Skip to content

১১ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহস্পতিবার | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে সুপার ভলকানো

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে মানুষ কতটা অসহায়, ইতিহাসে তেমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই৷ তবে ইটালির নেপলস শহরের কাছে এক সুপার ভলকানো জেগে ওঠার আগেই মানুষকে সতর্ক করতে চান বিজ্ঞানীরা৷

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে মানুষ কতটা অসহায়, ইতিহাসে তেমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই৷ তবে ইটালির নেপলস শহরের কাছে এক সুপার ভলকানো জেগে ওঠার আগেই মানুষকে সতর্ক করতে চান বিজ্ঞানীরা৷

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে মানুষ কতটা অসহায়, ইতিহাসে তেমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই৷

নেপলস শহরের আশাপাশের মাটির নীচে বাষ্প উদগীরন ও কম্পন বাড়ছে৷ বিশাল আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে৷ শুধু ভিসুভিয়াস নয়, ফ্লেগ্রিয়ান ক্ষেত্র বলে পরিচিত প্রায় দেড়শো বর্গ কিলোমিটার এলাকাও ঝুঁকির কারণ৷

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিকোলা আলেসান্দ্রো নেপেলস শহরের উপকণ্ঠে পোজুয়োলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন৷ সেখানকার বন্দরে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটছে৷ দেখে ভাটা মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু ঘটনাটা ভিন্ন৷ খাদের প্রাচীর, টিলা ও গোটা গ্রাম ভূপৃষ্ঠের নীচ থেকে চাপের ঠেলায় পানি থেকে উপরে উঠে আসছে৷ নিকোলা বলেন, ‘‘তিন কিলোমিটারেরও বেশি ভূত্বক এক মিটারেরও বেশি উপরে উঠে এলে বোঝা যায়, তার জন্য কত পরিমাণ চাপের প্রয়োজন৷”

ফ্লেগ্রিয়ান ক্ষেত্রের নীচে সেই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে৷ সেখানে ভূ-পৃষ্ঠের নীচে ‘সুপার ভলক্যানো’ রয়েছে৷ বিশাল পরিমাণ লাভা ও গ্যাস ভূত্বক উপর দিকে ঠেলছে৷ নিকোলা মনে করেন, ‘‘আমরা এবার ইলাস্টিক থেকে আনইলাস্টিক পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছি৷ হাতে একটা লাঠি নিয়ে সেটিকে বাঁকালে প্রথমে সেটি ইলাস্টিক বা নমনীয় পর্যায়ে থাকে৷ চাপ ছেড়ে দিলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়৷ আবার বাঁকানোর চেষ্টা করলে সেটি মড়মড় করে ভাঙতে শুরু করে৷ আমি সেই শব্দ শুনতে পাই৷”

ফ্লেগ্রিয়ান ক্ষেত্রে ঠিক সেভাবেই ভূত্বক ভাঙতে শুরু করেছে৷ ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে সেই ঘটনা দেখা গিয়েছিল৷ ভূকম্পনের ফলে বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে৷ তার আগে মাটি এখনকার মতোই প্রায় এক মিটার উপরে উঠে গিয়েছিল৷ সমুদ্রের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে গিয়েছিল৷ স্থানীয় মানুষের মনে দুশ্চিন্তা বেড়েছে৷ গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা সেখানে এসেছেন৷

১৯৮০-র দশকেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল৷ চাপের ফলে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং মাটি আবার নেমে গিয়েছিল৷ কিন্তু গত ২০ বছর ধরে চাপ আবার বাড়ছে৷ অর্থাৎ সিসমোলজিস্ট নিকোলা আলেসান্দ্রোর উদাহরণের মতো লাঠি যেন আবার বাঁকানো হয়েছে৷ নিকোলা বলেন, ‘‘এর অর্থ, ভূত্বক ভেঙে যাবার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি৷ তবে এখনই অগ্নুৎপাতের আশঙ্কার কারণ নেই, যা বিশাল বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে৷ পরিমাপ অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ উচ্চতা ছুঁয়েছে৷ ১৯৮৪ সালের তুলনায় প্রায় দশ সেন্টিমিটার উঠে গেছে৷”

প্রথম সম্ভাবনা অনুযায়ী ছোট ছোট ভূমিকম্প ঘটতে পারে৷ গ্যাস বেরিয়ে এলে চাপ কমবে এবং জমি আবার নেমে যাবে৷ তবে দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী বিপর্যয় ঘটতে পারে৷ চাপের ফলে ভয়ংকর অগ্নুৎপাৎ দেখা যেতে পারে৷ গোটা নেপলস শহর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷

সে কারণে সিসমোলজিস্ট নিকোলা আলেসান্দ্রো ও আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ মাউরো দি ভিতো ফ্লেগ্রিয়ান ক্ষেত্রের উপর কড়া নজর রাখছেন৷ সুপার ভলকানোর কার্যকলাপ অবিরাম পরিমাপ করে সেই তথ্য এক ধরনের কনট্রোল সেন্টারে প্রেরণ করা হচ্ছে৷ সত্যি বিপদের ঝুঁকি দেখা দিলে জনসাধারণকে সতর্ক করা যাবে৷ মাউরো বলেন, ‘‘ভূকম্পন পরিমাপ যন্ত্রগুলিতে জোরালো বা ঘনঘন কম্পন ধরা পড়লে আমরা সেটা জানাবো৷ সঙ্গে সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বার্তা পাঠানো হবে৷ আমাদের টেবিলের উপর একটা লাল রংয়ের টেলিফোন রয়েছে, যা ইটালির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরের সঙ্গে অবিরাম যোগাযোগ রেখে চলেছে৷ বড় ভূমিকম্প দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে খবর চলে যাবে৷”

নেপেলস উপসাগরের মানুষ বড় ঝুঁকি নিয়ে সুপার ভলকানোর উপর দিন কাটাচ্ছেন৷

অনন্যা/এআই

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ