Skip to content

১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিজের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও নারী

আমাদের সমাজে নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত। ঘরে-বাইরে সবক্ষেত্রেই নারীরা অবহেলিত-উৎপীড়িত। তবে বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে সর্বদা সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এর আগে নারীদের আবস্থান আরও নাজুক ছিল। তবে শুধু রাষ্ট্র নারীকে এগিয়ে নিতে চাইলেই হবে না নারীকেও সমানতালে পা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্র সর্বোচ্চ সহোযোগিতা করতে পারে কিন্তু পথ চলাটা নারীর নিজেরই! তাই অধিকার আদায়ে, সামাজিক অবক্ষয়, হিংসা, ক্রোধ ও নারী নির্যাতন রুখে দিতে নারীকেই সোচ্চার হতে হবে।

১৭ অক্টোবর বেলা পৌনে একটার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এবং বক্তব্য প্রদান করেন। মাননীয় দেশনেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কারও কাছে অনুনয় নয়, নিজ গুণেই তাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। আরও বলেন, “নারীদের বাদ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু অধিকার বললেই হবে না। নারীদের অধিকার নারীদেরই আদায় করতে হবে। নিজের গুণেই আদায় করতে হবে। একজন নারীর জন্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া খুবই প্রয়োজন। তাহলে একজন নারী কারও কাছে মুখাপেক্ষী থাকবে না।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নারীদের অধিকার আদায়ে সরকার কাজ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করতেন। তিনি এ দেশে নারীদের সার্বিক উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতার পর যে সংবিধান দিয়েছিলেন, সেখানে কিন্তু নারীর সম-অধিকারের কথা বলা আছে। নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। নারী নেতৃত্ব যাতে গড়ে ওঠে, তার জন্য পার্লামেন্টে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেন।”
আজ অনুষ্ঠিতব্য সভায় দেশনেত্রী এদেশের নারীদের জন্য যে বার্তা দিয়েছেন তা নারীদের জন্য মার্গ প্রদর্শন। এই পথে যদি আপানর নারীরা তাদের উন্নয়ন ও কল্যাণের পথে এগিয়ে যায় তবে দেশ এগিয়ে যাবে। সমাজ এগিয়ে যাবে। নারী ছাড়া সমাজের, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর শক্তিই প্রকৃত শক্তি। নারী না জাগলে তাই কোনভাবেই তার অধিকার নিশ্চিত হবে না। নারীর ভাগ্য ফেরাতে হলে তাই নারীকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যায়, নির্যাতনে আওয়াজ তুলতে হবে। অধিকার আদায়ে আপোষহীন থাকতে হবে।

আমাদের সমাজে ক্রমাগত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আধুনিকতা আসলেও মানসিক দৈন্য ঘোচেনি। নারীর প্রতি বৈষম্য ও নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা এ সমাজের এক ধরনের অপ্রথা। তাই নারীকে ঘরের বাইরে দেখলেই একশ্রেণি ভ্রু কুঁচকে তাকায়। নারীর সহজ-সরলতার সুযোগ নিতে চায়। এ ধরনের সমাজ কখনোই কাম্য নয়। নারী কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং সহোযোগী। “এ বিশ্বের যা কিছু মহান অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর” বিধায় নারীকে ব্যতীত পৃথিবী বিলীন হয়ে যাবে। জাতির সুরক্ষার্থে নারীকে সম্মান করা জরুরি। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান সমাজকে সুপথে পরিচালিত করতে বাধ্য। তাই নারীর অধিকার আদায়ে নারীকেই সোচ্চার হতে হবে।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ