Skip to content

২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

১৪ ছাত্রীর চুল কাটলেন শিক্ষক: পুরুষতান্ত্রের বর্বরতার শেষ কেথায়

আমাদের সমাজে নারীকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। তবে শুধু এ সমাজেই নারীরা নিপীড়িত-নির্যাতিত নয় বরং গোটা বিশ্বেই নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার। এ সমাজ নারীকে শাসন-শোষণ করে। পুরুষতন্ত্র যেভাবে চায় নারীকে ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোথাও কন্যা-শিশু-নারী নিরাপদ নয়। ঘরে-বাইরে উভয়ক্ষেত্রেই অনিরাপদ।

আজকাল স্কুলেও শিক্ষকরা ছাত্রীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাতেও দ্বিধা করেন না। তবে এই নির্যাতন দেশে বা দেশের বাইরে ক্রমাগত বাড়ছে। নারীরা হয়ে উঠছে অনিরাপদ। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের লামোংগান শহরের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জুনিয়র হাইস্কুল এএমপিএর-১ এর একজন অজ্ঞাত শিক্ষক জোর করে ১৪ মেয়ে শিক্ষার্থীর মাথা আংশিকভাবে কামিয়ে দেন।

গণমাধ্যম বরাত জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হার্তো জানান, মাথায় ভুলভাবে স্কার্ফ পরার অভিযোগ আনার পর ঘটনাটি ঘটে। স্কুলের ছাত্রীরা স্কার্ফের নিচে ক্যাপ পরে না, তাদের চুলের কিছু অংশ দেখা য়ায়। এমন অভিযোগের জের ধরে চুল কেটে দেওয়া হয়। অধিকার গোষ্ঠীগুলো শিক্ষককে বরখাস্ত করার আহ্বান জানায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়েছে ও শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান হার্তো।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার বা জ্ঞান চর্চার জায়গা। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশ ও বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ধর্মচর্চাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে ধর্মকে চাপিয়ে দিতে গিয়ে এরা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, তাদের নাক-মুখ-চোখ কোনটাই দৃশ্যমান নয়। কালো কাপড়ে ঢাকা। আর এ নিয়ে নানাবিধ মন্তব্যেরও ঘনঘটা। সুশীল সমাজ এটাকে ঘোরতর অন্যায় হিসেবেই দেখছেন। কারণ আমরা জানি, অপরাধীরা সবসময় ছদ্মবেশ ধারণ করে। এই ছদ্মবেশ হতে পারে কস্টিউম পরিবর্তন আবার কেউবা বোরখা, গুপ্ত থেকেও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে একটা দেশকে ভালোভাবে পরিচালনার জন্য দেশের প্রত্যেকের সঠিক পরুচয় প্রদান জরুরি। এর মাধ্যমে দেশের মাঝে অরাজকতা কমে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে কিছু অপগন্ডদের সৃষ্টি হচ্ছে! যার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশের বদলে গোঁড়ামি পেয়ে বসেছে। সমাজের এমন পরিস্থিতি খুবই ভীতিকর।

দিনকে দিন আমরা সভ্য জাতিতে পরিণত হচ্ছি। কিন্তু সেই সভ্যতা কখনও বর্বরতা নয়। তবে বর্তমান সমাজে পুরুষতন্ত্রের যে দহরমমহরম চলছে তাতে করে সমাজে নারীরা যেন অস্পৃশ্য ফলে নারীদের লুকিয়ে রাখায় শ্রেয় জ্ঞান করে একশ্রেণির মানুষ। আর এর ফলে নারীর মগজেও গোঁড়ামি ঢুকিয়ে তাদের এমন বর্বর করে তুলছে।

মনে রাখা প্রয়োজন ধর্ম দেখানোর বিষয় না। মূলত ধর্মের আর্বিভাবই কল্যাণার্থে। একজন নারীকে লুকিয়ে রেখে তার পরিচয় শনাক্ত না করে দেশের কী মঙ্গল হতে পারে? বরং এর ফলে সমাজে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক নয়! তাই দেশের মাটিতে অন্য নাগরিকদের নিরাপত্তার সুবিধার্থে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। শুধু খাতা-কলমে নয় বরং বাস্তব প্রয়োগ জরুরি। নতুবা দিনকে দিন জাতি তলানিতে ঠেকবে!

সমাজের উন্নয়ন, মানবের উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ জরুরি। সেখানে নারীকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা বর্বরতার শামিল। নারীদের মগজ থেকেও এমন কদর্য, বিকৃত পুরুষতান্ত্রিক চেতনা লুপ্ত হোক। নারীরা মানুষ। কোনো বনের চিড়িয়া না যে, তাদের খাঁচায় বন্দি রাখতে হবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে সারাবিশ্বের এই অতি চাতুরি ও গোঁড়ামি বন্ধ করতে হবে। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবকে না বুঝতে পারলে একদিন এই নারীরা আবারও অতলে হারিয়ে যাবে। নারীর মুক্তি ঘটুক। পুরুষতান্ত্রিক বর্বর মনোভাবের বুকে পদাঘাত করে আপন আলোয় উদ্ভাসিত হোক।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ