ্যতা, দক্ষতা থাকলেও সন্তানের কথা ভেবে পিছিয়ে পড়ছেন। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের রিপোর্ট মতে, এদেশের অর্ধেকের বেশিই নারী। এখনকার মেয়েরা এসএসসি থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ে ভালো রেজাল্ট করছে। ওই অনুযায়ী বলাই চলে নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষণীয়। তবে এই শিক্ষিত অংশের কতজন নারী নিজেদের পরবর্তী সময়ের জন্য তৈরি করে তুলছেন?

বৃহৎ একটা অংশ পরিবারের চাপে ও বিশেষ করে সন্তানের দেখভালের অভাবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন কর্মক্ষেত্র থেকে। ২০২০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী মাত্র ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ নারী কর্মজীবী। কিন্তু দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অবদানের তুলনায় তা অনেকটা কম। যদিও এখন কর্মজীবী নারীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার কারণ নারীরা অনেকেই স্বাধীন পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করছেন। উদ্যোক্তা হচ্ছেন। এতে করে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা করতেও হচ্ছে না আবার কিছু রোজগারও করছেন। এই থেকেও বোঝা যায় নারীর কাছে তার সন্তান কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের জন্যই তারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন পারিবারিক আবহে। তবে বাইরের দেশগুলো যদি লক্ষ করা যায়, বেশিরভাগ দেশেই সারকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডে কেয়ার আছে। ফলে সন্তানদের জন্য মায়ের ভাবনা নেই। তিনি মনোযোগ দিয়ে তার কাজে সর্বোচ্চটা দিতে পারছেন। কিন্তু এদেশে কর্মজীবী মায়েদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তার সন্তানটি সে বের হওয়ার পর কেমনভাবে আছে, কী করছে, এসব বিষয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ফলে সরকারকে এখন অবশ্যই এদিকে নজর দেওয়া উচিত। সমতার জন্য। নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সরকারি উদ্যোগে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানের জন্য ডে কেয়ার করতে হবে এটা এখন সময়ের দাবি।

একজন মা যখন তার আদরের সন্তানকে বাসায় দেখে রাখার কাউকে পান না বা অফিসে বাচ্চা রাখার পরিবেশ থাকে না, তখন হয়তো সেই মা চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। অথবা বাসায় কারও কাছে রাখলেও হয়তো তিনি ঠিকমত বাচ্চার যত্নটা নিতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে বাচ্চার ঠিকমতো শারীরিক-মানসিক বিকাশ হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা কর্মজীবী মা যখন অফিস থেকে বাসায় যান তখন সারাদিনের ধকল নিয়ে আর বাচ্চার সঙ্গে ভালো করে কথাও বলার পরিস্থিতিতে থাকেন না। আবার দেখা যায়, বাচ্চার সঙ্গে একটুতেই রেগে বা ধমকের সুরে কথা বলেন। এগুলোর পরিত্রাণ পেতে ডে কেয়ার খুবই জরুরি।

কত সম্ভাবনাময় নারী শুধু সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করে ফেলেন। একজন মায়ের জন্য তার সন্তানের চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। ডে-কেয়ারের ব্যবস্থা যদি যথেষ্ট থাকতো, তাহলে নারী খুব নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারতেন। এর ফলে সে তার কর্মক্ষেত্রেও ভালো করবেন,সন্তানের চিন্তাও থাকতো না।

সন্তানের সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজ তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার জন্য অনেক সহজ হয়ে যেতো। তাই সবাইকে এবিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। তাই তাদের ভবিষ্যৎ এবং নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ডে-কেয়ারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, কর্মজীবী মায়েরা দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন। তাদের কাজের প্রতি বেশি মনোযোগ মানেই দেশের উন্নয়ন। সন্তানের সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজ তথা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং কর্মজীবী নারীকে একটি সুস্থ-সুন্দর কাজের পরিবেশ তৈরি করতে পারে প্রত্যেক অফিসে কর্মজীবী মায়ের সন্তানের জন্য ডে-কেয়ারের নিশ্চয়তা। পাশাপাশি সহকর্মীদের সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ